kalerkantho

শনিবার । ১০ আশ্বিন ১৪২৮। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৭ সফর ১৪৪৩

ডিএনসিসির ডিজিটাল হাট উদ্বোধন

‘এক ক্লিকে’ হাট থেকে কোরবানির পশু বাসায়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনার এই সময়ে সশরীরে হাটে গিয়ে কোরবানির পশু কেনার বিড়ম্বনা থেকে বাঁচাতে ডিজিটাল হাট চালু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। গতকাল রবিবার দুপুরে ভার্চুয়াল মাধ্যমে ডিজিটাল কোরবানির পশুর হাট (https://digitalhaat.net/) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেছেন, ঈদুল আজহা সামনে রেখে ডিএনসিসি এ বছর ডিজিটাল হাটের মাধ্যমে এক লাখ গরু কেনাবেচার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এই হাটে যদি এক লাখ গরু বিক্রি করা সম্ভব হয় তাহলে প্রায় পাঁচ লাখ লোক হাটে যাবে না।

মেয়র বলেন, ‘এবারও আমরা জবাইখানার জন্য জায়গা ঠিক করেছি। সেখানে প্রায় এক হাজার গরু কোরবানি দেওয়ার জন্য প্ল্যাটফর্ম প্রস্তুত করেছি। আগামী ১০ জুলাইয়ের মধ্যে কেউ ডিএনসিসির ডিজিটাল হাট থেকে গরু কিনে বুকিং দিলেই আমরা গরু জবাই দিয়ে তাদের বাসায় মাংস পৌঁছে দেব।’

মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘এবারের ডিজিটাল হাটে স্ক্রো পদ্ধতি মানা হবে। ফলে গরু বিক্রির সঙ্গে সঙ্গেই সেই টাকা বিক্রেতা পাবেন না। এটা চলে যাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্টে। যখন ক্রেতা গরু হাতে পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করবেন এবং কোনো অভিযোগ নেই বলে জানাবেন তখনই গরুর বিক্রেতা টাকা পাবেন। এবার আমরাই এই স্ক্রো পদ্ধতিটা ডিজিটাল হাটে যুক্ত করেছি।’

ডিএনসিসির অধীনে এই ডিজিটাল হাটে ই-ক্যাব (ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) এবং বাংলাদেশ ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিডিএফএ) অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের খামারগুলো তাদের পশু বিক্রি করতে পারবে। এরই মধ্যে পশু ক্রয়-বিক্রয়ের নিয়মও ঠিক করে দেওয়া হয়েছে।

উদ্বোধনের পরই এক লাখ ৪৮ হাজার টাকায় ডিজিটাল হাট থেকে গরু কেনেন প্রধান অতিথি স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, গত বছরও ডিজিটাল হাট সফল হয়েছে। করোনা মহামারির মধ্যে যত বেশি পশু অনলাইনে কেনা যাবে, তত বেশি সংক্রমণ মোকাবেলা করা যাবে। এ সময় তিনি মানুষকে অনলাইনে পশু কিনতে আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘দেশে ৪১ কোটি ২২ লাখ ৪৪ হাজার গবাদি প্রাণী মজুদ রয়েছে। যার মধ্যে এক কোটি ১৯ লাখ পশু কোরবানির জন্য রয়েছে। গত দুই ঈদে আমরা দেশের বাইরে থেকে পশু আসতে দিইনি। এবারও যেন দেশের বাইরে থেকে পশু আসতে না পারে সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমরা সীমান্তে যোগাযোগ রাখছি যাতে চোরাইপথে পশু আসতে না পারে।’

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘করোনার মধ্যে কোরবানির পশুর হাট নিয়ে আমরা উদ্বেগের মধ্যে আছি। তবে এ ক্ষেত্রে অনলাইন পশুর হাট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তা ছাড়া ঢাকায় পশু কিনে রাখা একটু সমস্যাই। তবে এখানে কোরবানির সময় পর্যন্ত পশু রাখা যায়। সবাই যেন ডিজিটাল হাট থেকে কোরবানির পশু কেনেন তার জন্য বেশি বেশি প্রচার করতে হবে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, এখন বাংলাদেশের মানুষ শুধু কোরবানির পশুই নয় বরং সব কিছুই অনলাইনে কিনছে। কারণ কেনাকাটার সেই সম্ভাবনাটা দেশে তৈরি হয়েছে। করোনা মহামারির সময় সবাই সরকারি সেবা থেকে প্রতিটি ক্ষেত্রে ডিজিটাল বাংলাদেশের উপকারিতা পেয়েছে। এই সময় ৯৮ শতাংশ ভূখণ্ড ডিজিটাল কানেকটিভিটির মধ্যে আছে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহেমদ পলক বলেন, ‘ডিজিটাল হাটের প্রচারণা সারা দেশে পৌঁছে দিতে চাই। আশা করি, করোনার এই সময় ক্রেতারা আস্থা নিয়ে অনলাইন হাট থেকে পশু কিনবেন। তবে এ ক্ষেত্রে ক্রেতারা যাতে কোনো অভিযোগ দিতে না পারে সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি অনলাইন হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার জন্য একটি কল সেন্টার করা আবশ্যক।’

অনুষ্ঠানে আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম, এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন, ডেইরি মালিক সমিতির সভাপতি সালাউদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ ইমরান হোসেন, ই-ক্যাব সভাপতি শমী কায়সার, ই-ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহেদ তমালসহ অন্যরা যুক্ত ছিলেন।

ই-ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এক ক্লিকেই হাট থেকে হাতে পশু পৌঁছে দিতে এবার এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’



সাতদিনের সেরা