kalerkantho

সোমবার । ২ কার্তিক ১৪২৮। ১৮ অক্টোবর ২০২১। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

গ্রেপ্তার মামলা জরিমানা

কিছুতেই সড়কে কমছে না চাপ

ছয় দিনে প্রেপ্তার ৩০৫৬ জন, ৭৮ লাখ টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা এবং মুন্সীগঞ্জ ও শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি   

২৯ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে চলছে কঠোর বিধি-নিষেধ (লকডাউন)। এই বিধি-নিষেধে অতি প্রয়োজন ছাড়া মানুষকে ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করা হচ্ছে। অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়ার জন্য প্রতিদিনই অনেকে গ্রেপ্তার হচ্ছে। শত শত গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে। জরিমানাও গুনতে হয়েছে সড়কে বের হওয়া মানুষদের। তবু যেন সড়কে তাদের ‘প্রয়োজন’ কমছে না। রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ বাড়ছে প্রতিদিনই। সেই সঙ্গে মোটরসাইকেল, রিকশা তো আছেই। পুলিশের তল্লাশিচৌকিতে জিজ্ঞাসাবাদও চলছে।

গতকাল বুধবার ছিল ঈদ-পরবর্তী কঠোর বিধি-নিষেধের ষষ্ঠ দিন। এই ছয় দিনে শুধু রাজধানী ঢাকাতেই তিন হাজার ৫৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আর ভ্রাম্যমাণ আদালত এক হাজার ১৮১ জনকে ১০ লাখ ৯৪ হাজার ৯২৫ টাকা জরিমানা করেন। ছয় দিনে অপ্রয়োজনে বের হওয়ার গাড়ির সংখ্যাও কম নয়। এই সময়ে দুই হাজার ৮৩২টি গাড়ির নামে মামলা করেছে পুলিশ। এসব মামলার বিপরীতে ৬৭ লাখ ৪২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে কালের কণ্ঠের কথা হয়। তাঁরা বলছেন, সড়কে বের হচ্ছে, এমন মানুষদের মধ্যে ৯৫ শতাংশের বেশি প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হচ্ছে। আর যেসব গাড়ির নামে মামলা হচ্ছে, তা মোট চলাচল করা গাড়ির ৩ শতাংশও হবে না। সড়কে চলা মানুষের বলা কারণের মধ্যে কোনটা প্রয়োজন আর কোনটা অজুহাত, তা বিচার করাই মাঝেমধ্যে কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

বিধি-নিষেধের মধ্যে গতকাল তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে বেশি গাড়ি চলাচল করেছে রাজধানীর সড়কে। সকালে অফিসগামী মানুষের চাপে বিভিন্ন সিগন্যালে গাড়ির জট দেখা যায়। তল্লাশিচৌকিতেও পুলিশ সদস্যরা ছিলেন তৎপর। প্রায় প্রতিটি গাড়িকে থামিয়েই জিজ্ঞাসাবাদ করতে দেখা যায়। এতে তল্লাশি পয়েন্টগুলোতে গাড়ির জটলা তৈরি হয়। তবে উল্টো ছবি দেখা গেছে দুপুরবেলা। আজিমপুর, সায়েন্সল্যাব, কলাবাগান, মোহাম্মদপুর, আসাদগেট, বিজয় সরণি এলাকায় সকালে পুলিশের তল্লাশিচৌকিতে তোড়জোড় দেখা গেলেও দুপুরে পুলিশের কোনো সদস্য দেখা যায়নি। তবে দুপুরে বনানীতে পুলিশের কড়াকড়ি অবস্থান দেখা যায়।

গতকাল সকালে রাজধানীর মালিবাগ, শান্তিনগর, কাকরাইল, মগবাজার, রামপুরা, বাড্ডা এলাকার সড়কে প্রচুর পরিমাণ ব্যক্তিগত গাড়ি, খাদ্যসামগ্রী বহনকারী যানবাহন, মোটরসাইকেল, রিকশা চলাচল করতে দেখা গেছে। এসব সড়কে পুলিশের তল্লাশিচৌকিও ছিল। বাড্ডা এলাকার ট্রাফিক সার্জেন্ট আরিফুর রহমান বলেন, ‘গত কয়েক দিনের তুলনায় সড়কে যানবাহন বেড়েছে। যাদেরই থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, তারাই জরুরি কারণে বের হয়েছে বলছে। এর মধ্যে যাদের যুক্তির সঙ্গে প্রমাণ মিলছে না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

সকালে আজিমপুর ছাপরা মসজিদ ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কাঁচাবাজারের পাশে চায়ের দোকানগুলো খোলা রয়েছে। আগের দিনের তুলনায় কাঁচাবাজার, মাছ ও মুদি দোকানে লোকজনের চলাচল বেড়েছে। আজিমপুর চৌরাস্তায় সেনাবাহিনী, পুলিশ আর ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম দেখা গেছে।

প্রতিদিনের মতো গতকালও অফিসের জন্য বের হন আউয়াল হোসেন। অফিসের গাড়ির জন্য পলাশীতে অপেক্ষা করছিলেন। তিনি বলেন, ‘একটু একটু করে প্রতিদিনই সড়কে যান চলাচল বাড়ছে। মানুষের কাজও বেড়ে চলেছে। কত দিন তারা ঘরে থাকবে। যারা সরকারি চাকরি করে না তারা নিজেদের চাকরি নিয়েও ঝুঁকিতে আছে।’

এদিকে সড়কে যান চলাচল বাড়ার পাশাপাশি পাড়া-মহল্লার পরিস্থিতি যেন প্রায় স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। দিনের বেলায় বাজার-দোকানপাটে মানুষের চলাচল যেমন থাকে সন্ধ্যার পর তা আরো বেড়ে যায়। এলাকার মোড়ে মোড়ে চলে আড্ডা। বেশির ভাগ দোকানই অর্ধেক শাটার বন্ধ করে খোলা রাখে। মূল সড়কে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র‌্যাবের টহল থাকলেও এলাকার অলিগলিতে তা থাকে না।

বাংলাবাজার-শিমুলিয়া : দুই-তিন গুণ ভাড়ায় ঘাটে যাত্রীরা

সরকারঘোষিত ১৪ দিনের লকডাউন চলছে, কিন্তু ঈদের ছুটি শেষে গতকাল বুধবারও দেখা গেছে, পদ্মা তীরের মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ও মাদারীপুরের শিবচরের বাংলাবাজার নৌপথের ফেরিগুলোতে যাত্রীরা অবাধে পার হচ্ছে। দুই-তিন গুণ ভাড়া দিয়ে ঘাটে পৌঁছে রাজধানীর দিকে যাচ্ছে তারা। পুলিশের চেকপোস্ট তাদের কাছে কোনো বাধাই হয়নি।

কঠোর লকডাউনের মধ্যে গত কয়েক দিনে যাত্রী পারাপার ক্রমেই বেড়েছে। ফেরিতে যাত্রী ও ব্যক্তিগত গাড়ি পার হতে দেখা গেছে। স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি। যাত্রী আনোয়ার হোসেন জানান, খুলনা থেকে ইজি বাইকে এক হাজার ২০০ টাকা ভাড়ায় ঘাটে এসেছেন তিনি। অথচ এই ভাড়া ৪০০ টাকার মতো। ঘাট পার হয়ে রাজধানীতে যেতেও গুনতে হবে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ভাড়া।

বিআইডাব্লিউটিসির শিমুলিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. ফয়সাল জানান, শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে বর্তমানে আটটি ফেরি চলছে।



সাতদিনের সেরা