kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ আশ্বিন ১৪২৮। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৩ সফর ১৪৪৩

লকডাউন

চলাফেরায় কড়াকড়ি ক্রমে শিথিল হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চলাফেরায় কড়াকড়ি ক্রমে শিথিল হচ্ছে

দিন যত যাচ্ছে, ততই অঘোষিতভাবে শিথিল হয়ে পড়ছে ‘কঠোর লকডাউন’। রাজধানীর চিরচেনা যানজটও দেখা যাচ্ছে কোথাও কোথাও। গতকাল মিরপুর রোডের সিটি কলেজের সামনে। ছবি : কালের কণ্ঠ

কভিড মহামারি রোধে সরকারঘোষিত কঠোর নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগে ঢিলেঢালা ভাব শুরু হয়েছে রাজধানী ঢাকায়। সকালের দিকে কিছুটা কড়াকড়ি থাকলেও দ্বিপ্রহর শুরু না হতেই শিথিল করা হয় যানবাহন ও মানুষ চলাচল নিয়ন্ত্রণ। গত রবিবার থেকে ব্যাংক-বীমাসহ বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান খোলার কারণে নগরের রাস্তায় মানুষের চলাচলও বেড়েছে অনেক।

গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সড়কে প্রশাসনের তৎপরতা গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে দুপুর থেকেই ঢাকার বিভিন্ন সড়কে অবাধে চলাচল করেছে গাড়ি, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও রিকশা।

দুপুর ১২টায় মোহাম্মদপুরে আসাদ এভিনিউ দিয়ে বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত কোথাও প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর তৎপরতা চোখে পড়েনি। মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে বসিলা রোড দিয়ে বসিলা ব্রিজ পর্যন্ত কোথাও ছিল না পুলিশের ব্যারিকেড। এর আগে এই এলাকায় পুলিশের একাধিক ব্যারিকেড চোখে পড়ত। বসিলা ব্রিজ থেকে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড হয়ে জিগাতলা পর্যন্ত রাস্তায় শুধু ধানমণ্ডিতে আবাহনী মাঠের কাছে একটি চেকপোস্ট দেখা যায়। সেখানে তিনজন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁরা মাঝেমধ্যে মোটরসাইকেল আরোহীদের থামিয়ে বাইরে বের হওয়ার কারণ জানতে চাচ্ছিলেন।

দুপুর ১টার দিকে জিগাতলা থেকে শুরু করে সায়েন্স ল্যাবরেটরি হয়ে শাহবাগ দিয়ে মৎস্য ভবন পর্যন্ত এলাকায় বিপুলসংখ্যক গাড়ি ও রিকশা চলাচল করতে দেখা যায়। কিন্তু এই এলাকায় কোনো চেকপোস্টে কাউকে দায়িত্বরত অবস্থায় দেখা যায়নি। মৎস্য ভবন থেকে কাকরাইল হয়ে মগবাজার উড়াল সেতু দিয়ে সাতরাস্তা পর্যন্ত সড়কেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। সাতরাস্তা থেকে বনানীর কাকলি রেলস্টেশন পর্যন্ত এত দিন একাধিক চেকপোস্ট চোখে পড়ত। কাকলির চেকপোস্টে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে বেশ কড়াকড়িও ছিল। গতকাল দুপুরে দেখা যায়, কাকলিতে পুলিশের ব্যারিকেডটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপের পর থেকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ৩০০ ফুট রাস্তায় একটি চেকপোস্ট থেকে ঢাকায় যানবাহন প্রবেশের বিষয়টি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হতো। গতকাল দুপুর ২টার দিকে এই চেকপোস্ট দিয়ে বিনা বাধায় যানবাহন প্রবেশ করতে দেখা গেছে।

কঠোর নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগে এমন ঢিলেঢালার কারণে গতকাল ঢাকার রাস্তায় ছিল বিপুলসংখ্যক মানুষ ও যানবাহনের উপস্থিতি। তবে গণপরিবহন না থাকায় অফিসের উদ্দেশে বের হওয়া অনেকেই ভোগান্তির শিকার হন। রিকশাযোগে গন্তব্যে পৌঁছতে গুনতে হয় বহুগুণ বেশি ভাড়া। অনলাইনভিত্তিক খাবার বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের কর্মী আবুল কালাম আজাদ কালের কণ্ঠকে জানালেন, পল্টন থেকে ধানমণ্ডিতে অফিসে আসতে রিকশায় ৪০০ টাকা ভাড়া দিতে হয়েছে।

জানা গেছে, ঈদের ছুটি শেষ হওয়ার পর রবিবার থেকে ব্যাংক-বীমাসহ বেশ কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অফিস শুরু হয়েছে। এগুলোর বেশির ভাগেরই নিজস্ব পরিবহনে সব কর্মী আনা-নেওয়ার ব্যবস্থা নেই। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা কর্মস্থলে যাতায়াতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বেশি।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার ইফতেখারুল ইসলাম জানান, গতকাল নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বাইরে বের হওয়ার কারণে ৫৬৬ জনকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপি। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ১৬৪ জনকে জরিমানা করা হয়। আর ডিএমপি ট্রাফিক ৪৩৩টি গাড়িকে জরিমানা করেছে।

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, বিধি-নিষেধ অমান্য করে গতকাল শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌ রুটে ফেরিতে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হয়েছে। ওপার (বাংলাবাজার) থেকে ফেরিতে ঢাকামুখী যাত্রী ও যানবাহনের চাপ ছিল। তবে শিমুলিয়া ঘাট থেকে লঞ্চ ও বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

সরেজমিন শিমুলিয়া ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই প্রতিটি ফেরিতে যানবাহনের সঙ্গে অসংখ্য যাত্রী পারাপার হচ্ছে। বাংলাবাজার থেকে ঢাকামুখী যাত্রীর চাপ চোখে পড়ার মতো। ঢাকামুখী এসব মানুষ ঘাটে এসে বাস না পেয়ে বিকল্প উপায়ে অটোরিকশা, প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাসে করে গন্তব্যে ফিরছে।

বিআইডাব্লিউটিসি শিমুলিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. ফয়সাল জানান, এই নৌ রুটে বর্তমানে রো রো, কেটাইপ ও মিডিয়াম মিলে মোট আটটি ফেরি চলাচল করছে। বাংলাবাজার থেকে যেসব ফেরি আসছে সেগুলোতে যাত্রী ও ছোট যানবাহনের চাপ রয়েছে। তবে সকাল ১০টার পর যাত্রীর সংখ্যা কমে  যায়।

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি জানান, বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌ রুটে ঢাকামুখী যাত্রীর চাপ অব্যাহত রয়েছে। গাদাগাদি করে যাত্রীরা পদ্মা পাড়ি দিচ্ছে। মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। যাত্রীরা কয়েকগুণ ভাড়ায় দুই ও তিন চাক্কার যানবাহনে দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলো থেকে ঘাটে পৌঁছাচ্ছে ও ঘাট থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে ছুটছে।



সাতদিনের সেরা