kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ মাঘ ১৪২৮। ২৫ জানুয়ারি ২০২২। ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

১৮ মামলার ১০টির চার্জশিট

সাহেদ গ্রেপ্তারের এক বছর

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



১৮ মামলার ১০টির চার্জশিট

করোনা জেঁকে বসার শুরুর সময়ে সেই প্রতারণার খবরে হতভম্ব হয়ে পড়েছিল দেশের মানুষ। গ্রেপ্তার হন সেই ব্যক্তি। এরপর তদন্তে বের হয়ে আসে তাঁর আরো সব ভয়াবহ কুকীর্তি। মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম নামের ‘বিশ্বপ্রতারক’ আখ্যা পাওয়া ওই ব্যক্তি শুধু রিজেন্ট হাসপাতালে করোনা পরীক্ষা ও চিকিৎসায় প্রতারণার মাধ্যমেই নয়, কৌশলে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের শত কোটি টাকাও আত্মসাৎ করেন।

বিজ্ঞাপন

এই টাকায় তিনি রিজেন্ট গ্রুপ নামে কম্পানি খুলে হাসপাতাল, ট্যুরিজম প্রতিষ্ঠানের মালিক বনে যান। নিজেকে রাজনৈতিক দলের নেতা ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব পরিচয় দিয়ে তিনি মানুষের সঙ্গে প্রতারণা চালিয়ে যান।

এক বছরের তদন্তে উঠে এসেছে সাহেদ ব্যাংক ও পাওনাদারদের টাকা ফেরত না দিয়ে প্রতারণার আশ্রয় নিতেন। ভুয়া প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে করোনা চিকিৎসার নামে প্রতারণার টাকা পাচার করেছেন। এ ছাড়া চাকরির আশ্বাসে, বদলির তদবিরের নামে, রিকশা-ভ্যানের ভুয়া লাইসেন্স দিয়ে, পদ্মা সেতু প্রকল্পে পাথর-বালু ও বিটুমিন সরবরাহের নামে, এমনকি জেল থেকে হাজতি ছাড়ানোর নামে মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন। তাঁর ৪৩টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় শত কোটি টাকার লেনদেনের ঘটনায় মানি লন্ডারিং মামলার তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ (সিআইডি)। প্রাথমিক পাওয়া তথ্যে সাহেদ বিপুল পরিমাণ টাকা বিদেশে পাচার করেছেন বলে সন্দেহ করা হলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ১১ কোটি টাকা পাচারের প্রমাণ মিলেছে।

সাহেদকে গ্রেপ্তারের এক বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার। গত বছর ১৫ জুলাই সাতক্ষীরার সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে র‌্যাবের হটলাইনে প্রায় ২০০ ভুক্তভোগী বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার অভিযোগ করেছেন। পাওয়া গেছে ৪৮টি মামলার তথ্য। র‌্যাব ও পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, গ্রেপ্তারের পর থেকে সাহেদের বিরুদ্ধে ১৮টি মামলা হয়েছে, যার মধ্যে ১০টি মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। অন্য মামলাগুলোর তদন্ত শেষ পর্যায়ে।

এদিকে উত্তরা ও মিরপুরে ভাড়া না দিয়ে দখল করে রাখা রিজেন্ট হাসপাতালের ভবনটি দুটি দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ফেরত পেয়েছে মালিক পক্ষ। তবে সাহেদের কাছে ভবনের ভাড়া, বিদ্যুৎ ও পানির বিল বাবদ লাখ লাখ টাকা এখনো বুঝে পাননি তাঁরা। পাচ্ছেন না নতুন ভাড়াটিয়াও।

গত বছরের ৬ ও ৭ জুলাই রাজধানীর উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযানে করোনার টেস্ট না করে ফলাফল দেওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়ম পান র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরদিন হাসপাতালটির উত্তরা ও মিরপুরের দুটি শাখা সিলগালা এবং সাহেদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে র‌্যাব। ১৫ জুলাই ভোরে সাতক্ষীরার সীমান্ত এলাকা থেকে অস্ত্র, গুলিসহ গ্রেপ্তারের পর উত্তরার অফিসে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জাল টাকা জব্দ করা হয়। প্রধান সহযোগী মাসুদ পারভেজসহ অন্তত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। গ্রেপ্তারের পর র‌্যাব, ডিবি ও সিআইডির তদন্তকালে সাহেদের বিরুদ্ধে ১৮টি মামলা হয়েছে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন কালের কণ্ঠকে বলেন, সাহেদের বিরুদ্ধে র‌্যাবের দায়ের করা অস্ত্র, জাল টাকা ও চিকিৎসায় প্রতারণার তিনটি মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। মামলাগুলো এখন বিচারাধীন। সাহেদ করিম ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আছেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, র‌্যাব ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে হটলাইনে অভিযোগ চেয়েছিল। এতে প্রায় ২০০ অভিযোগ আসে। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি অভিযোগে পরে মামলাও হয়েছে।

র‌্যাব সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারের পর সাহেদের পুরনো ৪৮টি মামলার তথ্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৩২টি মামলা এখন চলমান।

সিআইডি সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত সিআইডি সাহেদের সাতটি মামলার চার্জশিট দিয়েছে। ছয়জন বালু ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চার কোটি ৯০ লাখ টাকার বালু কিনে ভয় দেখিয়ে টাকা না দেওয়ার অভিযোগে ছয়টি মামলা হয়। এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৯৫ লাখ টাকার বিটুমিন কিনেও টাকা দেননি সাহেদ। ৩৬ লাখ টাকার মালামাল চুরির অভিযোগে আনোয়ার হোসেন নামের এক ব্যবসায়ী উত্তরা পূর্ব থানায় মামলা করেন। এখনো তিনটি মামলার তদন্ত করছে সিআইডি।



সাতদিনের সেরা