kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ মাঘ ১৪২৮। ২০ জানুয়ারি ২০২২। ১৬ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

চট্টগ্রামে করোনা চিকিৎসা

জোড়াতালিতে চলছে ৫৩টি হাসপাতাল

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

৫ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



জোড়াতালিতে চলছে ৫৩টি হাসপাতাল

লোকবলসংকটের কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের ৫৩টি সরকারি হাসপাতালে (চারটি অস্থায়ীসহ) জোড়াতালি দিয়ে চলছে করোনা চিকিৎসাসেবা। করোনার দুই হাজার ২৫১ শয্যার এসব হাসপাতালে বর্তমানে মঞ্জুরীকৃত পদের বিপরীতে প্রায় ১৫ শতাংশ চিকিৎসকের পদ শূন্য। এ ছাড়া নার্সের পাশাপাশি তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর পদেও সংকট আছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কর্মচারীর পদ বেশি খালি থাকায় এই পদে সংকটও বেশি হচ্ছে। এ কারণে রোগীর চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে চিকিৎসক-নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক ও নার্সের সংকটের কারণে অন্য হাসপাতাল থেকে প্রেষণে এনে কাজ চালানো হচ্ছে। তবে সব হাসপাতালে ওয়ার্ড বয়, সুইপারসহ কর্মচারীর মারাত্মক সংকট থাকায় এই পদে প্রেষণও বন্ধ।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ৫৩টি হাসপাতালে চিকিৎসকের মোট পদ এক হাজার ৩৭০টি। এর মধ্যে বর্তমানে চিকিৎসক আছেন এক হাজার ১৬৯ জন। ২০১টি পদ শূন্য রয়েছে, যা মোট মঞ্জুরি পদের ১৪.৬৭ শতাংশ। চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালকের কার্যালয় থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে ৫৫৭ জন চিকিৎসক চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে গত শনিবার।

এ বিষয়ে গতকাল রবিবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘আমরা চট্টগ্রাম বিভাগের জন্য এখন ৫৫৭ জন চিকিৎসকের চাহিদাপত্র দিয়েছি। শূন্যপদগুলোতে নিয়োগ হলেও আরো ৩৫৬ জন নতুন চিকিৎসক প্রয়োজন। আমরা ডিজি (স্বাস্থ্য অধিদপ্তর) স্যারের কাছে চিকিৎসকের শূন্যপদের বিষয়টি জানিয়েছি এবং পাশাপাশি কভিড চিকিৎসাসেবার জন্য চিকিৎসক নিয়োগের চাহিদাপত্র দিয়েছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘চিকিৎসক ও নার্সের তুলনায় আমরা এখন সবচেয়ে বেশি সংকটে আছি চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়ে। এই পদে দীর্ঘদিন নিয়োগ না হওয়ায় কর্মচারীর সংকট বেশি।’

লোকবলসংকটের বিষয়ে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি গতকাল বলেন, ‘হাসপাতালগুলোতে শয্যা অনুপাতে হিসাব করলে চিকিৎসকের সংকট রয়েছে। তবে চিকিৎসক-নার্সের যতটা না সংকট, তার চেয়ে বেশি সংকট ওয়ার্ডবয়, আয়া, সুইপারসহ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির লোকবলের। আমরা আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার পরও কর্মচারীর সংকট আছে। চারজনের কাজ আমরা এখন দুজনকে দিয়ে করাচ্ছি।’

জানা যায়, চট্টগ্রাম বিভাগে সরকারি হাসপাতালের মধ্যে ১০১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ১১টি জেলা সদর হাসপাতাল ও চারটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল আছে। এর মধ্যে ৫৩টিতে করোনার চিকিৎসাসেবা চলছে। এগুলোর মধ্যে চিকিৎসকের শূন্যপদ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে ৩১টি ও কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজে ৪০টি। এসব শূন্যপদের বিপরীতে দুই মেডিক্যালের জন্য ৮০ জন চিকিৎসক চাওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া সরকারি ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রাম নগরে রেলওয়ে কভিড হাসপাতাল ও হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতাল (বেসরকারি); নোয়াখালীর শহীদ বুলু স্টেডিয়াম করোনা সেন্টার এবং ফেনীর সোনাগাজীতে মঙ্গলকান্দি ২০ শয্যা হাসপাতালে অস্থায়ীভাবে করোনার চিকিৎসা করা হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে হলি ক্রিসেন্টে ১০ জন, রেলওয়ে হাসপাতালে ১০ জন, নোয়াখালীর শহীদ বুলু করোনা সেন্টারে ১০ জন ও ফেনীর মঙ্গলকান্দি হাসপাতালে ছয়জন চিকিৎসক নিয়োগের চাহিদাপত্র দেওয়া হয়। বাকি শূন্য ও নতুন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়ার চাহিদাপত্র অন্য ৫১টি হাসপাতালের জন্য।

শনাক্তের হার ৩৩ শতাংশ

চট্টগ্রামে করোনা শনাক্তের হার ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ৮.৮৮ শতাংশ বেড়ে গতকাল রবিবার ৩৩.৮৮ শতাংশে দাঁড়ায়। নমুনা পরীক্ষা অনুপাতে প্রতি তিনজনের মধ্যে একজনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আগের ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার) নমুনা পরীক্ষা অনুপাতে শনাক্তের হার ছিল ২৫ শতাংশ।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে মৃত্যু বেড়েছে পাঁচজন। আগের ২৪ ঘণ্টায় একজন মারা গেলেও সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় তা বেড়ে ছয়জন হয়েছে। এর মধ্যে নগরে দুজন, জেলায় চারজন। এ নিয়ে চট্টগ্রামে মোট মৃত্যুবরণকারী ৭১৭ জনের মধ্যে নগরে ৪৮১ ও জেলায় ২৩৬ জন।

গতকাল চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন কার্যালয়ের করোনার তথ্য বিশ্লেষণ করে আরো জানা যায়, এদিন আটটি পরীক্ষাগারে এক হাজার ৮৯টি পরীক্ষা করে ৩৬৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে নগরে ২২৩ জন, জেলায় ১৪৬ জন। নগরে নমুনা পরীক্ষা (৭১৮টি) অনুপাতে গতকাল শনাক্তের হার ছিল ৩১.০৬ শতাংশ। জেলায় নমুনা পরীক্ষা (৩৭১) অনুপাতে শনাক্তের হার ৩৯.৩৫ শতাংশ। এ নিয়ে চট্টগ্রামে করোনা শনাক্ত হয়েছে মোট ৬০ হাজার ৩৬৮ জনের।

জেলা স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক সুজন বড়ুয়া জানান, গতকাল পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে পাঁচ লাখ এক হাজার ১৪৩টি। এর মধ্যে নগরে চার লাখ ৪৮ হাজার ৭৫০টি ও জেলায় ৫২ হাজার ৩৯৩টি। নগরে মোট নমুনা পরীক্ষা অনুপাতে শনাক্তের (৪৬ হাজার ৯৬৭ জন) হার ১০.৪৭ শতাংশ ও জেলায় মোট নমুনা পরীক্ষা অনুপাতে শনাক্তের (১৩ হাজার ৪০১ জন) হার ২৫.৫৮ শতাংশ। আর চট্টগ্রামে মোট নমুনা পরীক্ষা অনুপাতে শনাক্তের হার এখন ১২.০৫ শতাংশ আর শনাক্ত অনুপাতে মৃত্যুর হার ১.১৯ শতাংশ।



সাতদিনের সেরা