kalerkantho

শুক্রবার । ৬ কার্তিক ১৪২৮। ২২ অক্টোবর ২০২১। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ফাঁকা সড়কে বেপরোয়া গতি, ঝরল পাঁচ প্রাণ

টাঙ্গাইলে পিকআপ অ্যাম্বুল্যান্স সংঘর্ষে আহত হয়েছেন পাঁচজন

টাঙ্গাইল ও ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি   

৪ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফাঁকা সড়কে বেপরোয়া গতি, ঝরল পাঁচ প্রাণ

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে গতকাল মুখোমুখি সংঘর্ষে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া অ্যাম্বুল্যান্স ও পিকআপ। ছবি : কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রামের ক্যান্সার রোগী ফরিদা বেগম (৪৫)। তিনি মেয়ে ও বড় বোনকে নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে একটি অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া করে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে খাজা ইউনুস আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যাচ্ছিলেন ক্যামোথেরাপি দিতে। পথে পিকআপ ও অ্যাম্বুল্যান্সটির মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেছে এই তিনজনসহ অ্যাম্বুল্যান্সের পাঁচ আরোহীর। আহত হয়েছেন পাঁচজন। তাঁদের মধ্যে একজন অ্যাম্বুল্যান্সের ও চারজন পিকআপের আরোহী।

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার হাতিয়া এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে গতকাল শনিবার সকালে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লকডাউনে ফাঁকা সড়কে পিকআপ ও অ্যাম্বুল্যান্স দুটিই বেপরোয়া গতিতে চলছিল।

ঢাকার ধামরাইয়ের কুল্লা গ্রামের ঠিকাদার মনোয়ার হোসেন রিপন (৪৫) সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পাঁচ দিন পর গতকাল সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে মারা গেছেন। একই দুর্ঘটনায় আহত বিএসএমএমইউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রিপনের কাকা ঢাকা জেলা (উত্তর) স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেনের (৫০) অবস্থা আশঙ্কাজনক।

কালিহাতীতে নিহত ফরিদা বেগম চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানার আগ্রাবাদ এলাকার মোর্শেদের স্ত্রী। নিহত অন্যরা হলেন—ফরিদা বেগমের মেয়ে মারিয়া আক্তার (১৯), বড় বোন ফেরদৌসী বেগম (৫৫) এবং অ্যাম্বুল্যান্সের চালক সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার চালা এলাকার আক্কাস আলীর ছেলে সাদ্দাম হোসেন (৩০) ও সহকারী (হেল্পার) সলঙ্গা থানার রানীনগর এলাকার আব্দুর রাজ্জাক মণ্ডলের ছেলে জুয়েল মিয়া (২২)। আহতদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার ওসি শফিকুল ইসলাম ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উত্তরবঙ্গ থেকে ছেড়ে আসা মাছবোঝাই একটি পিকআপ ঢাকা যাচ্ছিল। অ্যাম্বুল্যান্সটি সকাল ৮টার দিকে মহাসড়কের হাতিয়ায় পৌঁছলে পিকআপের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। আহত হন সাতজন। দুর্ঘটনার শব্দ ও আহতদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন। আহতদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালের ট্রাফিক পুলিশ বক্সের ইনর্চাজ মো. নবিন জানান, আহতদের হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক একজনকে মৃত ঘোষণা করেন। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো একজনের মৃত্যু হয়।

পুলিশ জানায়, রাতে গাড়ি চালিয়ে চালকরা তন্দ াচ্ছন্ন হয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলায় অথবা ওভারটেক করতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতদের স্বজনরা পৌঁছলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ হস্তান্তর করা হবে।

ঠিকাদারি কাজের বিল তুলতে গত ২৮ জুন রাতে মাইক্রোবাসযোগে ধামরাই থেকে কক্সবাজারের রামু ক্যান্টনমেন্টে যাওয়ার পথে চকরিয়ায় একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে কুল্লা গ্রামের ইউনুস খানের ছেলে ঠিকাদার রিপন ও তাঁর কাকা ফারুক হোসেন গুরুতর আহত হন। প্রথমে তাঁদের চট্টগ্রাম সার্জিস্কোপ হাসপাতালে ও পরে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রিপন পাঁচ দিন লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। বিএসএমএমইউ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আতিকুর রহমান জানান, ফারুক হোসেন কথা বলতে পারলেও তাঁর হাত-পা ঠিকমতো কাজ করছে না।



সাতদিনের সেরা