kalerkantho

সোমবার  । ১২ আশ্বিন ১৪২৮। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৯ সফর ১৪৪৩

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান

পরিবেশ ঠিক রেখে ইতিহাস ধারণের পরামর্শ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



স্বাধীনতা স্তম্ভ প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পরিবেশ ও প্রতিবেশকে নষ্ট না করে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে প্রস্ফুটিত করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। উদ্যানের সবুজায়নকে গুরুত্ব না দেওয়া এবং ইতিহাসকে পাশে ঠেলে রাখারও অভিযোগ করেছেন অনেকেই। গতকাল বৃহস্পতিবার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত মতবিনিময়সভায় এ পরামর্শ দেওয়া হয়।

জবাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, ‘আর ১০-১২টির বেশি গাছ কাটা হবে না। বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে। তাঁদের পরামর্শে নতুন করে বৃক্ষরোপণ করা হবে। এ কাজের মধ্য দিয়ে একটি অভিজ্ঞতা হলো, ভবিষ্যতে যেকোনো কাজে বিশেষজ্ঞদের আগে থেকেই যুক্ত করা হবে।’

পূর্ত ভবনে আয়োজিত মতবিনিময়সভায় উদ্ভিদবিদ, পরিবেশবিদ, স্থপতি, প্রকৌশলী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাংবাদিক ও বিশিষ্টজনদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গাছ কেটে রেস্তোরাঁ নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভা সঞ্চালনা করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব খাজা মিয়া। সভার শুরুতে স্থপতি আসিফুর রহমান ভূইয়া ত্রিমাত্রিক নকশা উপস্থাপন করেন।

একাত্তর টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী ও প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল হক বাবু বলেন, এটি এত গুরুত্বপূর্ণ জায়গা, অথচ নকশার এরিয়া ভিউ কিংবা টপ ভিউতে কোনো দর্শন ফুটে ওঠে না। তিনি খাবার দোকান, টয়লেট মাটির নিচে করার পরামর্শ দেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আজমল হোসেন ভূইয়া বলেন, বিশ্বের যেকোনো দেশে স্থাপনা করার সময় সম্ভাব্যতা যাচাই করতে বিজ্ঞানীসহ সংশ্লিষ্টদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে তা হয় না! শহরে যেখানে মানুষের অনুপাতে গাছ কম, সেখানে এই উদ্যান ফুসফুস হিসেবে কাজ করছে। জিয়াউর রহমান ইতিহাসকে ভুলিয়ে দেওয়ার জন্য পার্ক করেছিলেন। কিন্তু এখনকার নকশা দেখে মনে হলো এটাকে বিনোদনকেন্দ্রে রূপান্তর করা হচ্ছে।

অধ্যাপক জসিমউদ্দিন বলেন, ঢাকা শহরে সবুজায়ন ২৫ শতাংশের স্থলে মাত্র ৭ শতাংশ রয়েছে। ফলে এখানে সবুজ প্রকৃতিকে রক্ষা করতে হবে। কম স্থাপনা নির্মাণ করতে হবে। পরিবেশবান্ধব দেশি গাছ বেশি লাগাতে হবে।

অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খান বলেন, রেসকোর্স ময়দান মানেই বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ। এতে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণকে গুরুত্ব দিয়েই নকশা করা উচিত। অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমুজাদ্দাদী আলফাসানী বলেন, গাছের জন্য লাইটিংও দূষণের একটি কারণ। সেখানে যেহেতু বিভিন্ন ধরনের গাছ আছে, তাই এতে লাইটিং কেমন হবে, তাতেও নজর দিতে হবে।

সিনিয়র সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, প্রকল্প নিয়ে প্রকৃত কোনো তথ্য না থাকায় গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। পরিষ্কার করুন কতগুলো গাছ কাটা হবে। পরিবেশ-জীবন-ইতিহাসকে সমন্বয় করে দ্রুত প্রকল্পটি সম্পন্ন করুন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক শাখাওয়াত হোসেন বলেন, রেসকোর্স ময়দানের ইতিহাস মানে ৭ই মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণ আর পাকিস্তানিদের আত্মসমর্পণ। কিন্তু এগুলো যেন আড়ালেই চলে যাচ্ছে। স্থাপনাগুলো ভূ-গর্ভে করার তাগিদ দেন তিনি।

অধ্যাপক আবদুল কাদের বলেন, এই প্রকল্পে এরিয়া ভিউয়ের থিম এবং থিম কালার নির্ধারণ করা জরুরি। বিমান থেকেও যেন বঙ্গবন্ধুর তর্জনী দেখা যায়। অধ্যাপক মনিরুজ্জামান খন্দকার বলেন, এত বেশি ওয়াকওয়ে রাখা হয়েছে, তার বদলে বেশি করে গাছ রাখা উচিত। তিনি কালী মন্দিরের জন্য আলাদা সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের তাগিদ দেন।

সমাপনী বক্তব্যে মন্ত্রী মোজাম্মেল হক বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৬০-৭০টি গাছ কাটতে হয়েছে। বাণিজ্যিক অর্থে সেখানে কোনো রেস্তোরাঁ হচ্ছে না। সাতটি ফুড কিয়স্ক হচ্ছে, যেখানে খাবার বাইরে থেকে কিনে এনে বিক্রি করা হবে। প্রতিদিন পাঁচ হাজার দর্শনার্থী যাতে আসে সে জন্য উদ্যানটি আকর্ষণীয় করে গড়া হচ্ছে।