kalerkantho

শনিবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৭ নভেম্বর ২০২১। ২১ রবিউস সানি ১৪৪৩

দুই হাসপাতাল ‘ফাঁকা’ রাখায় প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৫ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চট্টগ্রামে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোর চিত্র এখন বিপরীতমুখী। কোনো হাসপাতাল রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে, কোনোটিতে রোগীই ভর্তি করা হচ্ছে না।

নগরের প্রধান সরকারি দুই হাসপাতালের আইসোলেশনে থাকা মুমূর্ষু রোগীদের অনেকের আইসিইউ-এইচডিইউ প্রয়োজন হলেও তার ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না। কারণ তা খালি নেই। অন্যদিকে দুই সপ্তাহ আগে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) হাসপাতালে পাঁচ শয্যার আইসিইউ উদ্বোধন হলেও গতকাল পর্যন্ত সেখানে কোনো রোগী ভর্তি করা হয়নি।

এ ছাড়া সরকারি ব্যবস্থাপনায় আরেকটি কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল চট্টগ্রাম হলি ক্রিসেন্টে ১০টি আইসিইউসহ ৩৫ শয্যা থাকলেও হাসপাতালটিতে রোগী ভর্তি করা হচ্ছে না। গত বছরের শেষ দিকে করোনা রোগী কমে যাওয়ার পর থেকে হাসপাতালটিতে রোগী ভর্তি বন্ধ রয়েছে।

অন্য সরকারি চট্টগ্রাম রেলওয়ে হাসপাতালেও এখন রোগী ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সরকারি এই দুটি কভিড হাসপাতালে অবশ্য সেন্ট্রাল অক্সিজেনের ব্যবস্থা নেই।

এদিকে কভিড ডেডিকেটেড বিভিন্ন হাসপাতালে ভেন্টিলেটরের সংকট দেখা দিয়েছে। সংকটাপন্ন রোগীদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলারও সংকট রয়েছে। বর্তমানে ১৫৮ শয্যার (১৮টি আইসিইউ, এইচডিইউসহ) চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ৩২টি হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলার মধ্যে ১৩টিই অচল। একই যন্ত্র বিআইটিআইডিতে আটটির মধ্যে দুটি অচল। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রোগীর তুলনায় হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলার অনেক সংকট রয়েছে বলে আইসিইউর একাধিক চিকিৎসক জানান।

সরকারি পাঁচটি হাসপাতালের মধ্যে চালু থাকা তিনটিতেই ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ শয্যায় করোনা রোগী রয়েছে। বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও এখন শয্যা খালি নেই।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডের ১৫৮ শয্যার মধ্যে ১৪৭ জন রোগী ছিল গতকাল। করোনা ওয়ার্ডের প্রধান সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. আবদুর রব বলেন, ‘এখন আমাদের হাসপাতালে আইসোলেশনে থাকাদের মধ্যে ১২-১৫ জনের আইসিইউ প্রয়োজন। এর মধ্যে পাঁচ-ছয়জনের অবস্থা বেশি খারাপ। কিন্তু আমাদের এখানে আইসিইউ-এইচডিইউ খালি না থাকায় মুমূর্ষু রোগীদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে।’

চট্টগ্রাম হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মনোয়ার হোসেন বলেন, তাঁদের হাসপাতাল পরিচালিত হচ্ছে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধানে। আজ (বুধবার) রোগী ভর্তি হওয়ার কথা ছিল; কিন্তু কেউ ভর্তি হয়নি।

নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানায়, প্রায় সাত মাস আগে বিআইটিআইডি হাসপাতালে পাঁচটি আইসিইউ শয্যা বসানোর জন্য যন্ত্রপাতি এসেছিল। অনেক দেরিতে সেগুলো স্থাপন করা হয়। ১ জুলাই এর উদ্বোধন হলেও গতকাল পর্যন্ত কোনো রোগী ভর্তি করা হয়নি। ভেন্টিলেটরও নেই।

জেনারেটর না থাকার কারণে আইসিইউ চালু করা যাচ্ছে না বলে জানান বিআইটিআইডির পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. বখতিয়ার আলম। তিনি বলেন, জেনারেটর স্থাপনের কাজ চলছে।



সাতদিনের সেরা