kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

রাজধানীতে গ্রেপ্তার ১১০২

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রাজধানীতে গ্রেপ্তার ১১০২

কঠোর লকডাউনের সপ্তম দিনে গতকাল বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে গাড়ির জট দেখা গেছে। গত কয়েক দিনের তুলনায় ঘর থেকে বের হওয়া মানুষের সংখ্যাও বেড়েছে। যদিও পুলিশের তল্লাশি চৌকি, র‌্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর টহল ছিল আগের মতোই।

অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়ার কারণে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। আদায় করা হচ্ছে জরিমানা। গাড়ির নামে নিয়মিতই হচ্ছে মামলা।

অন্যদিকে অলিগলি, পাড়া-মহল্লার চিত্র দেখলে মনে হবে না যে দেশে ‘লকডাউন’ চলছে।

বৃষ্টির কারণে গতকাল সকালের দিকে যানবাহন কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে। লালবাগ চৌরাস্তা, পলাশীর মোড়, আজিমপুর ও বকশীবাজার এলাকার অলিগলিতে মানুষের উপস্থিতি গত কয়েক দিনের চেয়ে অনেক বেড়েছে। মাছ, শাক-সবজি ও ফলের দোকানের সংখ্যাও বেড়েছে। যদিও আজিমপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পুলিশের কড়াকড়ি ছিল। প্রায় প্রতিটি গাড়ি থামিয়ে লোকজনকে বের হওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করছিল তারা। অপ্রয়োজনে বের হয়েছে এমন কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দিতেও দেখা যায়। তবে রিকশায় চলাচলকারীদের তেমন জিজ্ঞাসার মুখে পড়তে হয়নি।

নিত্যপণ্যের দোকান বিকেল ৫টার পর বন্ধ রাখতে বলা হলেও নির্দেশনা মানা হচ্ছে না পাড়া-মহল্লায়। সন্ধ্যার পরও দোকান খোলা রাখা হয়। শুধু নিত্যপণ্যের দোকানই নয়, প্রায় সব ধরনের পণ্যের দোকানই খোলা থাকে।

মিরপুর এলাকায় সন্ধ্যার পর দোকানিরা দোকান অর্ধেক খোলা রেখে বেচাবিক্রি করেন। পুলিশ আসার খবর পেলেই দোকান বন্ধ করে দেন। পল্লবীর কালশী রোডের দোকানি সেলিম মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘লকডাউনে সব কিছু বন্ধ থাকলেও আমাদের দোকান ভাড়া, অন্যান্য খরচ তো আর বন্ধ নেই। আমাদের সংসার চালাতে হয়। পরিবার নিয়ে খেয়ে-পরে বাঁচতে হবে। কেউ তো আর আমাদের সাহায্য করে না। এই কারণে লুকিয়ে লুকিয়ে কেনাবেচা করি।’

বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন মো. সালাউদ্দিন। তিনি বলছিলেন, ‘আমার অফিস খোলা। না গেলে চাকরি করব কিভাবে। অফিসে যাওয়ার জন্য কেউ হাঁটছে, কেউ রিকশায় যাচ্ছে।’

গত কয়েক দিন সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশার দেখা না মিললেও গতকাল দু-একটি দেখা গেছে। রামপুরা, বাড্ডা ও মতিঝিল এলাকায় ব্যক্তিগত গাড়ির চলাচল ছিল চোখে পড়ার মতো। রাজধানীর প্রতিটি সড়কেই ছিল রিকশার চাপ।

বাড্ডা এলাকায় রিকশাচালক জসিম কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রথম কয়েক দিন লকডাউনে রাস্তা খালি ছিল। এখন রাস্তায় অনেক মানুষ। প্রথম দিকে তেমন ট্রিপ না পেলেও এখন যাত্রী আছে।

মিরপুর-৬ নম্বরের এক বাসিন্দা সকালে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে যাচ্ছিলেন পুরান ঢাকার সোয়ারীঘাটে। তিনি দাবি করেন যে অসুস্থ এক আত্মীয়কে দেখতে যাবেন। মিরপুর-১০ নম্বরের তল্লাশি চৌকিতে আসার পর পুলিশ গাড়ি ফিরিয়ে দিতে চাইলে তিনি উচ্চৈঃস্বরে বলছিলেন, ‘যত টাকা দরকার জরিমানা করুন। আমি যাবই।’ পুলিশ শেষ পর্যন্ত তাঁর গাড়ি ছেড়ে দেয়। কিছুক্ষণ পর ওই তল্লাশি চৌকিতে আরেকটি ব্যক্তিগত গাড়ি আটকায় পুলিশ। গাড়ির যাত্রী পুলিশকে বলছিলেন, ওই এলাকার ফলপট্টির একটি ব্যাংকে টাকা তুলতে যাবেন। পুলিশ তাঁকে যেতে দেওয়ার পর দেখা গেছে, গাড়িটি ফলপট্টিতে না গিয়ে সোজা আগারগাঁওয়ের দিকে চলে যায়।

গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত রাজধানীতে এক হাজার ১০২ জনকে গ্রেপ্তার করার খবর জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) ইফতেখারুল ইসলাম। তিনি বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২৪৫ জনকে এক লাখ ৭১ হাজার ৯৮০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া ৮০৪টি গাড়ির নামে মামলা করেছে ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশ। এসব মামলার বিপরীতে ১৮ লাখ ৬৫ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।



সাতদিনের সেরা