kalerkantho

শনিবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৭ নভেম্বর ২০২১। ২১ রবিউস সানি ১৪৪৩

‘অভিমান’ ভুলে দোকান খুলছেন ব্যবসায়ীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘অভিমান’ ভুলে দোকান খুলছেন ব্যবসায়ীরা

ঈদুল আজহা সামনে রেখে সরকার লকডাউন শিথিল করায় আবার দোকানপাট, শপিং মল খোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু মাত্র পাঁচ দিনের জন্য দোকান খুলে ব্যবসা হবে না—এমন মন্তব্য করে দোকান মালিক সমিতির নেতারা বলেছিলেন, তাঁরা এখন চুপচাপ থাকতে চান। সরকার যেভাবে চায়, তাঁরা সেভাবেই চলতে চান। তবে গণপরিবহনসহ প্রায় সব কিছু খোলার আগের দিন গতকাল বুধবার রাজধানীর বেশ কয়েকটি মার্কেটের ব্যবসায়ীদের দোকান খোলার প্রস্তুতি নিতে দেখা গেছে।

করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ২৭ জুন সরকারি বিধি-নিষেধের আওতায় দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ রাখা হয়। এরপর ১ জুলাই থেকে শুরু হয় কঠোর লকডাউন, যাতে জরুরি সেবা ছাড়া সব কিছুই বন্ধ করে দেওয়া হয়। দুই সপ্তাহ পর আজ বৃহস্পতিবার থেকে লকডাউন শিথিল করা হয়েছে। আগামী ২১ জুলাই ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।

চলতি বছর ঈদুল ফিতরের আগেও দোকান খুলে দেওয়ার দাবিতে রাজধানীতে দোকান মালিকরা বিক্ষোভ করেন। ঈদুল আজহার আগে দোকান খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে কয়েক দিন আগে রাজশাহীতে বিক্ষোভ হয়েছে।

গত সোমবার সরকারের কাছ থেকে লকডাউন শিথিলের ঘোষণা আসার পর বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেছিলেন, ‘কোরবানির ঈদে এমনিতেই আমাদের তেমন ব্যবসা থাকে না। এ ছাড়া এখন করোনা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ফলে এই অবস্থায় আমরা দোকান মালিক সমিতি দোকান খোলার পক্ষে নই। আগেই আমাদের যা ক্ষতি হওয়ার তা হয়ে গেছে। দোকানের মধ্যে থাকা মালগুলো নষ্ট হয়ে গেছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘যেভাবে মৃত্যু বাড়ছে, এ অবস্থায় দোকানপাট খুলে দেওয়ার কথা বলার সাহস আমাদের নেই।’ তিনি আরো বলেছিলেন, দোকান খুললে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন দিতে হবে, ভাড়া দিতে হবে। কিন্তু এত কম সময়ের জন্য দোকান খুলে এত টাকা দেওয়া কারোর পক্ষেই সম্ভব নয়।

এখন ঈদের আগে মাত্র পাঁচ দিনের জন্য দোকানপাট খোলা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে। মার্কেট খোলা থাকালেও থানকাপড়, বইসহ বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসায়ীরা দোকান খুলবেন না বলে জানা গেছে। এ ছাড়া কর্মচারীর সংকট থাকায় অনেকে দোকান খুলতে আগ্রহী নন। তাঁরা বলছেন, এখন দোকান খুললেও যেটুকু বেচাকেনা হবে তাতে খরচে পোষাবে না। কোরবানির ঈদের আগে যেহেতু পশু কেনাবেচাতেই মানুষ বেশি ব্যস্ত থাকে তাই অন্য পণ্যের প্রতি আগ্রহ তেমন থাকে না বলেও মনে করছেন তাঁরা।

জানা যায়, কঠোর লকডাউন শুরু হলে অনেক দোকান কর্মচারী বাড়ি চলে যান নানাভাবে। এসব কর্মচারী আর ফিরতে পারেননি। এখন দোকান খুলতে হলে খুব স্বল্পসংখ্যক কর্মচারী নিয়ে দোকান খুলতে হবে ব্যবসায়ীদের।

তবে অভিজাত মার্কেট খোলা থাকছে। খোলা থাকবে অনেক ঈদ পণ্যের দোকানও।

জানতে চাইলে গতকাল বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঈদের আগে দুই দিন মানুষ ব্যস্ত থাকবে গরু কিনতে। সে হিসেবে আমরা সময় পাই মাত্র তিন দিন। ফলে দোকান খুলে কর্মচারীদের পেছনে যে খরচ হবে তা-ও উঠবে না।’

তবে নিউ মার্কেট, গাউছিয়া, চাঁদনী চক, বায়তুল মোকাররমের মার্কেটসহ অনেক মার্কেট খোলার প্রস্তুতি দেখা গেছে গতকাল। ধোয়ামোছাসহ নানা কাজে ব্যস্ত ছিলেন দোকান মালিক ও কর্মচারীরা। অনেক মার্কেটের ফটক ও ভেতরে কিছু দোকানপাটে বেচাকেনা করতেও দেখা গেছে।



সাতদিনের সেরা