kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ আশ্বিন ১৪২৮। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৩ সফর ১৪৪৩

নারায়ণগঞ্জে কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ৫২ জন নিহত

দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা স্কপের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৫২ জনের বেশি শ্রমিক নিহত এবং বহু আহত ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। স্কপের পক্ষ থেকে আগামীকাল ১৫ জুলাই সকাল ১১টায় শ্রম ভবনের নিচে অবস্থান ও শ্রমমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ এবং আগামী ১৮ জুলাই সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে।

গতকাল মঙ্গলবার এক অনলাইন মতবিনিময়সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্কপের যুগ্ম সমন্বয়ক শহীদুল্লাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এই কর্মসূচি সফল করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহবান জানানো হয়েছে। সভায় জানানো হয়, ওই ঘটনায় স্কপ গঠিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিংস কমিটি আজ বুধবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবে। কমিটির সদস্যরা নিহত ও অগ্নিদগ্ধদের পরিবারের সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলবেন।

শ্রমিকনেতা আহসান হাবিব বুলবুলের সঞ্চালনায় সভায় অংশ নেন শ্রমিক নেতা নূর কুতুব মান্নান, মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ, রাজেকুজ্জামান রতন, সাইফুজ্জামান বাদশা, কামরুল আহসান, ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, চৌধুরী আশিকুল আলম, নঈমুল আহসান জুয়েল, সাকীল আক্তার চৌধুরী, শামীম আরা, রফিকুল ইসলাম, কামরুল হাসান, রুহুল আমিন, কুতুব উদ্দিন আহমেদ, জেড এম কামরুল আনাম, সালাউদ্দিন স্বপন, তৌহিদুর রহমান, বাবুল আক্তার, নুরুল ইসলাম, চন্দন কুমার, কল্পনা আক্তার, চায়না রহমান, সহীদুল্লাহ বাদল, তাহমিনা রহমান, মহসিন ভুঁইয়া, ওসমান আলী, আবুল হোসেন, আব্দুল কাদের হাওলাদার, আবু হাসান টিপু, মাহাতাব উদ্দিন শহিদ, নাহিদুর হাসান নয়ন, শফিকুর রহমান মাসুদ প্রমুখ।

সভায় জানানো হয়, কারখানা পরিচালনার ক্ষেত্রে শ্রম আইন, অগ্নিনির্বাপণ আইন বা ভবন নির্মাণ আইন কোনো কিছুই মানা হয়নি। শ্রম আইন লঙ্ঘন করে শিশু শ্রমিক নিয়োগ করা হয়েছে। কারখানায় অগ্নিনির্বাপণের কোনো আয়োজন ছিল না। জরুরি অবস্থায় বহির্গমনের জন্য ভবনের বাইরের দিকে কোনো সিঁড়ি ছিল না। ফ্লোরের আয়তন অনুসারে সিঁড়ি প্রশস্ত করার নিয়ম থাকলেও তা মানা হয়নি।

সভায় নেতারা বলেন, হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজে অগ্নিকাণ্ডে শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনাটি কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড এবং কারখানার ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিধিবিধান বাস্তবায়নসংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারাও এই হত্যাকাণ্ডের জন্য সমভাবে দায়ী। তাই তদন্তপূর্বক দায়িত্বে অবহেলার জন্য দায়ী এই কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। নেতারা নিহত প্রত্যেক শ্রমিকের পরিবারকে আইএলও কনভেনশন অনুসারে আজীবন আয়ের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং আহত শ্রমিকদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের আহবান জানান।



সাতদিনের সেরা