kalerkantho

শনিবার । ১০ আশ্বিন ১৪২৮। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৭ সফর ১৪৪৩

যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ

♦ ওই নেতার বিরুদ্ধে গর্ভপাতেরও অভিযোগ উঠেছে
♦ ধর্ষণচেষ্টায় অভিযুক্তকে ছেড়ে দিল পুলিশ!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে এক যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, গর্ভপাত ঘটানো এবং পরে ভুক্তভোগীকে বিয়ে ও তাঁর গর্ভের সন্তানের পিতৃত্ব অস্বীকার করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক নারীকে ধর্ষণচেষ্টায় অভিযুক্তকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলার নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ (২২)।

গৌরীপুরে অভিযুক্ত ছানাউল হক ওরফে হক মিয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও পৌর এলাকার গজন্দর গ্রামের মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে। অভিযোগকারী গৌরীপুর সরকারি কলেজের ছাত্রী। তিনি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় গত ১৬ জুন তিনি ময়মনসিংহ জেলা শিশু ও নারী নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতে নালিশি আবেদন করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে ময়মনসিংহ জেলা পিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন।

অভিযোগকারী, স্থানীয় সূত্র ও আদালতে লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, কলেজছাত্রীর ভাই ওয়ার্ড যুবলীগের সদস্য হওয়ায় ছানাউল প্রায়ই তাঁদের বাড়িতে যেতেন। চার বছর ধরে তাঁদের পরিচয়। এর মধ্যে কলেজে যাওয়া-আসার পথে এক ছেলে কলেজছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করতেন। এক পর্যায়ে ছেলেটি ফটোশপের মাধ্যমে তাঁর ও কলেজছাত্রীর ছবি একত্র করে নিজের ফেসবুক আইডিতে ছাড়েন। এ বিষয়ে ছাত্রী ঈশ্বরগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। এটির তদন্তের দায়িত্ব পায় ডিবি পুলিশ।

এ ঘটনায় সহযোগিতা করতে ২০১৭ সালের ২১ ডিসেম্বর ছানাউল তাঁকে ফোন করে বলেন, ডিবির তদন্ত কর্মকর্তা তাঁকে ময়মনসিংহে গিয়ে দেখা করতে বলেছেন। কথাটি বিশ্বাস করে তিনি ময়মনসিংহ গেলে তাঁকে একটি হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ করেন ছানাউল। এতে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। পরে বিয়ে নিবন্ধন ও দ্রুতই দ্বিতীয়বার সন্তান নেওয়ার শর্তে তিনি দুই মাসের গর্ভ নষ্ট করেন। এরপর তাঁকে পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহরের একটি কাবিননামা তুলে দেন ছানাউল। এদিকে গাজীপুরে কলেজছাত্রীর ভাড়া বাসায় ছানাউল মাঝেমধ্যে থাকতেন। এ অবস্থায় কলেজছাত্রী ফের অন্তঃসত্ত্বা হন। ঘটনা জানতে পেরে ছানাউল এটা তাঁর সন্তান নয় বলে অস্বীকারের পাশাপাশি বিয়ে নিবন্ধন ভুয়া বলে জানান।

ময়মনসিংহ জেলা পিবিআই পরিদর্শক মো. ফিরোজ হোসেন কালের কণ্ঠকে জানান, তদন্ত চলছে। কলেজছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার কাগজপত্র জমা দিয়েছেন। দ্রুতই তদন্তকাজ শেষ করে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

অভিযুক্ত ছানাউল বলেন, ‘তাঁর পেটের বাচ্চা যে আমার হবে সেটা পরীক্ষা-নিরীক্ষার দরকার। তা ছাড়া মামলার বিষয়ে আদালতেই প্রমাণিত হবে। আমাকে হেয় করার জন্যই এই মামলা করা হয়েছে।’

বেগমগঞ্জে অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন (৩০) উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মুগা মিয়ার বাড়ির আবদুল মান্নানের ছেলে।

গৃহবধূ সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, গত ২৪ জুন তাঁর স্বামী ও পরিবারের অন্য সদস্য না থাকার সুযোগে তাঁকে বসতঘরে ধর্ষণের চেষ্টা করেন দেলোয়ার। তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে দোলোয়ারকে ধরে ফেলে। পরে পুলিশ দেলোয়ারকে আটক করে থানায় নেয়। পরের দিন সকালে দেনদরবার করে স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা স্বপন ও পলাশ থানা থেকে দেলোয়ারকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। দেলোয়ার হলেন সুমন বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড শহীদের ছোট ভাই। ভুক্তভোগী বলেন, ‘সুমন বাহিনীর কয়েকজন সন্ত্রাসী আমার মাকে মারধর করে ঘটনাটি থানা পুলিশ করলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এরপর ওই দিন প্রতিপক্ষের হুমকির মুখে থানায় মামলা করতে যেতে পারিনি।’

বেগমগঞ্জ থানার ওসি মুহাম্মদ কামরুজ্জামান শিকদার জানান, ২৪ জুন ৯৯৯ থেকে কল পেয়ে দেলোয়ার নামের এক যুবককে আটক করে থানায় আনে পুলিশ। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ না পাওয়ায় পরের দিন তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন নোয়াখালী ও ময়মনসিংহ (আঞ্চলিক) প্রতিনিধি]



সাতদিনের সেরা