kalerkantho

রবিবার । ১ কার্তিক ১৪২৮। ১৭ অক্টোবর ২০২১। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

মানবপাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস

এক যুগে ইউরোপে গেছে ৬২ হাজার বাংলাদেশি

সাগরপথে ইউরোপযাত্রায় শীর্ষে বাংলাদেশ
ঝুলে আছে ৫ হাজার মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩০ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মহামারির মধ্যেও অবৈধভাবে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করছেন লাখো মানুষ। আর এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। গত এক যুগে অবৈধভাবে ইউরোপে প্রবেশ করেছেন অন্তত ৬০ হাজার বাংলাদেশি। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত, যত মানুষ ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করেছেন, তাঁদের সাড়ে ১৪ শতাংশই বাংলাদেশি।

গতকাল বৃহস্পতিবার ‘মানবপাচার ও অনিয়মিত অভিবাসন : পরিস্থিতি বিশ্লেষণ, চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানায় বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রগ্রাম। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এভাবে যাঁরা ইউরোপে যাচ্ছেন, তাঁদের বেশির ভাগের বয়স ২৫ থেকে ৪০ বছর। ইউরোপের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা ফ্রন্টেক্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে এভাবে ৬০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি ইউরোপে প্রবেশ করেছেন। এভাবে ইউরোপে যেতে একেকজনের খরচ হয়েছে তিন থেকে ১৫ লাখ টাকা।

সম্প্রতি ভ্রমণ ভিসায় দুবাই গিয়ে সেখান থেকে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা বেশি দেখা গেছে।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নারী ও শিশু পাচার নিয়ে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের গবেষণায় দেখা গেছে, পাচারকারীরা সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে সংকটে থাকা পরিবারের শিশু-কিশোরীদের নিশানা বানাচ্ছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত যেসব মামলা হয়েছে, তাতে দেখা গেছে, প্রায় দুই হাজার নারী পাচারের শিকার হয়েছেন। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২০২০ সালে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমকালে উদ্ধারকৃত নারীর সংখ্যা ৩০৩।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক সচিব নাছিমা বেগম বলেন, ‘৯ বছরে মানবপাচারের ৩৬ মামলায় মাত্র ৭১ জনের সাজা হলো কেন? অপরাধীদের বিচার করতে হবে। মামলার বিচার বাড়াতে হবে।’

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. শহীদুল আলম বলেন, ‘প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। একইভাবে যাঁরা দায়িত্ব পালন করেন, সেই সরকারি কর্মকর্তা, পুলিশ—সবার মানবপাচার ও অভিবাসন আইনের বিষয়ে যথাযথ প্রশিক্ষণ দরকার।’

অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) মানবপাচার বিষয়ক সেলের বিশেষ পুলিশ সুপার সাইদুর রহমান বলেন, বিদেশে পাচারের ঘটনায় বেশির ভাগ সময় ভুক্তভোগীরা যথেষ্ট তথ্য দিতে চান না। আবার অনেক মামলার বাদী বা ভুক্তভোগীকেই পাওয়া যায় না। ভূমধ্যসাগর দিয়ে যাঁরা পাচারের শিকার, তাঁরা কোনো অভিযোগ করেন না।

অনুষ্ঠানে মানবপাচার ও অনিয়মিত অভিবাসন বিষয়ক পরিস্থিতি তুলে ধরেন ব্র্যাকের মাইগ্রেশন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান।



সাতদিনের সেরা