kalerkantho

রবিবার । ৪ আশ্বিন ১৪২৮। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১১ সফর ১৪৪৩

লাল-সবুজ খামে সবচেয়ে বড় পতাকা

গিনেস রেকর্ডসের স্বীকৃতির অপেক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লাল-সবুজ খামে সবচেয়ে বড় পতাকা

হাতে বানানো লাল-সবুজ খাম দিয়ে তৈরি বাংলাদেশের এই জাতীয় পতাকার আয়তন ২৪০ বর্গমিটার। রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের বলরুমে মেঝেতে প্রদর্শন করা হচ্ছে এই পতাকা। গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

একটির পর একটি খাম সাজিয়ে বানানো হয়েছে পতাকা, যাকে বলা হয় ইনভেলপ মোজাইক ফ্ল্যাগ। হাতে বানানো লাল-সবুজ খাম দিয়ে তৈরি বাংলাদেশের এই জাতীয় পতাকার আয়তন ২৪০ বর্গমিটার।

এটি সবচেয়ে বড় আকৃতির পতাকা হিসেবে নতুন রেকর্ড করেছে জানিয়ে এর উদ্যোক্তা বলেছেন, এখন শুধু গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির অপেক্ষা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস বুকে এটির অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে গতকাল শনিবার।

ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের বলরুমে মেঝেতে প্রদর্শন করা হচ্ছে এই পতাকা। পতাকাটির দৈর্ঘ্য ২০ মিটার ও প্রস্থ ১২ মিটার। এটি তৈরি করতে লেগেছে ১৬ হাজার খাম। এর মধ্যে ১০ হাজারের বেশি সবুজ খাম ও পাঁচ হাজারের বেশি লাল খাম। এটি তৈরি করতে সময় লেগেছে পাঁচ ঘণ্টারও বেশি। ‘আগ্রহ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছাসেবীদের সহযোগিতায় এটি তৈরি করা হয়েছে। এই উদ্যোগের শিরোনাম করা হয়েছে ‘দুর্নিবার বাংলাদেশ’।

বিশ্বরেকর্ডের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু উপলক্ষে প্রদর্শনীকেন্দ্রে গতকাল বিকেলে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে পতাকার উদ্যোক্তা কারুশিল্পী সাইমন ইমরান হায়দার বলেন, বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের একটি ইতিবাচক ইমেজ তৈরির জন্য তিনি  উদ্যোগটি নিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন থেকে প্রেরণা নিয়েছেন। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে অন্তর্ভুক্তির সব প্রক্রিয়া এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। রেকর্ডটি হয়েই গেছে, এখন আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির জন্য অপেক্ষা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল ও ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন। আরো বক্তব্য দেন ‘আগ্রহ’-এর শারমিনা জামান। সঞ্চালক ছিলেন সামদানী ডন।

প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান বলেন, করোনা মহামারির কারণে পৃথিবীর গতি থমকে গেছে। এর পরও বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে অপ্রতিরোধ্য গতিতে। তরুণরাই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এ রকম ছোট ছোট উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ আরো এগিয়ে যাবে।

অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন অনলাইনে যুক্ত হয়ে বলেন, ‘প্রতিটি মানুষ নিজস্ব মাধ্যমে দেশপ্রেমের প্রকাশ ঘটায়। পতাকা তৈরির উদ্যোগটি অভিনব। এর মাধ্যমে কেবল রেকর্ড বুকে স্থান পাওয়াই বড় কথা নয়, মানুষের মধ্যে দেশপ্রেমটা ছড়িয়ে দিতে পারলে সেটাই হবে বড় কথা।’

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের ‘লার্জেস্ট ইনভেলপ মোজাইক (ফ্ল্যাগ)’ বা ‘খাম দিয়ে তৈরি সর্ববৃহৎ পতাকা’ বিভাগে ২০১৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর খাম দিয়ে ৬০ বর্গমিটারের বাংলাদেশের পতাকা বানিয়ে রেকর্ড করেছিলেন ঢাকার তরুণ ইমরান শরীফ। এ ব্যাপারে সাইমন ইমরান হায়দার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা সর্ববৃহৎ আকৃতির পতাকা তৈরি করছি, যাতে রেকর্ডটি অনেক দিন ধরে টিকে থাকে।’