kalerkantho

বুধবার । ১১ কার্তিক ১৪২৮। ২৭ অক্টোবর ২০২১। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

শেকৃবির আজ একুশে পা

শাহাদত হোসেন   

১৫ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আজ বৃহস্পতিবার ২১ বছরে পা দিল শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি)। দেশের কৃষি শিক্ষার প্রাচীনতম এ বিদ্যাপীঠ ‘দ্য বেঙ্গল অ্যাগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট’ নামে ১৯৩৮ সালের ১১ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর পাকিস্তান শাসনামলে ‘ইস্ট পাকিস্তান অ্যাগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট’ আর স্বাধীনতার পর ‘বাংলাদেশ অ্যাগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট’ নামকরণ করা হয়। ২০০১ সালের ১৫ জুলাই পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে শেরেবাংলা অ্যাগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটি নামে নতুন রূপে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। এ অঞ্চলে কৃষি খাতে আলো ছড়ানো প্রতিষ্ঠানটি আজ ২১ বছরে পদার্পণ করল।

শেকৃবি দক্ষ কৃষিবিদ ও কৃষিবিজ্ঞানী তৈরিতে যেমন ভূমিকা রেখেছে, কৃষি গবেষণায়ও সফলতার স্বাক্ষর রেখেছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে চারটি অনুষদ, একটি ইনস্টিটিউটের অধীনে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি কোর্সে চার হাজার ৮০৪ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। অনুষদগুলোর অধীনে ৩৫টি বিভাগে ৩২২ জন শিক্ষক পাঠদান ও গবেষণায় নিয়োজিত আছেন।

শেকৃবি এ পর্যন্ত উদ্ভাবন করেছে ক্যান্সার প্রতিরোধী সবজি সাউ টমাটিলো-১ ও সাউ টমাটিলো-২, সরিষার তিনটি উন্নত জাত সাউ সরিষা-১, সাউ সরিষা-২ ও সাউ সরিষা-৩; ভুট্টার উচ্চফলনশীল জাত সাউ হাইব্রিড ভুট্টা-১ ও সাউ হাইব্রিড ভুট্টা-২; ভিনদেশি ফুলের পরিবেশসহিষ্ণু নতুন জাত বঙ্গবন্ধু-১ ও বঙ্গবন্ধু-২। ফুল দুটি নন্দিনী নামে বেশি পরিচিত। এ ছাড়া একই গাছে আলু ও টমেটোর জাত পমেটো, ভিনদেশি সবজি ব্রাসেলস স্প্রাউট, সলুক, উন্নত পানের জাত নির্বাচন, রসুনের বিকল্প বিডি নিরা উদ্ভাবন, নতুন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছের সন্ধান এবং প্রাণিদেহে অণুজীব ঘটিত রোগবিষয়ক সফল গবেষণায় সাফল্য অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে প্রতিষ্ঠিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে দুটি অনুষদ ভবন, একটি কেন্দ্রীয় গবেষণাগার, দুটি গবেষণা খামার, একটি লাইব্রেরি, প্রশাসনিক ভবন ও শিক্ষার্থীদের জন্য পাঁচটি আবাসিক হল। এর মধ্যে ছাত্রদের জন্য তিনটি এবং ছাত্রীদের জন্য দুটি হল। এ ছাড়া নির্মাণাধীন দুটি হলের কাজ শেষ পর্যায়ে।

শেকৃবির সাফল্য নিয়ে শিক্ষার্থীরা যেমন গর্ব করেন, নানা সমস্যা নিয়ে তাঁদের হতাশাও রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা এক বছরের সেশনজটের সঙ্গে করোনা মহামারিতে যুক্ত হয়েছে আরো দেড় বছর। অনলাইনে ক্লাস চললেও পরীক্ষা আটকে থাকায় হতাশ শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, সেশনজট নিরসনে প্রশাসন যেন উদ্যোগী হয়। প্রশাসনও এ বিষয়ে ইতিবাচক। করোনাকালে একটি ব্যাচের সশরীরে, আরেকটি ব্যাচের পরীক্ষা অনলাইনে চলমান।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া বলেন, ‘এখান থেকে পাস করা কৃষিবিদরা দেশের কৃষি খাতকে এগিয়ে নিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। পাকিস্তান আমল এবং বাংলাদেশ আমলে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে প্রচুর পদক লাভ করেছেন এই প্রতিষ্ঠানের গ্র্যাজুয়েটরা। দুজন স্বাধীনতা পদক লাভ করেছেন। বাংলাদেশের বর্তমান দুজন সায়েন্টিস্ট ইমেরিটাস এই প্রতিষ্ঠানের।’

উপাচার্য আরো বলেন, ‘করোনাকালে আমি উপাচার্যের দায়িত্বে আসি। করোনা মহামারি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমরা সিন্ডিকেট মিটিং করে বাজেট অনুমোদন করব। গবেষণার ওপর জোর দিতে প্রতিবছর ডিসেম্বর মাসে একটি সেমিনার করব, যেখানে সব গবেষক তাঁদের গবেষণা ও ফলাফল তুলে ধরবেন। চলমান কাঠামোগত বিভিন্ন কাজ শেষ করে নতুন অনেক কাজ শুরু করার প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। ভেটেরিনারি টিচিং হসপিটালের কাজ শিগগিরই শুরু হবে।’