kalerkantho

রবিবার । ৮ কার্তিক ১৪২৮। ২৪ অক্টোবর ২০২১। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

কেন্দ্রীয় কারাগারে ফেরত গেছেন রফিকুল আমীন

হাসপাতাল সেলে বসে জুম মিটিং

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কারাবিধি ভঙ্গ করে ডেসটিনির এমডি রফিকুল আমীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের প্রিজন সেলে বসে জুম মিটিং করায় তাঁকে শাস্তির আওতায় আনা হবে। গতকাল শনিবার তাঁকে হাসপাতালের প্রিজন সেল থেকে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফেরত নেওয়া হয়েছে বলে কারা সূত্র জানিয়েছে। জুম মিটিংয়ের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার কারণে ১৭ কারারক্ষীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।

কারাগারের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান, রফিকুল আমীনের জুম মিটিংয়ের ঘটনায় এরই মধ্যে কারারক্ষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এবার যিনি অপরাধ করেছেন তাঁকেও শাস্তির আওতায় আনার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে তাঁর ডিভিশন বাতিল হতে পারে। তাঁর সঙ্গে স্বজনদের দেখা-সাক্ষাৎ বন্ধ করে দেওয়াসহ আরো অনেক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার সুভাষ কুমার ঘোষ গতকাল বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ২০১২ সালের অক্টোবর মাসে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মানি লন্ডারিং মামলায় রফিকুল আমীনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর পর থেকেই তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। গত ৯ বছরে কয়েকবার তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতাল, বারডেম ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রোগী হিসেবে ভর্তি ছিলেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিলেন বিএসএমএমইউ হাসপাতালে। এ সময়কালে তিনি হদরোগ, কিডনি, অর্থোপেডিকস ও ডায়াবেটিসের সমস্যার কথা বলে ভর্তি হয়েছিলেন। এবার গত ১১ এপ্রিল তিনি ডায়াবেটিসের কথা বলে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালের প্রিজন সেলে ছিলেন। এবারই সবচেয়ে বেশি সময় তিনি হাসপাতালে ছিলেন বলে জানা গেছে। প্রিজন সেল থেকে তিনি প্রায়ই মোবাইল ফোন ব্যবহার করে জুম মিটিং করতেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া কারারক্ষীদের ম্যানেজ করে তাঁর সঙ্গে অনেকে দেখা করতে যেতেন বলেও তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর একটি জুম মিটিংয়ের প্রায় এক ঘণ্টার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপর কারা কর্তৃপক্ষ রফিকুল আমীনের পাহারায় থাকা চারজন প্রধান কারারাক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করে। এ ছাড়া ১৩ জন কারারক্ষীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। আর কারা অধিদপ্তর থেকে তিনি সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা এরই মধ্যে তদন্ত শুরু করেছেন।



সাতদিনের সেরা