kalerkantho

বুধবার । ১১ কার্তিক ১৪২৮। ২৭ অক্টোবর ২০২১। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

খুলনার ৩ পিসিআর ল্যাবেই সমস্যা

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গতকাল থেকে চালু হয়েছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পিসিআর ল্যাব

গৌরাঙ্গ নন্দী, খুলনা   

২ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



খুলনা বিভাগে করোনা রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। অনেকেই বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে। একেবারে মারাত্মক অবস্থায় উপনীত হওয়া রোগীদের হাসপাতালে আনা হচ্ছে; কিন্তু ঠাঁই মিলছে না। রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষায় আগ্রহীদের সংখ্যাও বেড়েছে। সে ক্ষেত্রেও বিপত্তি। খুলনা শহরের তিনটি পিসিআর ল্যাবেই কোনো না কোনো সমস্যা। মেডিক্যাল কলেজের ল্যাবটিতে দূষণের (কটামেনিটেড) ঘটনা ঘটেছে। আরো একটিতে সমস্যা, পরীক্ষা করানো যাচ্ছে না; তৃতীয়টি কোনো রকমে চলছে। এই অবস্থায় অন্ধের যষ্ঠি হিসেবে এগিয়ে এসেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পিসিআর ল্যাব। গতকাল বৃহস্পতিবার হতে এই ল্যাবে পরীক্ষা শুরু করা হয়েছে।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. মো. মেহেদী নেওয়াজ  জানান, খুবিতে এক দিনে মাত্র ৯৪টি নমুনা পরীক্ষা করার সুযোগ রয়েছে। খুলনা মেডিক্যাল কলেজের আরটি-পিসিআর ল্যাব থেকে কিট, রি-এজেন্ট নিয়ে এখানকার জনবল গিয়েই খুবির ল্যাব থেকে পরীক্ষাগুলো করিয়ে আনবে। তা না হলে রোগীর ছাড়পত্র দেওয়া যাবে না। আর করোনা হাসপাতাল থেকে রোগী ছাড়া না গেলে নতুন করে ভর্তি করা যাবে না।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় খুলনা বিভাগে মারা গেছে ৩৯ জন। এর মধ্যে খুলনা জেলায় আটজন, কুষ্টিয়ায় সাতজন, যশোরে সাতজন, ঝিনাইদহে চারজন, সাতক্ষীরায় চারজন, মেহেরপুরে তিনজন, নড়াইলে তিনজন, চুয়াডাঙ্গায় দুজন ও বাগেরহাটে একজন মারা গেছে।

খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, খুলনা বিভাগে বর্তমানে করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার। অথচ এই বিভাগের ১০ জেলায় করোনা রোগীর চিকিৎসার জন্য শয্যাসংখ্যা মাত্র এক হাজার ১৯৩টি। এর মধ্যে খুলনা শহরের তিনটি হাসপাতালে শয্যাসংখ্যা ৩০২টি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে খুলনার বিশেষায়িত শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে ৪৫টি শয্যা প্রস্তুত করার কাজ চলছে। খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডেডিকেটেড করোনা ইউনিটের ১৩০ শয্যার স্থলে রোগী আছে দেড় শরও বেশি। উদ্বৃত্ত রোগীরা মেঝেতে আছে। প্রকারান্তরে রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি করাতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৫৭ হাজার ৫০২ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছে ৩৮ হাজার ৯৩০ জন। মারা গেছে এক হাজার ১০৯ জন। করোনা পজিটিভ হয়ে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ১৭ হাজার ৮৭৪ জন। শয্যা সংকটে নিজ বাসায় বা বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে বিপুলসংখ্যক রোগী। তাদের কাছ থেকে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। খুলনায় তিন হাসপাতালে শয্যাসংখ্যা ৩০২-এর বিপরীতে রোগীর সংখ্যা চার হাজার ৮১৬ জন। গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. গাজী মিজানুর রহমান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তাঁর ওয়ালে লিখেছেন, হাসপাতালে শষ্যার চেয়ে রোগী বেশি। হাসপাতালের সামনে অ্যাম্বুল্যান্সে রোগী ভর্তির জন্যে অপেক্ষায় আছে। তিনি রোগী ভর্তি করতে না পেরে তাঁর অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন। অবশ্য, সেখানে ৯৮-এর স্থলে আরো চারটি শয্যা বাড়িয়ে ১০২ করা হয়েছে।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আরএমও ডা. সুহাস রঞ্জন হালদার অক্ষেপ করে বলেছেন, একটি রোগীর মৃত্যু সাপেক্ষে নতুন রোগীর ভর্তির জন্যে অপেক্ষা করতে হচ্ছে, এর চেয়ে কষ্টকর আর কি আছে! খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক রাশেদা সুলতানা জানান, হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংকটের কারণে শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে ৪৫টি শয্যা প্রস্তুত করা হচ্ছে। শনিবার থেকে সেখানে রোগী ভর্তি করা যাবে। চিকিৎসক ও সেবক-সেবিকাদের সেবা প্রদানে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রসঙ্গত, খুলনা বিভাগের মধ্যে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় চুয়াডাঙ্গায় গত বছরের ১৯ মার্চ।