kalerkantho

শুক্রবার । ৬ কার্তিক ১৪২৮। ২২ অক্টোবর ২০২১। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

হত্যার পর নারীর লাশ ফেলা হয় নদীতে

রহস্য উদঘাটন করে দুই হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



রাজধানীতে নাসরিন (৩৫) নামের এক নারীকে হত্যার পরিকল্পনা আঁটেন আবদুল হাই নামের এক ওষুধ ব্যবসায়ী ও তাঁর প্রাইভেটকারের চালক। সে অনুযায়ী নাসরিনকে জুতা কিনে দেওয়ার কথা বলে মোবাইল ফোনে ডেকে নেন আবদুল হাই। তাঁর ফার্মেসিতে নিয়ে কৌশলে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে প্রাইভেট কারে তুলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরতে থাকেন। রাত ১০টার দিকে খিলক্ষেত এলাকার তিন শ ফুট রাস্তায় নিয়ে প্রাইভেট কারের ভেতরে ওই নারীকে গলা টিপে হত্যা করেন তাঁরা। এরপর নাসরিনের লাশ কাঞ্চন সেতুর ওপর থেকে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর হত্যাকারীরা বাসায় ফিরে গিয়ে স্বাভাবিকভাবেই চলতে থাকেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। পুলিশ তদন্তে নেমে প্রযুক্তির সহায়তায় আবদুল হাই ও তাঁর প্রাইভেটকারের চালক রানাকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটেছে গত ১৮ মে রাতে।

পুলিশ জানায়, সৌদিপ্রবাসী নাসরিনের সঙ্গে তাঁর স্বামীর বিচ্ছেদ হয় কয়েক বছর আগে। এর পর থেকে তিনি এক মেয়েকে নিয়ে শনির আখড়ার গোয়ালবাড়ি এলাকার একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। বিচ্ছেদের পর নাসরিন নিজে কিছু করার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে ভারত থেকে ওষুধ এনে বিক্রি শুরু করেন। আর সেই সূত্রে পরিচয় হয় যাত্রাবাড়ীর ইসলাম ফার্মেসির মালিক আবদুল হাইয়ের সঙ্গে। এরপর তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সুবাদে আবদুল হাই নাসরিনের বাসায় যাতায়াত করতেন। কিছুদিন আগে থেকে বিয়ের জন্য আবদুল হাইকে চাপ দিতে থাকেন নাসরিন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন আব্দুল হাই।

জানা গেছে, বেশ কিছুদিন বাড়ি না ফেরা এবং মোবাইল ফোন বন্ধ থাকার কারণে নাসরিনের মা কদমতলী থানায় প্রথমে নিখোঁজ জিডি এবং পরে গত ২৪ জুন অপহরণের মামলা দায়ের করেন। মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় কদমতলী থানার সাব-ইন্সপেক্টর লালবুর রহমানকে। তিনি তদন্তে নেমে জানতে পারেন, নাসরিনের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল আবদুল হাইয়ের। পরে গত বৃহস্পতিবার আবদুল হাইকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। গ্রেপ্তার করা হয় আবদুল হাই ও তাঁর গাড়ির চালক রানাকে। দুজনই আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।



সাতদিনের সেরা