kalerkantho

রবিবার । ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৫ ডিসেম্বর ২০২১। ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৩

এসিডদগ্ধ তৈয়বার অপেক্ষায় হবু বর

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার   

৮ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কক্সবাজারে দুর্বৃত্তদের ছোড়া এসিডে মুখ ঝলসে যাওয়া সেই তরুণী তৈয়বা বেগমের জন্য অপেক্ষা করবেন হবু বর মোহাম্মদ আমিন। তৈয়বার জন্য অপেক্ষায় থাকবেন হবু শ্বশুর মমতাজ উদ্দিনও। গতকাল বুধবার কালের কণ্ঠকে এ কথা বললেন বাবা-ছেলে দুজনই। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তকে গত মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তৈয়বা বেগমকে (১৮) গতকাল কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিত্সার জন্য চট্টগ্রাম নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। রাতে এ প্রতিবেদন লেখার সময় তৈয়বাকে বহনকারী অ্যাম্বুল্যান্স ছিল চট্টগ্রামের পথে। রামু উপজেলার দুর্গম এলাকা গর্জনিয়া ইউনিয়নের মাঝিরঘাটের মোজাফফর আহমদের মেয়ে তৈয়বা। বিয়ের পিঁড়িতে বসার তিন দিন আগে তৈয়বাকে এসিড ছুড়ে দগ্ধ করেছে দুর্বৃত্তরা। আগামীকাল তাঁর বিয়ের দিন ছিল।

বিয়ের ঘটক নুরুল আলম গতকাল রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তিন লাখ টাকার কাবিন এবং পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার দেনমোহরে দুই পক্ষে বিয়ের কথা পাকাপাকি হয়। শুক্রবারই সেই শুভ দিনটি ধার্য ছিল।’ তিনি জানান, বিয়ের আগেই পূর্বশত্রুতার জের ধরে দুর্বৃত্তরা মেয়েটির মুখে এসিড ছুড়ে মারে। এমনকি এর আগে ওই দুর্বৃত্তরা মেয়েটির সঙ্গে যাতে বিয়ে না হয় সে জন্য হবু বর ও বরের বাবাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চালিয়েছিল।

এত সবের পরও বরপক্ষ পিছপা হয়নি। এসিডে ঝলসে দেওয়ার পর হবু বধূকে একনজর দেখতে দুর্গম এলাকা থেকে গতকাল কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ছুটে আসেন হবু বর মোহাম্মদ আমিন ও তাঁর বাবা মমতাজ উদ্দিন। 

তৈয়বাকে অ্যাম্বুল্যান্সে তুলে চট্টগ্রামের পথে বিদায় দিয়ে আমিন ও তাঁর বাবা দুর্গম এলাকা গর্জনিয়ার পথে পা বাড়ান। এসিডদগ্ধ তরুণীকে পুত্রবধূ করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মোবাইল ফোনে মমতাজ উদ্দিন বলেন, ‘আগে জান বাঁচানো দরকার। তার পরই অন্য কথা। আল্লাহ যদি তাকে বাঁচিয়ে রাখেন সম্পর্ক ঠিক থাকবে।’ আর আমিন বলেন, ‘বাবা যেখানে সায় দিবেন সেখানেই আমি আছি। বাবার ইচ্ছার বাইরে যাওয়ার সন্তান আমি নই।’



সাতদিনের সেরা