kalerkantho

শনিবার । ৩ আশ্বিন ১৪২৮। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১০ সফর ১৪৪৩

জনগণের পাশে দাঁড়ানোয় দুর্বৃত্তদের ‘চক্ষুশূল’

রেজোয়ান বিশ্বাস   

২৬ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জনগণের পাশে দাঁড়ানোয় দুর্বৃত্তদের ‘চক্ষুশূল’

অন্যের বিপদে-আপদে এগিয়ে যেতেন। সাহায্য-সহযোগিতা করতেন সাধ্যমতো। এ কারণে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে তাঁর প্রচারণায় জনসমর্থন ছিল ব্যাপক। তবে জনপ্রতিনিধি হয়ে এলাকাবাসীর পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ পেলেন না কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহ ইউনিয়নের নাসির উদ্দিন বিশ্বাস (৪৯)। গত ১৪ জুলাই রাতে ইউনিয়নের সৈয়দ মাসউদ রুমি সেতুর ওপরে তাঁর লাশ পায় পুলিশ।

প্রতিপক্ষের লোকজন হাতুড়িপেটা করে নাসিরকে হত্যা করেছে বলে পরিবারের অভিযোগ। যদিও দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে ‘গুজব’ ছড়ানো হয়। ঘটনার পর তাঁর মোটরসাইকেলটি অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে। নিহত নাসির শিলাইদহ ইউনিয়নের নাউতি গ্রামের ইয়াকুব আলীর ছেলে।

যে সৈয়দ মাসউদ রুমি সেতুর ওপর থেকে নাসিরের লাশ উদ্ধার করা হয়, সেই সেতুসংলগ্ন পদ্মা নদী চরের বালুর ইজারা নিয়ে রয়েছে দীর্ঘদিনের কোন্দল। স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে বিভিন্ন সন্ত্রাসী বাহিনীর যোগসূত্র রয়েছে এখানে।

নিহত নাসিরের ছোট ভাই বশির উদ্দিন বিশ্বাস কালের কণ্ঠকে বলেন, তাঁর ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। চলতি মাসে শিলাইদহ খেয়াঘাট ও শিলাইদহ বালুমহাল ইজারা নেন তিনি। এই দুটি বালুমহাল একজন প্রভাবশালী ১৮ বছর দখল করে রেখেছিলেন। কেউ তাঁর সন্ত্রাসী বাহিনীর ভয়ে ইজারা নিতে পারত না। এবার তাঁর ভাই সাহস করে ইজারা নিয়েছিলেন। 

বশির আরো বলেন, সামনে শিলাইদহ ইউপি নির্বাচন। চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এলাকায় গণসংযোগ চালিয়ে আসছিলেন তাঁর ভাই। তাঁর পক্ষে এলাকাবাসীর ব্যাপক সমর্থন ছিল। এ কারণে প্রতিপক্ষের চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিরোধ চলছিল। এসব কারণে নাসিরকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। শিলাইদহে এনএসবি নামে একটি ইটভাটা রয়েছে নাসিরের। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কুষ্টিয়া শহরে ভাড়া বাসায় থাকতেন। সেখান থেকেই মোটরসাইকেলে করে এলাকায় যাতায়াত করতেন। ঘটনার দিন বাসায় ফেরার পথেই ‘খুন’ হন তিনি।

ঘটনার সাত দিন পর কুমারখালী থানায় হত্যা মামলা করেছেন বশির। এতে মো. আফজাল হোসেন, মোক্তার হোসেন, রাসেল হোসেন, হাবিবুর রহমান, আলম গাজী, হাবিবুর রহমান ইদ্রিসসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরো কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

কুমারখালী থানার ওসি কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল সড়ক দুর্ঘটনায় নাসিরের মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তবে পরিবারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে হত্যা মামলা করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।

প্রত্যক্ষদর্শী এক নারীর বরাত দিয়ে স্বজনদের একজন বলেন, ওই রাতে সেতুর ওপর এক নারীও ছিলেন। তিনি কিছুটা অপ্রকৃতিস্থ। নাসিরকে হত্যার সময় তিনি এগিয়ে গেলে দুর্বৃত্তরা তাঁকে ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয়। ওই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁরা (স্বজন) জানতে পারেন, নাসিরকে হত্যা করা হয়েছে। ওই নারীর ভাষ্য, একদল মুখোশধারী নাসিরের পথরোধ করে হাতুড়ি দিয়ে তাঁর মাথার চাঁদিতে প্রথমে আঘাত করে। এরপর তাঁর বুকে ও কানের পাশে আঘাত করে। তিনি রাস্তার লুটিয়ে পড়েন। এরপর দুর্বৃত্তরা চলে যায়।



সাতদিনের সেরা