kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

কঠোর লকডাউন ও করোনা সংক্রমণের ভয়

গরম মসলার বাজার ‘ঠাণ্ডা’

রোকন মাহমুদ   

৮ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



কোনবানি ঈদের ডামাডোল শুরু হয়ে গেলেও গরম মসলার পাইকারি বাজার এখনো ‘ঠাণ্ডা’। কঠোর লকডাউন এবং করোনা সংক্রমণের পারদ চড়তে থাকায় এখনো কেনাবেচা স্বাভাবিক বাজারের চেয়েও ১০ শতাংশ কম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিয়ে ও অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠানেই গরম মসলার ব্যবহার বেশি। করোনার কারণে এসব অনুষ্ঠানে তালা পড়ায় মসলার বড় অংশই অবিক্রীত থেকে যাচ্ছে। ফলে ঈদের জন্য মসলার পর্যাপ্ত মজুদ গড়ে উঠেছে। এসব মজুদ পণ্য বিক্রি নিয়েই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে ঈদের বাজার ধরতে দাম বাড়ানোর চেয়ে কমানোর চেষ্টাই বেশি তাঁদের। কারণ আর ১৩ থেকে ১৪ দিন বাকি থাকলেও এখনো ঈদের বিক্রিই শুরু হয়নি। বাকি সময়টাতে খুব ভালো কিছুর আভাসও মিলছে না।

এদিকে কঠোর লকডাউনের মধ্যে খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছে টেলিবাণিজ্য। আগে খুচরা ব্যবসায়ীরা নিয়মিত পাইকারি বাজারে আসতেন। এখন করোনা অতিমারির মধ্যে মোবাইল ফোনেই পণ্যের চাহিদার (অর্ডার) কথা জানাচ্ছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। পাইকারি ব্যবসায়ী পণ্যের দাম হিসাব করে টাকার অঙ্ক জানিয়ে দিলে সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। পাইকারি ব্যবসায়ী সেই পণ্য গাড়িতে করে পৌঁছে দিচ্ছেন। এভাবেই চলছে রাজধানীর বড় পাইকারি বাজারগুলোতে করোনা দুঃসময়ের ব্যবসা-বাণিজ্য। যদিও ব্যাংকের অনেক শাখা বন্ধ থাকায় কিছুটা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে, তবে বিকল্প হিসেবে বাকিতে বিক্রির প্রক্রিয়া চালু রেখে তা পুষিয়ে নিচ্ছেন উভয়েই।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি বাজারে কোরবানি ঈদের বেচাবিক্রি শুরু হয় ১৫ থেকে ২০ দিন আগে। শেষ হয়ে যায় ঈদের সপ্তাহখানেক আগেই। এরপর খুচরা বাজারে জমে ওঠে বিকিকিনি। কিন্তু এবার ঈদের ব্যবসার মূল সময়টাতে কঠোর লকডাউন থাকায় সাধারণ মানুষ তো বটেই, অনেক খুচরা ব্যবসায়ীও আতঙ্কে পাইকারি বাজারে ঢুঁ মারছেন না। মোবাইল ফোনেই অর্ডার দিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন।

জানতে চাইলে রাজধানীর মৌলভীবাজারের পাইকারি গরম মসলা ব্যবসায়ী ও বাংলাদেশ মসলা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজি এনায়েতুল্লাহ বলেন, ‘ব্যাংক বন্ধ এবং ধরপাকড় আতঙ্কে চার দিন মসলার পাইকারি বাজার বন্ধ ছিল। সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে সমিতি থেকে সবাইকে নির্দেশনা দিয়ে আমরা বাজার খুলেছি। এর পর ক্রেতাদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। এর আগে লকডাউন শুরু হওয়ার পর গত বুধবার পর্যন্ত অর্ধেক অর্ডার মোবাইল ফোনেই পাওয়া গেছে। এখন তো তা আরো বেড়েছে।’

জানা যায়, প্রতিবছর ঈদের আগে মসলার পাইকারি দাম বেঁধে দিলেও এ বছর এখনো তা করেনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সমিতির নেতারা বলছেন, লাকডাউনের আগে তাঁদের সঙ্গে এক দফা বৈঠকে বাজারদর পর্যালোচনা করে। এবার তার প্রয়োজন মনে করেনি সরকার। মসলার বর্তমান বাজারদর গত বছরের চেয়ে কম রয়েছে। এর থেকে বাড়ার তেমন সম্ভাবনাও নেই।

গরম মসলার মধ্যে কোরবানিতে সবচেয়ে বেশি লাগে জিরা। পাইকারি বাজারে গতকাল বুধবার পর্যন্ত ভারতীয় জিরা বিক্রি হয়েছে ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি। ইরানি জিরা কম পাওয়া যাওয়ায় দামও থাকে বেশি। বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি। মসলার মধ্যে সবচেয়ে দামি এলাচের বর্তমান পাইকারি দাম মানভেদে এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। এলাচ আসে ভারত ও গুয়াতেমালা থেকে। দুই দামের এলাচেই মানের তারতম্য রয়েছে। এ ছাড়া গোলমারিচ ৪৮০ থেকে ৫০০, চায়না দারুচিনি ৩২০, ভিয়েতনামের দারুচিনি ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা, লবঙ্গ ৯২০ থেকে ৯৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

গত বছর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় মসলার দাম বেঁধে দিয়েছিল। সেখানে পাইকারিতে প্রতিকেজি জিরা ৩০০ থেকে ৩৪০, দারুচিনি (চীন) ৩১০ থেকে ৩৩০, দারুচিনি (ভিয়েতনাম) ৩৫০ থেকে ৩৭০, লবঙ্গ ৬৮০ থেকে ৭২০, এলাচ দুই হাজার ৮০০ থেকে তিন হাজার ২০০, গোলমরিচ (সাদা) ৫৫০ থেকে ৫৮০, গোলমরিচ ৩৬০ থেকে ৩৮০ টাকা দাম বেঁধে দেওয়া হয়।

গরম সমলার দাম কমলেও উল্টো গতি নিত্যপ্রয়োজনীয় আদা, রসুন ও পেঁয়াজের বাজারে। ঈদের আগে এই তিন মসলার ব্যাপক চাহিদা বাড়ে। গেল এক সপ্তাহে পাইকারি ও খুচরা বাজারে কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে দেশি পেঁয়াজের দাম। খুচরা বাজারে বর্তমানে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে গত বছরের এই সময় পেঁয়াজের কেজি ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি বলছে, এ বছর পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৩৩ শতাংশের ওপরে। দেশি আদা ১৫ দিন আগেও ১০০ থেকে ১২০ টাকায় পাওয়া যেত। এখন তা ১৭০ টাকা পর্যন্ত চাইছেন বিক্রেতারা। দেশি আদার দাম বেড়েছে ২৬ শতাংশ। রসুনের দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায়। বেড়েছে শুকনা মরিচের দামও। মাসখানেক আগে প্রতিকেজি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হওয়া হলেও এখন ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। স্থির রয়েছে ধনিয়া ও তেজপাতার দাম।



সাতদিনের সেরা