kalerkantho

রবিবার । ১ কার্তিক ১৪২৮। ১৭ অক্টোবর ২০২১। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

পানিতে ডুবে দেড় বছরে ১৪০২ মৃত্যু

৮৩ শতাংশই শিশু

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পানিতে ডুবে দেশে গত দেড় বছরে এক হাজার ১৬৪ শিশুসহ মোট এক হাজার ৪০২ জনের প্রাণহানি হয়েছে। অর্থাৎ পানিতে ডুবে প্রাণ হারানোদের ৮৩ শতাংশই শিশু। ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ৮৭৫টি ঘটনায় এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) সহযোগিতায় গণমাধ্যম ও যোগাযোগবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘সমষ্টি’ এই চিত্র তুলে ধরেছে। প্রতিষ্ঠানটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছে।

সমষ্টি জানাচ্ছে, গত দেড় বছরে পানিতে ডুবে সর্বোচ্চ ৩২২ জনের প্রাণহানি হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ সময়ে চট্টগ্রামে মারা গেছে ২৬৭, রংপুরে ১৮৭, রাজশাহীতে ১৮৩, ময়মনসিংহে ১৪৩, বরিশালে ১২৩ ও খুলনা বিভাগে ১০৯ জন। এ সময়ে সর্বনিম্ন ৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে সিলেট বিভাগে। আর জেলাওয়ারি সবচেয়ে বেশি ৬৬ জনের প্রাণ গেছে নেত্রকোনায়। এরপর ধারাবাহিকভাবে আছে ঢাকা ৫৯, নোয়াখালী ৫৪, দিনাজপুর ৫০, গাজীপুর ৪২ ও কুড়িগ্রামে ৩৯ জন।

সমষ্টি বলছে, পরিবারের সদস্যদের যথাযথ নজরদারি না থাকায় সবচেয়ে বেশিসংখ্যক পানিতে ডোবার ঘটনা ঘটে। বেশির ভাগ শিশু বড়দের অগোচরে বাড়িসংলগ্ন পুকুর বা অন্য জলাশয়ে চলে যায় এবং দুর্ঘটনার শিকার হয়। গত দেড় বছরে পানিতে ডুবে মৃতদের মধ্যে চার বছর বা কম বয়সীর সংখ্যা ৫১৪। এ ছাড়া ৫ থেকে ৯ বছর বয়সী ৪৪৮ জন, ৯ থেকে ১৪ বছরের ১৫৭ জন এবং ১৫ থেকে ১৮ বছরের ৪৫ জনের প্রাণ গেছে পানিতে তলিয়ে। তা ছাড়া প্রাপ্তবয়স্ক বা ১৮ ঊর্ধ্ব ২৩৮ জনও প্রাণ হারিয়েছে একই কারণে।

অনেক সময় নৌযান দুর্ঘটনায় ডুবে গিয়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। সাম্প্রতিককালে এমন বড় ঘটনা ঘটে ২০২০ সালের ২৯ জুন। সেদিন বুড়িগঙ্গা নদীতে এমএল মর্নিং বার্ড নামের একটি লঞ্চ ময়ূর-২ নামের আরেকটি বড় লঞ্চের ধাক্কায় ডুবে যায়। এতে ৩২ জন মারা যায়। এরপর ৫ আগস্ট নেত্রকোনার মদন উপজেলায় হাওরে নৌকা ডুবে মারা যায় ১৭ জন।

পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ করার বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) ২০১৭ সালে ‘প্রিভেন্টিং ড্রাউনিং : এন ইমপ্লিমেন্টেশন’ শীর্ষক নির্দেশিকা প্রকাশ করে। তাতে এ ধরনের প্রাণহানি ঠেকাতে স্থানীয় পর্যায়ের মানুষজনকে সম্পৃক্ত করে দিবাযত্নকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। তা ছাড়া পারিবারিক পর্যায়ে সচেতনতা তৈরি ও জাতীয়ভাবে কর্মসূচি গ্রহণ করার ওপরও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠান সুপারিশ করেছে।



সাতদিনের সেরা