kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৯ ডিসেম্বর ২০২১। ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

ঈদের আমেজ নেই শপিং মলে

শেষ মুহূর্তের কেনাবেচায়ও খুশি নন বিক্রেতারা

রোকন মাহমুদ   

২০ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দুই সপ্তাহের লকডাউন শেষ হয় গত বৃহস্পতিবার। ওই সময় শপিং মল, দোকানপাট খুললেও ক্রেতা-দর্শনার্থী ছিল কম। স্বাভাবিক সময়ে ঈদের পাঁচ দিন আগে যেমন ভিড় থাকে, তেমনটা দেখা যায়নি রাজধানীর নিউ মার্কেট, চাঁদনী চক, মৌচাক, বায়তুল মোকাররম, রাজধানী সুপারমার্কেটসহ কোনো অভিজাত মার্কেটেই। বিক্রেতারা সে সময় আশায় ছিলেন, ঈদের দু-এক দিন আগে ভালো বেচাবিক্রি হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঈদের মাত্র দুই দিন বাকি থাকতেও আশানুরূপ ক্রেতার দেখা পাচ্ছেন না তাঁরা। যে স্বল্পসংখ্যক ক্রেতা আসছে তারাও আবার লকডাউনের আগে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেই আসছে। তাদের কেনাকাটায় ঈদ ঘিরে তেমন আয়োজন নেই। তাই রাজধানীর অনেক নামিদামি বিপণিবিতানেও ঈদের আমেজ নেই। 

বিক্রেতারা বলছেন, ঈদুল আজহার কেনাকাটার মূল আকর্ষণ মূলত কোরবানির পশু কেনা ঘিরে। এই ঈদে পোশাকসহ অন্যান্য সামগ্রীর চাহিদা কম থাকলেও বছরের অন্যান্য সময়ের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বাড়ে। কিন্তু এবার শেষ মুহূর্তে দোকানপাট খুলে দিলেও কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা নেই মার্কেটগুলোতে। বিক্রেতারা গত দুই কোরবানির ঈদ থেকেই সুবিধা করতে পারছেন না বলে জানান। ঈদের পর লকডাউন দেওয়ার কথা থাকায় গ্রামে চলে গেছে বেশির ভাগ মানুষ। তার ওপর করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে অনেকে মার্কেটে আসছে না।

গতকাল সোমবার রাজধানীর নিউ মার্কেট, বায়তুল মোকাররম, বাড্ডা, মালিবাগ, মৌচাক, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকা ও মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, স্যানিটারি পণ্যের দোকান থেকে শুরু করে ঘড়ি, চশমা, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিকস পণ্য, ফার্নিচার, রেডিমেড জামাকাপড়, জুতাসহ সব ধরনের দোকানপাটই খোলা রয়েছে। মূল সড়কের পাশের দোকানগুলো ছাড়াও শপিং মলগুলোর ভেতরেও সব ধরনের দোকান খোলা রেখেছেন ব্যবসায়ীরা।

গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নিউ মার্কেটে গিয়ে দেখা যায়, অনেক দোকান ক্রেতাশূন্য। এ সময় কিছু দোকানে তিন-চারজন করে নারী ক্রেতা দেখা গেছে। তারা ঘুরে ঘুরে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দেখছে। পরিবার নিয়ে কেনাকাটা করতে এসেছেন এমন লোকের সংখ্যা কম।

আজিমপুর থেকে আসা ক্রেতা লায়লা জানান, লকডাউনের আগেই কিছু কাপড়চোপড় কেনার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু মার্কেট বন্ধ থাকায় কেনা হয়নি।

কথা হয় নিউ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি দেওয়ান আমিনুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি জানান, যদিও কোরবানির ঈদের মার্কেটগুলোতে ক্রেতা তুলনামূলক কম থাকে, এর পরও স্বাভাবিক সময়গুলোতে বেশ ভালোই বেচা-বিক্রি হতো। ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ত এ বেচাকেনা। কিন্তু এবার সেই ব্যবসার কিছুই হলো না। কয়েক দিন ধরে মার্কেট খোলা হলেও ক্রেতা খুব একটা নেই বলে খেদ ঝাড়েন তিনি।

নিউ মার্কেটের মতো একই চিত্র আশপাশের চাঁদনী চক, গাউসিয়া, মালিবাগ মৌচাক মার্কেট, বায়তুল মোকাররম ও বাড্ডার সুবাস্তুসহ সব শপিং মলেই। মিরপুর ১০, ২, ১ ও ১২ নম্বরসহ বেশ কয়েকটি এলাকার শপিংমলগুলোতে ভিড় নেই একেবারেই। কিছু দোকানে ক্রেতা থাকলেও বেশির ভাগ দোকানই ছিল ফাঁকা।

মিরপুর ১২ নম্বরে আড়ংয়ের বিক্রয়কর্মী সোহাম বলেন, ‘ঈদে আড়ংয়ে বাড়তি চাপ থাকে। এবার সেটা নেই। যারা আসছে তারা ঈদের কেনাকাটা নয়, রেগুলার কেনাকাটা করছে।’

মিরপুর ১০ নম্বরে ফাহাদ কমপ্লেক্সের ব্যাগ বিক্রেতা রাশেদুল বলেন, বিক্রি খুব একটা ভালো না। সাধারণ সময়ের মতো বিক্রি হচ্ছে না। দোকানভাড়া, কর্মচারীদের বেতন দেওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে।

বায়তুল মোকাররম মার্কেটের সানন্দা জুয়েলার্সের মালিক রঞ্জিত ঘোষ জানান, প্রতি ঈদের আগেই কিছু বাড়তি বেচাকেনা হয়। এই আশায় দোকান খুলেছি। প্রথম দিকে বেচাবিক্রি একেবারেই ছিল না। আশা ছিল ঈদের আগের দু-এক দিন হবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি।

তবে শপিং মলগুলোর তুলনায় ফুটপাতের দোকানগুলোতে ভিড় দেখা গেছে বেশি। ফুটপাতের দোকানগুলো আগের মতোই বসতে দেখা গেছে। এসব ফুটপাতের দোকান থেকে স্বল্পমূল্যের জামাকাপড় কিনতে দেখা গেছে অনেক মানুষকে। তবে ফুটপাতের বিক্রিতেও বাগড়া দেয় বৃষ্টি। বৃষ্টির কারণে অনেকে দোকান খুলেও আবার বন্ধ করে চলে যান।



সাতদিনের সেরা