kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

আগামী সপ্তাহেই আট জেলায় বন্যার শঙ্কা

ভাঙন বাড়ছে নদীতীর সংরক্ষণ বাঁধও হুমকিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দেশের প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানি বিপত্সীমা অতিক্রম না করলেও আগামী সপ্তাহেই আট জেলায় বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ওই সব জেলার নদী-তীরবর্তী এলাকা ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত বড় বন্যার পূর্বাভাস নেই। বৃষ্টি ও উজানের ঢলের প্রভাবে বন্যার কবলে পড়তে যাওয়া জেলাগুলো হলো—কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, জামালপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, রাজবাড়ী ও মানিকগঞ্জ। একই সঙ্গে ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে নদীপারের মানুষ। একাধিক নদীতীর সংরক্ষণ বাঁধও হুমকির মুখে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র গত মঙ্গলবার থেকে আগামী ১০ দিনের পূর্বাভাস জানিয়েছে। তারা বলছে, সর্বাগ্রে দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। ভারতের হিমালয় পাদদেশীয় অঞ্চলে ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এর প্রভাবে কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধায় বন্যার  আশঙ্কা রয়েছে। ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি আগামী শুক্রবার পর্যন্ত স্থিতিশীল থেকে পরবর্তী সময়ে ক্রমান্বয়ে বাড়তে পারে। আগামী সাত দিনে আপাতত ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকায় বিপত্সীমা অতিক্রমের আশঙ্কা নেই। তবে আগামী সোমবার নাগাদ বগুড়া, জামালপুর, টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ জেলার নদী-তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পদ্মার পানি বাড়লেও আগামী সাত দিনে বিপত্সীমা অতিক্রম করবে না। তবে আগামী সোমবার নাগাদ রাজবাড়ী ও মানিকগঞ্জের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নদীর পানি বিপত্সীমা অতিক্রম করলে বড় বন্যার আশঙ্কা থাকে, কিন্তু বিপত্সীমার নিচে সতর্কসীমা থাকে। আগামী সপ্তাহেই সতর্কসীমা পর্যন্ত পানি পৌঁছতে পারে। এতে বেশ কিছু জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে সবার আগে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বড় বন্যার শঙ্কা দেখছি না। আর স্বাভাবিক বন্যা হলেও আগস্ট থেকেই পানি কমতে শুরু করবে। এ ছাড়া ঢাকার চারপাশের নদীগুলোতে পানি বাড়লেও বিপত্সীমা অতিক্রমের আশঙ্কা দেখছি না।’

গতকাল পদ্মা ও যমুনা নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুশিয়ারা ব্যতীত দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মেঘনা অববাহিকার প্রধান নদ-নদীতে পানি বেড়েছে। ১০৯টি পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের ৬৪টিতে পানি বেড়েছে।

জানা যায়, বর্তমানে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। এর ফলে আজ রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের বেশির ভাগ জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অনেক জায়গায় মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে।

এদিকে নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে বিভিন্ন জায়গায় হুমকির মুখে পড়েছে নদীতীর সংরক্ষণ বাঁধ। ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে চরহাজীগঞ্জ বাজার এলাকায় পদ্মার তীর সংরক্ষণ বাঁধ ভাঙনের হুমকির মুখে পড়েছে। গত কয়েক দিনের বৃষ্টি ও বাঁধের ওপর দিয়ে পণ্যবোঝাই মিনি ট্রাক চলায় কয়েকটি জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে ও দেবে গেছে। এতে ভাঙনের শঙ্কায় পড়েছেন ওই বাজারের ব্যবসায়ীরা। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলেছেন, শিগগিরই বাঁধের সংস্কারকাজ শুরু হবে। 

তিস্তা নদীর পানি বাড়ায় রংপুরের পীরগাছায় তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের চর দক্ষিণ গাবুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাকা ভবনটি ভাঙন ঝুঁকিতে পড়েছে। গত দুই দিনে বিদ্যালয়সংলগ্ন ১০টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।

ভাঙনের শিকার গণি মণ্ডল বলেন, ‘ভাঙন যখন একটু দূরে ছিল তখন উদ্যোগ নিলে হয়তো বিদ্যালয়টি রক্ষা করা সম্ভব ছিল। কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, ‘বিদ্যালয়টি রক্ষায় জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। ভাঙন রোধে শেষ পর্যন্ত চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

ব্রহ্মপুত্র নদের উত্তর তীরে শেরপুরে দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। গত এক সপ্তাহে সদর উপজেলার চরপক্ষিমারী ইউনিয়নের চুনিয়ারচর গ্রামের ১০০ মিটার আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন এবং জামালপুরের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কারণে নদীর গতিপথ কিছুটা পরিবর্তন করে চুনিয়ারচর এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে।

গাইবান্ধায় যমুনার অব্যাহত ভাঙন রোধে নেওয়া দু্ই বছর মেয়াদি প্রকল্প বাস্তবায়নে গাফিলতি ও অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ২০১৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর এই কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হলেও নির্ধারিত সময়ে অর্ধেকের বেশি কাজ হয়নি। ফলে আসন্ন বন্যায় তীব্র ভাঙনের আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা।

(প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন স্থানীয় নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিরা)



সাতদিনের সেরা