kalerkantho

সোমবার । ২ কার্তিক ১৪২৮। ১৮ অক্টোবর ২০২১। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

পুলিশ কর্তার সামনেই রাব্বিকে চুবিয়ে ডুবিয়ে দেন সোর্স শান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

২৯ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গাজীপুরের কালীগঞ্জে পুলিশ কর্মকর্তার সামনেই এক যুবককে পানিতে চুবিয়ে ডুবিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের সোর্স সাইদুল ইসলাম শান্তর বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন রাব্বি হাসান নামের ওই যুবক। গত মঙ্গলবার রাতে ঘটনাটি ঘটে উপজেলার বঙ্গবন্ধু বাজার এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে। গতকাল বুধবার ডুবুরিরা নদীতে দিনভর চেষ্টা চালিয়েও তাঁর সন্ধান পাননি। রাব্বির বাবার অভিযোগ, পুলিশ সোর্সের সহায়তায় তাঁর একমাত্র ছেলেকে ডুবিয়ে হত্যা করেছে।

নিখোঁজ রাব্বি হাসান (২১) তুমুলিয়া ইউনিয়নের টিউরি গ্রামের খোকন মিয়ার ছেলে। তিনি একটি কারখানায় কাজ করতেন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অভিযুক্ত পুলিশের সোর্স সাইদুল ইসলাম শান্ত (২২) ভাদার্ত্তী এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও নিখোঁজের ফুফাতো বোন ফারহানা খালেক মিলি বলেন, বঙ্গবন্ধু বাজারের নিচে শীতলক্ষ্যা নদীতে কয়েক দিন ধরে মালবাহী দুটি জাহাজ নোঙর করা ছিল। স্থানীয় কিশোর, যুবকসহ সব বয়সী মানুষ বিকেলে সেখানে ঘুরতে যেত। মঙ্গলবার রাতে রাব্বি, রিয়াদ, জিহাদ, সজীব—এই চার বন্ধু একটি জাহাজের ছাদে বসে মোবাইল ফোনে লুডু খেলছিল। তখন তারা ছাড়াও মাসুম (১৭), তায়েব (১৮), ভাদার্ত্তী এলাকার রনি (১৮) ও রাফিসহ (১৮) ১৫-২০ জন জাহাজ দুটিতে আড্ডা দিচ্ছিল। পুলিশের সোর্স সাইদুল ইসলাম শান্তর সঙ্গে রনির পূর্বশত্রুত ছিল। রাত ৯টার দিকে রনিকে ধরিয়ে দিতে কালীগঞ্জ থানার এসআই শহিদুল ইসলাম ও এএসআই আবদুস ছামাদকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান শান্ত। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন সোর্স ইকবাল, নাদিম ও রানা। দুই পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন সাদা পোশাকে। জাহাজে শান্ত ও রনির মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পুলিশ আসার খবরে অনেকে ছোটাছুটি করে পালিয়ে যায়। আর রনি ও ছাদে থাকা রাব্বি পানিতে ঝাঁপ দেন। শান্তও পানিতে ঝাঁপ দেন। রনিকে না পেয়ে শান্ত রাব্বিকে পানিতে চুবাতে থাকেন। শান্ত কাহিল হয়ে পড়লে পুলিশ কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম মাসুমকে পানিতে নামিয়ে শান্তকে ওপরে তুলে আনেন। নিখোঁজ হন রাব্বি।

খোকন মিয়া বলেন, দুই পুলিশ কর্মকর্তার সামনেই তাঁর ছেলে রাব্বিকে চুবিয়ে ডুবিয়ে দিয়েছেন সোর্স শান্ত। এ সময় পুলিশ টর্চলাইট ধরে রাখে। তারা শান্তকে নদী থেকে তুললেও রাব্বিকে উদ্ধার করেনি। এমনকি পরিবারকেও ঘটনা জানায়নি। রাতে ছেলেকে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে সকালে ঘটনা জানতে পারেন। পরে ডুবুরি খবর দেওয়া হয়। ডুবুরিরা দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়েও রাব্বির খোঁজ পাননি।



সাতদিনের সেরা