kalerkantho

শুক্রবার । ৬ কার্তিক ১৪২৮। ২২ অক্টোবর ২০২১। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

কর্মীদের মুখে হাসি নেই

সজীব আহমেদ   

৪ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কর্মীদের মুখে হাসি নেই

চলমান কঠোর লকডাউনে হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখার কোনো নির্দেশনা দেয়নি সরকার। তবে রেস্তোরাঁয় বসে না খেয়ে অনলাইনে অর্ডার দিয়ে বা খাবার বাসায় নিয়ে যেতে বলা হয়েছে। কিন্তু এই শর্তে হোটেল-রেস্তোরাঁ খোলা রাখার আগের অভিজ্ঞতা থাকায় লোকসানের আশঙ্কায় এবার হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিকরা তাঁদের প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার সাহস পাচ্ছেন না।

অনলাইন ফুড ডেলিভারি বিক্রি পুরো ব্যবসার মাত্র ৪ থেকে ৫ শতাংশের বেশি নয় বলে জানান বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির নেতারা। এ কারণে রাজধানীর ৬০ শতাংশ রেস্তোরাঁ বন্ধ রেখেছে মালিকপক্ষ। যেসব হোটেল-রেস্তোরাঁ খোলা আছে তারাও ক্রেতা পাচ্ছে না। বেশির ভাগ হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকা এবং অনলাইনে অর্ডার খুবই কম থাকায় খাবার ডেলিভারি কর্মীদের ব্যস্ততা নেই।

অনলাইনে ফুড ডেলিভারি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘হাংরিনাকি’র কর্মী নূরে আলম রাজধানীর বনানী এলাকায় ফুড ডেলিভারি দিয়ে থাকেন। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আগের লকডাউনগুলোতে আমরা প্রচুর অর্ডার পেতাম। কঠোর লকডাউনের কারণে অর্ডার একদম কমে গেছে। আজ (শনিবার) দুপুর দেড়টা পর্যন্ত একটিও অর্ডার পাইনি আমি। গত শুক্রবার অর্ডার পেয়েছি মাত্র চারটি। অথচ আগের দিনে ১২ থেকে ১৫টি অর্ডার পেতাম। মাস শেষে ২০-২২ হাজার টাকা আসত। এই অবস্থা চলতে থাকলে নিজের চলাই কষ্টকর হয়ে যাবে। পরিবারকে কিভাবে টাকা পাঠাব?’

হাংরিনাকির আরেক কর্মী সোলাইমান আগে গাজীপুরে একটি গার্মেন্টে কোয়ালিটি অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। করোনার শুরুতে গার্মেন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি গত বছর থেকে ফুড ডেলিভারির চাকরি নেন। স্বাভাবিক সময়ে মাসে ২০ হাজার টাকার মতো আয় করতে পারতেন। তিনি বলেন, ‘প্রতি মাসে নিজের খরচ বাদে পরিবারে ১০-১২ হাজার টাকা পাঠাতে পারতাম। কঠোর লকডাউনের কারণে অনেক হোটেল বন্ধ। এখন অর্ডার অনেক কম। আমাদের বেসিক আট হাজার টাকা থাকায় কিছুটা রক্ষা। তবে পাঠাও, ফুড পান্ডার কর্মীদের কোনো বেসিক নেই। তাদের নিজেদের চলাই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।’

ফুড পাণ্ডায় ফুড ডেলিভারির কাজ করেন শফিউর রহমান জিহাদ। তাঁর নির্ধারিত কর্মক্ষেত্র বসুন্ধরা আবাসিক, কালাচাঁদপুর ও তিন শ ফুট এলাকা। দুই মাস ধরে লালমনিরহাট থেকে ঢাকায় এসে ফুড পাণ্ডায় চাকরি করছেন। প্রথম মাসে ভালো টাকা আয় হলেও এই মাসে খুব দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি। চলমান কঠোর লকডাউনে অর্ডার না পাওয়া নিয়ে তিনিও একই ধরনের হতাশার কথা বলেন।

ফুড পান্ডার আরেক কর্মী আব্দুল আহাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ফুড পান্ডায় যাঁরা ফুড ডেলিভারি হিসেবে কাজ করেন তাঁদের ৮০ শতাংশই আমার মতো শিক্ষার্থী। কঠোর লকডাউনে মানুষ খাবারের অর্ডার করছে না। আমরা তো অর্ডার পেলেই টাকা পাই। কোনো বেসিক বেতন নেই। তাই অর্ডার কমে গেলে আমাদের টেনশন বেড়ে যায়।’

পাঠাওয়ে নতুন বাজার, বারিধারা, বসুন্ধরা ও গুলশান এলাকায় ফুড ডেলিভারি দেন শরীফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘কঠোর লকডাউনে শুধু পাঠাও না, ফুড ডেলিভারির অন্য সব প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও অর্ডার পাচ্ছে না।’ 

বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অনলাইন ফুড ডেলিভারি বিক্রি আমাদের পুরো ব্যবসার ৪ থেকে ৫ শতাংশের বেশি নয়। এবার লকডাউনে হোটেল-রেস্তোরাঁগুলো বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়নি। শুধু পার্সেল দেওয়ার অনুমতি নিয়ে হোটেল-রেস্তোরাঁ খোলা রাখা মানেই ক্ষতির মধ্যে পড়া। সে জন্য ৬০ শতাংশের বেশি হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখা হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, চলমান কঠোর লকডাউনে খাবারের দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁ সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শুধু খাবার বিক্রি (অনলাইনে কেনা বা খাবার নিয়ে যাওয়া) করতে পারবে বলে নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।



সাতদিনের সেরা