kalerkantho

রবিবার । ১ কার্তিক ১৪২৮। ১৭ অক্টোবর ২০২১। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

পদ্মা সেতুর সড়কপথে পিচ ঢালাইয়ের কাজ শুরু

ডুবে যাওয়া জাহাজ থেকে মালামাল উদ্ধারের তৎপরতা

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৫ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পদ্মা সেতুর সড়কপথে পিচ ঢালাইয়ের কাজ শুরু

পদ্মা সেতুর ওপর সড়কপথের পিচ ঢালাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে গত মঙ্গলবার। গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

পদ্মা সেতুর ওপর সড়কপথের পিচ ঢালাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। গত মঙ্গলবার সেতুর জাজিরা প্রান্তে এ কাজ শুরু করা হয়। এ নিয়ে পদ্মা সেতুর কাজ আরো এক ধাপ এগোল। এদিকে পদ্মা সেতুর রেলওয়ের কাজের মালপত্র নিয়ে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে ডুবে যাওয়া জাহাজ থেকে মালপত্র উদ্ধারের তৎপরতা শুরু হয়েছে। গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম থেকে সেখানে একটি ভাসমান ক্রেন পাঠানো হয়েছে।

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের জানান, সেতুর জাজিরা প্রান্তের ৪১ নম্বর পিলার থেকে শুরু করা পিচ ঢালাইয়ের কাজ মাওয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। চার ইঞ্চি পুরু করে ঢালাই দেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৬০ মিটার পিচ ঢালাই হয়। আগামী মার্চ মাসের মধ্যে পুরো সেতুর পিচ ঢালাই শেষ হওয়ার কথা। প্যারাপেট ওয়ালের কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে। এ কাজ শেষ হলে সড়কবাতি বসানোর কাজ শুরু হবে।

নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, ‘লকডাউনের মধ্যে সেতুর কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। লকডাউনে যেহেতু পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক ছিল, তাই আমাদের মালপত্র পরিবহনে সুবিধা হয়েছে। কোনো ঝামেলা ছাড়াই নির্দিষ্ট সময়ের আগেই মালপত্র কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে চলে এসেছে। এতে কাজের অগ্রগতি বেড়েছে। গত ৩০ জুন পর্যন্ত সেতুর কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৯৪ শতাংশ এবং প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ৮৭ শতাংশ। সেতুর অবশিষ্ট কাজের মধ্যে রয়েছে রোডওয়ে স্ল্যাব বসানো, প্যারাপেট ওয়াল ও স্ট্রিটলাইটিংয়ের কাজ।’

মালপত্র উদ্ধারে তৎপরতা

পদ্মা সেতুর রেললাইনে রেলিংয়ের গ্যালভানাইজ স্টিল ভর্তি মাওয়াগামী বার্জ হ্যাংগ্যাং-১ বঙ্গোপসাগরের সন্দ্বীপ উপকূলে গত মঙ্গলবার সকালে ডুবে যায়। পদ্মা মূল সেতুর ঠিকাদার চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কম্পানি লিমিটেড (এমবিইসি) চীন থেকে এই স্টিল অবকাঠামোগুলো প্রকল্প এলাকা মাওয়ায় নিয়ে আসছিল। প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা বলেন, স্টিল অবকাঠামোগুলো উদ্ধার করে আরেকটি জাহাজে করে মাওয়ায় নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে। মঙ্গলবার ভোর ৩টায় চট্টগ্রাম বন্দর থেকে জাহাজটি রওনা হয়। এটি ১৫ জুলাই মাওয়ায় পৌঁছার কথা ছিল। জাহাজটি ঝড়ের কবলে পড়ে একটি ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এরই মধ্যে সেখানে ডুবন্ত একটি জাহাজের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে এর তলা ফেটে যায়। পরে আশপাশে থাকা মাছ ধরার ট্রলার জাহাজের নাবিকদের উদ্ধার করে। নাবিকরা সন্দ্বীপে আছেন। গ্যালভানাইজ স্টিল হওয়ায় এগুলোর কোনো ক্ষতি হবে না।

ডুবে যাওয়া জাহাজটির ক্যাপ্টেন আসলাম শেখ সন্দ্বীপ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

পদ্মা সেতুর একজন নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, ঠিকাদারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ডুবে থাকা জাহাজের মালামালের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার জন্য সেতু প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক কোস্ট গার্ড ও নৌ পুলিশকে জরুরি চিঠি পাঠিয়েছেন।

অবকাঠামোগুলো অন্য মালপত্রের সঙ্গে বড় জাহাজে করে চীন থেকে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে আসে। পরে লাইটার জাহাজে করে সেগুলো মাওয়ায় আনা হচ্ছিল। এই স্টিল অবকাঠামো ভর্তি একই কম্পানির বার্জ হ্যাংগ্যাং-২ মাওয়ায় পৌঁছেছে ১০ জুলাই। মাওয়া কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে জাহাজটি থেকে মালপত্র খালাস করা হচ্ছে।



সাতদিনের সেরা