kalerkantho

বুধবার । ১১ কার্তিক ১৪২৮। ২৭ অক্টোবর ২০২১। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

বাজারে কয়েক গুণ বেড়েছে অক্সিজেন সিলিন্ডারের দাম

৭ হাজার থেকে বেড়ে ১৮ হাজার টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনা মহামারির এই সময়ে শহর ও গ্রামে বাড়ছে সংক্রমণ। সেই সঙ্গে প্রতিদিন বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। গত কয়েক দিন গড় মৃত্যু ২০০ জনের ওপর। সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে গেছে ক্লিনিক্যাল অক্সিজেন সিলিন্ডারের বাজার। অক্সিজেনের দাম আগের মতো থাকলেও বেড়েছে সিলিন্ডারের দাম। এ ছাড়া রয়েছে সিলিন্ডারের সংকট। অক্সিজেনের দাম বাড়া নিয়ে একমত না হলেও সিলিন্ডারের সংকট নিয়ে ব্যবসায়ীরা একমত। ক্রেতারা বলছেন, এরই মধ্যে ক্লিনিক্যাল অক্সিজেন সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে কয়েক গুণ। এর জবাবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগের চেয়ে বেশি দামে কেনায় বাধ্য হয়ে তাঁদের বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে যে সিলিন্ডারের দাম ছিল সাত থেকে আট হাজার টাকা, সেই একই সিলিন্ডারের দাম বর্তমানে ১৪ থেকে ১৮ হাজার টাকা। আর লিন্ডে বাংলাদেশের ফুল সেট সিলিন্ডারের দাম বেড়ে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ২৬ হাজার টাকা। কিন্তু টাকা দিয়েও অনেকে সময়মতো পাচ্ছেন না নতুন সিলিন্ডার। তবে সিলিন্ডারের গ্যাস ফুরিয়ে গেলে তা রিফিল করা যাচ্ছে। দামও খুব বেশি হেরফের হয়নি। আগে সিলিন্ডারপ্রতি রিফিল করা যেত ২০০ টাকায়। এখন করতে হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়। হোম ডেলিভারির জন্য দিতে হয় বাড়তি সার্ভিস চার্জ। একজন ক্রেতা যদি রিফিল করা সিলিন্ডার বাড়িতে বসে পেতে চান, তাহলে দূরত্বভেদে তাঁকে দিতে হয় ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা।

রাজধানীর বিভিন্ন দোকানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তাদের কাছে ক্লিনিক্যাল অক্সিজেন সিলিন্ডারের সংকট রয়েছে। তবে পর্যাপ্ত অক্সিজেন আছে। সিলিন্ডারসংকটের কারণ হিসেবে তারা বলছে, চীন থেকে সিলিন্ডার আমদানি হচ্ছে না।

মগবাজারের নাঈম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী নাঈম হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বর্তমানে বাজারে অক্সিজেন সিলিন্ডারের সংকট রয়েছে। ক্রেতাদের চাহিদামতো আমরা সরবরাহ করতে পারছি না।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রতিদিন শতাধিক ফোন রিসিভ করছি আমরা। কিন্তু সেই তুলনায় সিলিন্ডার সরবরাহ করতে পেরেছি স্বল্পসংখ্যক।’

দাম নিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমরা লিন্ডের ফুল সেট অক্সিজেন সিলিন্ডার বিক্রি করছি ২৬ হাজার ৫০০ টাকায়। তার পরও চাহিদামতো সরবরাহ করা যাচ্ছে না। আর রিফিল করছি প্রতি সিলিন্ডার ২০০ টাকায়। পরিবহন খরচ মিলিয়ে হোম ডেলিভারিতে লাগছে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা।’

একই এলাকার আহমেদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আব্দুল লতিফ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘১৪ হাজার লিটারের ২০ হাজার পিএসআই প্রেসারের সিলিন্ডারের প্যাকেজ আগে বিক্রি করতাম আট হাজার টাকায়। এখন বিক্রি করছি ১৪ হাজার টাকায়। কারণ এখন আমাদের কিনতে হচ্ছে ১২ হাজার টাকায়। আগে যেখানে প্রতিদিন চাহিদা ছিল পাঁচটি, এখন সেখানে চাহিদা বেড়ে হয়েছে ৫০টি।’

ওই এলাকার এম আবদুল্লাহ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার দোকানে বিক্রি করার মতো সিলিন্ডার নেই। রিফিল করার জন্য এগুলো এসেছে। বাজারে অক্সিজেনের সংকট নেই। রিফিলের জন্য পাঠালে এক দিন পর হলেও রিফিল করা যাচ্ছে। কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে না ক্লিনিক্যাল অক্সিজেন সিলিন্ডার।’

দেশের নামকরা ক্লিনিক্যাল অক্সিজেন সিলিন্ডার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান লিন্ডে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তাদের সাপ্লাই চেইন অনুযায়ী অক্সিজেন সিলিন্ডারের ঘাটতি নেই। আর গড়ে প্রতিদিন তারা ৯০ টন অক্সিজেন উৎপাদন করছে।

প্রতিষ্ঠানটির মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান সাইকা মাজেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের সাপ্লাই চেইন অনুযায়ী অক্সিজেন সিলিন্ডারের ঘাটতি নেই।’