kalerkantho

শুক্রবার । ২ আশ্বিন ১৪২৮। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ৯ সফর ১৪৪৩

ওয়েবিনারে বক্তারা

মানবপাচার প্রতিরোধে সব পক্ষকে একত্রে কাজ করতে হবে

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২৯ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মানবপাচার প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে এক সঙ্গে কাজ করার ওপর জোর দিয়েছেন বিশিষ্টজনরা। গতকাল বুধবার এক ওয়েবিনারে তাঁরা বলেন, চলমান মহামারি এবং কভিড-১৯-এর সংক্রমণ কমাতে চলাচলের ওপর আরোপিত বিধি-নিষেধ মানবপাচারের ঝুঁকি আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং বাংলাদেশি অভিবাসীদের গমনাগমনে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। ফলে এ বছর বিশ্ব মানবপাচারবিরোধী দিবস বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

উল্লেখ্য, আগামীকাল শুক্রবার বিশ্ব মানবপাচারবিরোধী দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘ক্ষতিগ্রস্তদের কণ্ঠস্বর পথ দেখায়’ (ভিক্টিমস ভয়েজেস লিড দ্য ওয়ে), যা মানবপাচারের শিকার হয়ে ফিরে আসাদের ক্যাম্পেইনের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে এবং তাদের বক্তব্য শোনা এবং সেখান থেকে শিক্ষা গ্রহণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে গতকাল বুধবার বাংলাদেশ সরকার, বাংলাদেশ ইউনাইটেড নেশনস নেটওয়ার্ক অন মাইগ্রেশন (বিডিইউএনএনএম), সুধীসমাজ এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা এক ভার্চুয়াল ওয়েবিনারে যোগ দেন। বাংলাদেশ ইউনাইটেড নেশনস নেটওয়ার্ক অন মাইগ্রেশনের অধীনে কাউন্টার ট্রাফিকিং ইন পারসন টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপ (সিটিআইপিটিডাব্লিউজি) এই ওয়েবিনারের আয়োজন করে। ওয়েবিনারে মানবপাচারের শিকার হয়ে বেঁচে ফেরাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পাশাপাশি প্রতিবছর আনুমানিক সাত লাখ বাংলাদেশি বিদেশে অভিবাসনকালে যে ঝুঁকির সম্মুখীন হয়, তার ওপর আলোকপাত করা হয়।

ওয়েবিনারে বক্তারা মানবপাচারের বিরুদ্ধে লড়তে সরকার, বৈশ্বিক অংশীদার, বেসরকারি খাত এবং সুধীসমাজের প্রতিনিধিদের প্রতি জোরালো এবং অধিকারভিত্তিক পন্থা অবলম্বনের আহবান জানান, যাতে শোষণ প্রতিরোধ করা যায় এবং মানবপাচার সংগঠনের ক্ষেত্রসমূহ কমিয়ে আনা যায়।

পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, “মানবপাচার একটি মারাত্মক মানবাধিকার লঙ্ঘন। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করেছে এবং এই ভয়াবহ অপরাধের বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে পদক্ষেপ নিচ্ছে। অভিবাসীদের পাচার এবং চোরাচালানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সব অংশীজনের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।”

বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক মিয়া সেপ্পো বলেন, ‘কভিড-১৯ অভিবাসীদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে হাজির হচ্ছে। এই মহামারি কিশোর-কিশোরীসহ নারী-পুরুষ ও শিশুদের ওপর বিভিন্নভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। মানবপাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সবাইকে হাতে হাত রেখে এক হয়ে কাজ করতে হবে।’

বাংলাদেশে জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক নেটওয়ার্ক-বিডিইউএনএনএমের সমন্বয়ক এবং আইওএম বাংলাদেশের মিশনপ্রধান গিওরগি গিগাওরি বলেন, ‘মানবপাচার হলো এমন একটি অপরাধ, যা অভিবাসী শ্রমিকদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, হয়রানি, জোরপূর্বক শ্রম, জোর করে এবং অবৈধ বিবাহ, অবৈধ বাণিজ্য এবং জীবন হারানোর মতো ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। এটি বন্ধ করতে সরকার, উন্নয়ন অংশীদার, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো, সুধীসমাজ, বেসরকারি খাত এবং এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ব্যবস্থা নিতে হবে।’

মানবপাচারবিষয়ক জাতিসংঘের স্পেশাল র‌্যাপোর্টিয়ার সিউবহান মুলালি বলেন, ‘কভিড-১৯-এর প্রভাব মানবপাচারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। শিশুপাচার বৃদ্ধির ঝুঁকি মোকাবেলা, অনলাইনে শোষণ, অভিবাসী কর্মীদের শোষণ এবং যৌন শোষণের বিশেষ ঝুঁকির বিরুদ্ধে খুব দ্রুত ভূমিকা নিতে হবে।’



সাতদিনের সেরা