kalerkantho

রবিবার । ৪ আশ্বিন ১৪২৮। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১১ সফর ১৪৪৩

গণমানুষের শিল্পীকে শ্রদ্ধা ভালোবাসায় বিদায়

‘গণমানুষের সংগীত পরিবেশনে যে অনন্য অবদান রেখেছেন, এর জন্য তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গণমানুষের শিল্পীকে শ্রদ্ধা ভালোবাসায় বিদায়

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গতকাল সংগীতশিল্পী ফকির আলমগীরের কফিনে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘মানুষের মাঝে বসবাস করি, মানুষে মিলেছে ঠাঁই। মানুষ আমার সুজন-স্বজন, মানুষের গান গাই।’ খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষের দুঃখ-হাহাকার আর সংগ্রামের আকাঙ্ক্ষাকে গানের মধ্যে এভাবেই ধারণ করেছেন বাংলা গণসংগীতের প্রাণপুরুষ ফকির আলমগীর।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ফকির আলমগীরের প্রতি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গতকাল শনিবার আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা জানানো হয়। করোনা মহামারি সংক্রমণের আতঙ্ক এবং শ্রাবণের বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নিয়েছে তাঁর শেষযাত্রায়। ‘কঠোর বিধি-নিষেধের’ মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নাগরিক সমাজ তাঁকে শ্রদ্ধা জানায়।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ফকির আলমগীর (৭১) গত শুক্রবার রাত ১০টা ৫৬ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

হাসপাতালের হিমঘরে সংরক্ষিত মরদেহ গতকাল সকালে রাজধানীর খিলগাঁওয়ের পল্লীমা সংসদ প্রাঙ্গণে নেওয়া হয়। সেখানে জানাজার পর ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হয় একাত্তরের এই কণ্ঠযোদ্ধাকে। এরপর জাতীয় পতাকায় আচ্ছাদিত কফিন নেওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। এই শহীদ মিনারে বহুবার গর্জে উঠেছে তাঁর প্রতিবাদী কণ্ঠ। বরেণ্য কোনো ব্যক্তির নাগরিক শ্রদ্ধার অনুষ্ঠানে থাকতেন উদ্যোগী ভূমিকায় তিনি। সেই শহীদ মিনারেই নিথর দেহে এলেন গণসংগীতের এই ধ্রুবতারা। সেখানে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট নাগরিক শ্রদ্ধাঞ্জলি আয়োজন করে।

শ্রদ্ধাঞ্জলি পর্বে প্রথমে আওয়ামী লীগের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি ও দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া। আরো শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী, পপসংগীত শিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদ প্রমুখ।

এ ছাড়া সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, গণসংগীত সমন্বয় পরিষদ, পথনাটক পরিষদ, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, কৃষক লীগ, ছাত্রলীগ, দনিয়া সাংস্কৃতিক জোট, মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়, স্পন্দন, আদি ঢাকা সাংস্কৃতিক জোট, যুব ইউনিয়ন, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর, জাসদ, ছাত্রমৈত্রী, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন শ্রদ্ধা জানায় ফকির আলমগীরের প্রতি।

এ সময় ফকির আলমগীরের স্ত্রী সুরাইয়া আলমগীর বলেন, ‘তিনি যে বিপ্লবী কণ্ঠের গানগুলো লিখে গেছেন, গণসংগীতের প্রজ্বলিত মশাল রেখে গেছেন, আগামী প্রজন্ম যেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে গানগুলোকে ছড়িয়ে দেয়।’

ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, ‘বাংলাদেশে গণসংগীতের কথা বলতে গেলে আসবে ফকির আলমগীরের গান। গণসংগীত বলতে যেটা বোঝায়, সেই জায়গায় তেমন কেউ কাজ করেনি; কিন্তু ও করেছে। ওর মৃত্যুতে গণসংগীতের জায়গাটা শূন্য হয়ে গেল।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ফকির আলমগীরকে স্মরণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আখতারুজ্জামান বলেন, ‘গণমানুষের সংগীত পরিবেশনে যে অনন্য অবদান রেখেছেন, এর জন্য তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।’

শ্রদ্ধা জ্ঞাপন শেষে বাদ জোহর খিলগাঁও মাটির মসজিদে আবারও জানাজা অনুষ্ঠিত হয় তাঁর। এরপর তাঁকে খিলগাঁওয়ের তালতলা কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।