kalerkantho

রবিবার । ১ কার্তিক ১৪২৮। ১৭ অক্টোবর ২০২১। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

গরু-ছাগলের সঙ্গে বসতি

বোচাগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি   

৭ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



গরু-ছাগলের সঙ্গে বসতি

বোচাগঞ্জের সুলতানপুরে বসত ঘরে গোয়াল। ছবি : কালের কণ্ঠ

ছাপরার মতো ছোট্ট টিনের ঘর। সেই ঘরেরই এক পাশে শোবার চৌকি, অন্য পাশে গরু-ছাগল রাখার জায়গা। গরু-ছাগলের সঙ্গেই দুই সন্তান নিয়ে রাত্রি যাপন করতে হয় মাছুমা আকতারকে (৩৫)। এরই বারান্দায় এক পা দিয়ে সেলাই মেশিনের চাকা ঘুরিয়ে আপন মনে কাপড় সেলাইয়ে ব্যস্ত প্রতিবন্ধী এই নারী। জীবনযুদ্ধে হারতে চান না তিনি।

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সুলতানপুর গ্রামে গিয়ে সম্প্রতি দেখা গেল এই চিত্র। মাছুমা ওই গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের মেয়ে। জন্মের ছয় বছরের মাথায় বাবাকে হারিয়েছেন। প্রতিবন্ধী মেয়ে আর ছোট ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে জীবনযুদ্ধে নেমে পড়েন তাঁদের মা মাজেদা বেওয়া। অভাবের সংসারে অন্যের দেওয়া খাবার দিয়েই কোনোমতে চলেছে তাঁদের জীবন। এর পরও নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছিলেন মাছুমা। ২০০৪ সালে বিয়ে হয়। দুই সন্তান জন্ম নেয়। কিন্তু বেশি দিন টেকেনি সংসারটা। এরপর শুরু হয় নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সংগ্রাম। এক পা দিয়েই মেশিন ঘুরিয়ে চলে সংসার। সেই আয়ে ছেলে-মেয়ের পড়ালেখাও করাচ্ছেন। ছেলে মাসুদ (১৩) পঞ্চম শ্রেণিতে এবং মেয়ে লামীয়া (৭) প্রথম শ্রেণিতে পড়ছে এখন।

মাছুমা জানান, বাড়ির ওই জায়গাটা ছাড়া আর কিছু নেই তাঁর। তাই কাপড় সেলাই-ই ভরসা।

নাফানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ পারভেজ বলেন, ‘মাছুমা অনেক কষ্ট করে জীবন যাপন করে। এরই মধ্যে তাকে সরকারি সহায়তা হিসেবে একটি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড দেওয়া হয়েছে। তার একটিমাত্র ঘর। সেই ঘরে গরু-ছাগল নিয়েই থাকে। ঘরের ব্যবস্থা করা যায় কি না দেখি।’



সাতদিনের সেরা