kalerkantho

রবিবার । ১ কার্তিক ১৪২৮। ১৭ অক্টোবর ২০২১। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

বার্ড ফ্লুতে উজাড় কাস্তেচরা

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

২০ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বার্ড ফ্লুতে উজাড় কাস্তেচরা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুরের চড়ই বিলে বিলুপ্তপ্রায় খয়রা কাস্তেচরা। সৌজন্য : অনিক মাহমুদ ইমন

খয়রা কাস্তেচরা। অনিন্দ্য সুন্দর পাখি। এই পাখি পৃথিবী থেকে বিলুপ্তির যেসব কারণ দেখা যাচ্ছে, এর মধ্যে একটি এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা বা বার্ড ফ্লু রোগ।

গত ২১ ফেব্রুয়ারি এই পাখি দেখা গেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুরের চড়ই বিলে। বিলুপ্তপ্রায় খয়রা কাস্তেচরার (Glossy Ibis) ছবি তুলেছেন সৌখিন আলোচিত্রী অনিক মাহমুদ ইমন। সেই ছবি সম্প্রতি কালের কণ্ঠকেও তিনি সরবরাহ করেছেন। ছবিতে যেমন দেখতে, বাস্তবেও তেমনি অপরূপ সৌন্দর্যের অধিকারী এই পাখিটি।

পাখি বিশেষজ্ঞ আলম শাহীন তাঁর একটি লেখায় উল্লেখ করেন, বিরল পরিযায়ী পাখি। দেশে কালেভদ্রে দেখা মেলে। প্রজাতির বিস্তৃতি উত্তর-দক্ষিণ-মধ্য আমেরিকা, দক্ষিণ ইউরোপ, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ও এশিয়া পর্যন্ত। বাংলাদেশে প্রচণ্ড শীতে দেখা যাওয়ার নজির রয়েছে। তবে বাংলাদেশে আসার ধারাবাহিকতা রক্ষা করে না এরা। আকৃতিতে বেশ বড়সড়। দেখতেও চমৎকার। ভারিক্কি চলন-বলন। স্বভাবে শান্ত। কণ্ঠস্বর কর্কশ।

সাধারণত উপকূলীয় অঞ্চলের মিঠা পানির অগভীর জলাশয়ে কিংবা মোহনাতে বিচরণ করে। বিশেষ করে জলজ উদ্ভিদ অথবা কৃষিজমিতে একাকী বা জোড়ায় জোড়ায় ঘুরে বেড়ায়। ঘন উদ্ভিদ সমৃদ্ধ জলাশয় এড়িয়ে চলে। স্যাঁতসেঁতে তৃণভূমিতেও শিকার খোঁজে। শিকার খুঁজতে গিয়ে হাঁটু জলের বেশি নামে না। এরা ঝাঁক বেঁধেও বিচরণ করে। রাতে অন্য সব প্রজাতির সঙ্গে একই গাছে বিশ্রাম নেয় ঝাঁক বেঁধে। বিশ্বে এদের অবস্থান তত ভালো নয়। বিশেষ করে কৃষিজমিতে অধিক কীটনাশকের ব্যবহার এবং এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হয়ে প্রজাতিটি হুমকির মুখে রয়েছে। সব মিলিয়ে বিবেচনা করে প্রজাতিটিকে আইইউসিএন ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত হিসেবে ঘোষণা করেছে।

গবেষকরা জানান, এ প্রজাতির পাখির প্র্রধান খাবার শূককীট, কেঁচো, ছোট সাপ, টিকটিকিসহ বিভিন্ন ধরনের সরীসৃপ এবং মাঝেমধ্যে মাছও শিকার করে এরা।

এ ছাড়া মৌসুমভেদে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনশীল। প্রজনন মৌসুম মার্চ থেকে মে। অঞ্চলভেদে সময়ের হেরফের দেখা যায়। যেমন অস্ট্রেলিয়ায় ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর। জলাশয়ের কাছাকাছি গাছের উঁচু ডালে (সাত মিটারের মধ্যে) সরু কাঠি বা ডালপালা দিয়ে বাসা বাঁধে। ডিম পাড়ে তিন-চারটি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ২০-২৩ দিন।

সৌখিন আলোকচিত্রী অনিক ইমন মাহমুদ জানান, ওই দিন নৌকাযাত্রার প্রায় ২০ মিনিট পরে দূরে সবুজ ধানগাছের মধ্যে এক সঙ্গে প্রায় আটটি পাখি দেখেন। এর পর আস্তে আস্তে কাছে গিয়ে পাখিগুলোর ছবি সংগ্রহ করেন। তিনি বলেন, ‘এই পাখি যখন ঘাড় প্রসারিত করে উড়ে যায়, তখন মনোমুগ্ধকর লাগে।’



সাতদিনের সেরা