kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

তড়িঘড়ি করে নতুন আহ্বায়ক কমিটি, পাকুন্দিয়ায় বিক্ষোভ

এমপি নূর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে জেলা আওয়ামী লীগ

শফিক আদনান ও খন্দকার আছাদুজ্জামান, পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ)   

২৭ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ বিশেষ বর্ধিত সভা হওয়ার কথা ছিল ২৭ জুন, কিন্তু করোনার কারণে তা স্থগিত করা হয়। আগেও একবার সভা ডেকে একই কারণে বাতিল করা হয়। এ অবস্থায় ঈদের পরদিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা ডাকা হয়। হঠাৎ ডাকা এই সভায় কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সোহরাব উদ্দিনকে আহ্বায়ক করে পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের এক সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

তড়িঘড়ি করে এ ধরনের আহ্বায়ক কমিটি গঠনকে অস্বাভাবিক প্রক্রিয়া বলে মনে করছেন ওই আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ। অনেকের অভিযোগ, এমপি নূর মোহাম্মদকে টার্গেট করে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাডভোকেট সোহরাব উদ্দিনকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের অনেকেও ক্ষুব্ধ। এভাবে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের প্রতিবাদে তাঁরা শুক্রবার থেকে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ, সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেকোনো সময় দুই পক্ষে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গতকাল সোমবার স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধারাও তাঁদের কার্যালয়ের সামনে নবগঠিত এই কমিটি বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে সাবেক উপজেলা কমান্ডার মো. মিছবাহ উদ্দিন বলেন, ‘অ্যাডভোকেট সোহরাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে বিতর্কিত ভূমিকার অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের বিতর্কিত ব্যক্তিকে আহ্বায়ক করাটা আমরা মেনে নিতে পারি না।’

দলীয় সূত্র জানায়, পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ কমিটি হয় ১৯৯৪ সালে। এরপর দুই যুগেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। এর মধ্যে ২০০০ সালের ১৮ আগস্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। আহ্বায়ক করা হয় এ এফ এম ওবায়দুল্লাহকে। কমিটি গঠনে ব্যর্থতার দায় নিয়ে গেল বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর তিনি পদত্যাগ করেন। পরে দুই যুগ্ম আহ্বায়ক মোতায়েম স্বপন ও রফিকুল ইসলাম রেনু দল চালাচ্ছিলেন। তাঁদের মধ্যে মোতায়েম স্বপন সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদের অনুসারী আর দ্বিতীয়জন সংসদ সদস্যের বিরোধী।

সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদের বাড়ি কটিয়াদীতে। তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে মনোনয়ন না পেয়ে অ্যাডভোকেট সোহরাব উদ্দিন কার্যত দলে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় কটিয়াদীতে সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কমিটি করে দলকে চাঙ্গা করে তোলেন সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ। সম্প্রতি তিনি পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কমিটি গঠনের কাজ শুরু করেন। একটি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেন তিনি। তবে পাকুন্দিয়ায় দল গোছাতে গিয়ে জেলা কমিটির বাধার মুখে পড়েন সংসদ

সদস্য নূর মোহাম্মদ। জানা গেছে, কিছুদিন আগে জেলা কমিটি পাকুন্দিয়ায় সম্মেলন বা দলীয় কার্যক্রম না চালাতে চিঠি দেয় সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদকে। এরপর সম্প্রতি কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম পাকুন্দিয়ায় সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশনা পাঠান। একই সঙ্গে এমপির উপস্থিতিতে করা সাতটি ইউনিয়ন কমিটি বিলুপ্ত করেন।

পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মোতায়েম হোসেন স্বপন জানান, অ্যাডভোকেট সোহরাব উদ্দিন দীর্ঘদিনেও দল গোছাতে পারেননি। এমনকি দলীয় নেতাকর্মীদের হয়রানি করেছেন। কাজেই তাঁকে আহ্বায়ক করা ঠিক হয়নি।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান শাহজাহান বলেন, জেলা কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে সোহরাব উদ্দিনকে আহ্বায়ক করেছে। তিনি খুব অল্প সময়ের মধ্যে একটি ছোটখাটো আহ্বায়ক কমিটি করে সম্মেলনগুলো করবেন—এমন নির্দেশনা তাঁকে দেওয়া হয়েছে। আর তাঁকে দল পরিচালনার ক্ষেত্রে স্থানীয় এমপির সহযোগিতা ও পরামর্শ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

এমপি নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘জেলা কমিটি যা ভালো মনে করেছে তা করেছে। তবে যেভাবে সিদ্ধান্তটি এলো তা আমার কাছে খুবই অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। তাঁর আগের কর্মকাণ্ডে নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ। আর আমার বিরোধিতাকারীকে আহ্বায়ক করা হলে কাজকর্ম তো ব্যাহত হবেই।’

এ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে অ্যাডভোকেট সোহরাব উদ্দিনকে গতকাল বিকেলে বেশ কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে মোবাইল ফোনে খুদে বার্তা পাঠালেও তিনি সাড়া দেননি।



সাতদিনের সেরা