kalerkantho

শনিবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৭ নভেম্বর ২০২১। ২১ রবিউস সানি ১৪৪৩

হাসপাতাল নির্মাণের পক্ষ বিপক্ষ মুখোমুখি অবস্থান

চট্টগ্রামে সিআরবি এলাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৫ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চট্টগ্রাম নগরে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধারখ্যাত পূর্বাঞ্চলীয় রেলওয়ের সদর দপ্তর সিআরবি (সেন্ট্রাল রেলওয়ে বিল্ডিং) এলাকায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে (পিপিপি) ৫০০ শয্যা বিশেযায়িত একটি হাসপাতাল ও ১০০ আসনের মেডিক্যাল কলেজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

রেলের জায়গায় প্রস্তাবিত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ না করার দাবিতে বিশিষ্ট নাগরিকসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরা সোচ্চার হয়ে উঠেছেন। প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক কারণে সেখানে হাসপাতাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়ে বিশিষ্ট নাগরিকরা বলেছেন, অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলন বা আইনি ব্যবস্থা নিতে তাঁরা বাধ্য হবেন। অন্যদিকে নির্ধারিত জায়গাতেই হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজ নির্মাণে সরকার অনঢ় অবস্থানে রয়েছে বলে রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে।

সিআরবি থেকে প্রস্তাবিত হাসপাতাল অন্যত্র সরিয়ে নিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ ৮ জনকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার ৭ দিনের সময় দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, রেল সচিব, রেলওয়ের ডিজি, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল জোনের জিএম, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটির সিইও, পরিবেশ অধিদপ্তরের ডিজি, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যন ও চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কমিশনার বরাবর এ নোটিশ পাঠানো হয়। বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি আইনজীবী জিয়া হাবীব আহসানের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার হাসান এম এস আজিম এ নোটিশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে গতকাল বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা সিআরবি এলাকায় যান। তাঁরা প্রস্তাবিত হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজ এলাকা ঘুরে দেখেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মহানগর সভাপতি মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক সাবেক চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ সালাম, দক্ষিণ  জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য মোছলেম উদ্দিন আহমেদ, দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, উত্তর জেলার সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান প্রমুখ। এ সময় পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ছিলেন।

আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, জনগণের দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সরকার পরিবেশের ব্যাপারে অত্যন্ত সংবেদনশীল। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময় সবুজায়ন এবং বনায়ন বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। বৃক্ষরাজি ও পরিবেশ ধ্বংস হয়, এমন কিছু সরকার করবে না। 

অপরদিকে সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বুধবার পরিবেশবাদী সংগঠন পিপলস ভয়েসের সভাপতি শরীফ চৌহান ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আতিকুর রহমান এক বিবৃতিতে জানান, চট্টগ্রাম শহরের প্রধান জনসমাগমস্থল শতবর্ষী বৃক্ষ, পাহাড়-উপত্যকা বেষ্টিত ও প্রাণী বৈচিত্র্যের কেন্দ  সিআরবি এলাকায় হাসপাতাল নির্মাণ এ এলাকার ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ধ্বংস করবে। তাই অন্য কোথাও হাসপাতাল নির্মাণ করা হোক।



সাতদিনের সেরা