kalerkantho

বুধবার । ১১ কার্তিক ১৪২৮। ২৭ অক্টোবর ২০২১। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ঢাকা ছাড়ছে মানুষ প্রবেশ করছে পশুবাহী যান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঢাকা ছাড়ছে মানুষ প্রবেশ করছে পশুবাহী যান

বাধ্য আর বিলাসিতা - বাধ্য হয়ে বাস-ট্রাকের ছাদে ভ্রমণ এ দেশে নতুন নয়। আবার শখের বসে আকাশ দেখতে দেখতে ভ্রমণের সুযোগও আছে। গতকাল রাজধানীর বাড্ডায়। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে একদিকে রাজধানী ছেড়ে যাচ্ছে মানুষ, অন্যদিকে কোরবানির পশুবাহী যান নিয়ে রাজধানীতে প্রবেশ করছে বিভিন্ন জেলার মানুষ। কোরবানির পশুবাহী যান এবং রাজধানী ছেড়ে যাওয়া যান মিলিয়ে রাজধানীর প্রবেশমুখগুলোয় তৈরি হয়েছে তীব্র যানজট। আর এর রেশ ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশের এলাকার মূল সড়কে। এমন পরিস্থিতিতে গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে দেখা গেছে তীব্র যানজট। এ ছাড়া আন্ত জেলা ও ঢাকায় চলাচল করা গণপরিবহনে যথেচ্ছ উপেক্ষিত হতে দেখা গেছে স্বাস্থ্যবিধি। লঞ্চ ও বাস টার্মিনালে ছিল বাড়িমুখো মানুষের প্রবল চাপ। ট্রেনের সব টিকিট আগেই অনলাইনে বিক্রি হয়ে যাওয়ায় প্ল্যাটফর্মের পরিস্থিতি ছিল স্বাভাবিক। ট্রেনেও যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি।

রাজধানীতে তীব্র যানজট : সাধারণত শুক্রবার ছুটির দিনে রাজধানীর সড়ক অনেকটা ফাঁকা থাকে, কিন্তু গতকাল এই চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। সাভার, গাবতলী ও বাবুবাজার দিয়ে রাজধানীতে পশুবাহী ট্রাক প্রবেশ করায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। সেই সঙ্গে খোলা ছিল শপিং মল ও বিপণিবিতান। শপিং মলকেন্দ্রিক এলাকায়ও তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। শুক্রবার বঙ্গবাজার, ফুলবাড়িয়া ও গুলিস্তানের পাইকারি বাজারগুলো বন্ধ থাকলেও গতকাল ছিল খোলা। এসব বাজার এলাকায়ও ছিল মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি।

গতকাল সকালে বিমানবন্দর সড়কের তীব্র যানজট উত্তরা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এতে ওই সড়কে থেমে থেমে চলছিল যান। এই যানজট সম্পর্কে বাসচালকরা বলছেন, ঈদে রাজধানী ছাড়ছে মানুষ।

রাজধানীর প্রবেশমুখে যানবাহনের সারি, বাস টার্মিনালে ভিড় : গতকাল গাবতলী ও আব্দুল্লাহপুরে দেখা গেছে, রাজধানী ছেড়ে যাওয়া এবং রাজধানীতে প্রবেশ—এই দুই দিকেই রয়েছে যাত্রীর চাপ। গাবতলীতে রাজধানীমুখো পশুবাহী ট্রাকের চাপ ছিল অনেক বেশি। সকালের দিকে গাবতলী থেকে সাভার পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটে পড়ে যাত্রীরা। গাবতলী বাস টার্মিনালে প্রতিটি বাস কাউন্টারের সামনে এবং বিশ্রামাগারে গাদাগাদি অবস্থায় যাত্রী দেখা গেছে।

গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের যাত্রীবাহী বাস ছেড়ে গেছে। বাসের জন্য যাত্রীদের বাড়তি সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে এক থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত। গাবতলী থেকে খুলনাগামী দিগন্ত পরিবহনে পরিবার নিয়ে গ্রামে যাচ্ছিলেন শফিউল আলম। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অগ্রিম টিকিট নিয়েছি, তবে বাস সময়মতো পাচ্ছি না। দুই ঘণ্টা ধরে বসে আছি।’ রংপুরগামী এসআর ট্রাভেলসের যাত্রী নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘দেড় ঘণ্টা বসে আছি, কখন বাস আসবে, জানি না।’

কমলাপুরে যাত্রীর চাপ স্বাভাবিক, প্রবেশে কড়াকড়ি, ভেতরে স্বাস্থ্যবিধি নেই : গতকাল কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ২৫ জোড়া আন্ত নগর এবং ৯ জোড়া কমিউটার ট্রেন ছেড়ে গেছে। ওই স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, স্টেশন প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের সময় মাস্ক আছে কি না, তা কড়াকড়িভাবে দেখা হচ্ছে। মাস্ক ছাড়া কাউকে প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। হাত ধোয়ার পাশাপাশি হাতে জীবাণুনাশক ব্যবহারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে সেখানে। কিন্তু প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের পরই বেশির ভাগ যাত্রীকে মাস্ক খুলে ফেলতে দেখা গেছে। এমনকি ট্রেনে দায়িত্বরত নিরাপত্তারক্ষী, ট্রেনের চালকসহ অনেক কর্মচারীর মুখেও দেখা যায়নি মাস্ক। রেলের অর্ধেক আসনের সব টিকিট অনলাইনে বিক্রি হওয়ায় স্টেশনে অতিরিক্ত ভিড় ছিল না। 

কমলাপুর রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক মাসুদ সারওয়ার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা প্রতিনিয়ত পরিদর্শন করছি। স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে আমাদের অবস্থান কঠোর। চলতি ট্রেনের স্বাস্থ্যবিধিতে নজর রাখতেও লোক রাখা আছে।’

লঞ্চঘাটে ব্যাপক ভিড় : গতকাল দুপুরের পর থেকে সদরঘাট লঞ্চঘাটে যাত্রীর উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। যাত্রীরা যে যেভাবে পেরেছে লঞ্চে উঠেছে। লঞ্চের ডেকেও দেখা গেছে অতিরিক্ত যাত্রী।