kalerkantho

সোমবার । ৫ আশ্বিন ১৪২৮। ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১২ সফর ১৪৪৩

এবার ভাঙতে পারে অচলায়তনের বৃত্ত!

চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা ♦ বেঁধে দেওয়া হলো সম্মেলনের ছক

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

২৪ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চট্টগ্রাম নগরের ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়েছিল ১৯৯৭ সালের মার্চে। ত্রিবার্ষিক এই সম্মেলেনের পর ২১ বছর ধরে ওয়ার্ডটিতে ক্ষমতাসীন দলের সম্মেলন না হওয়ায় তৃণমূলে ক্ষোভ ও হতাশা দানা বেঁধেছে। অন্যদিকে ২০০৪ সালে নগরের সাংগঠনিক কোতোয়ালি থানার সম্মেলন হলেও ১৫ বছর ধরে সেখানেও নতুন নেতৃত্বের দেখা নেই।

এ ছাড়া বাগমনিরাম, এনায়েত বাজার, ফিরিঙ্গি বাজার, আলকরণ, আন্দরকিল্লা, পাথরঘাটা, জামালখান ও বকশিরহাট ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলন হচ্ছে না প্রায় ১৫ থেকে ২০ বছর। শুধু এসব ওয়ার্ড ও থানা কমিটিই নয়, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মহানগর চট্টগ্রামে ক্ষমতাসীন দলের বেশির ভাগ সাংগঠনিক ওয়ার্ড ও থানা কমিটিতে নতুন মুখ নেই দীর্ঘদিন। প্রতিটি ওয়ার্ডের অধীনে রয়েছে তিনটি সাংগঠনিক ইউনিট। তৃণমূলের এই কমিটিগুলোর সম্মেলনে দীর্ঘ বিরতি থাকায় শেষ কবে নেতৃত্ব বদল হয়েছে তাও অনেকে ভুলতে বসেছে।

তবে এবার হয়তো অচলায়তনের বৃত্ত ভাঙতে যাচ্ছে। তৃণমূল ও নগর আওয়ামী লীগের নেতারা জানিয়েছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এই বছরের মধ্যে তৃণমূলের (ইউনিট, ওয়ার্ড ও থানা) সাংগঠনিক এসব কমিটির সম্মেলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গত রবি ও সোমবার আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নেতারা চট্টগ্রাম সফরে এসে তৃণমূলের কর্মীদের সঙ্গে সভা করেছেন। নগরের সার্কিট হাউসে দুই দিনের এই মতবিনিময়সভায় তৃণমূলের পাশাপাশি নগর আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন তাঁরা। কেন্দ্রীয় নেতারা নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়নের পাশাপাশি আগামী নভেম্বরের মধ্যে ইউনিট, ওয়ার্ড ও থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলন শেষ করার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তৃণমূলের সম্মেলনের পর আগামী ডিসেম্বরে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন করা হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। এদিকে এই বার্তা পাওয়ার পর থেকে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ইউনিট দিয়ে তৃণমূলের সম্মেলন শুরুর ঘোষণা থাকলেও এখন থেকেই বেড়ে গেছে পদপ্রত্যাশীদের তৎপরতা।

দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ার বিষয়ে তৃণমূল আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, সরকারবিরোধী আন্দোলন, ওয়ান ইলেভেন, যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে আন্দোলন, সিটি নির্বাচনসহ নানা কারণে তৃণমূলের প্রায় কমিটির ১৫ থেকে ২৪ বছর ধরে সম্মেলন করা যায়নি। তবে কেউ কেউ বলেছেন, স্থানীয় রাজনীতিতে দলাদলি বেশি। একাধিকবার সম্মেলনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অপ্রীতিকর ঘটনার শঙ্কায় সম্মেলন করা যায়নি।

একাধিক নেতা জানান, সর্বশেষ গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ইউনিট সম্মেলন শুরু করা হলে কয়েক দিন পর কেন্দ্রের নির্দেশে তা স্থগিত করা হয়। এর আগে বলা হয়েছিল, চসিক নির্বাচন আসছে। তাই তখন সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি হলে তাতে নৈতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এভাবে বিভিন্ন কারণে তৃণমূলের সম্মেলন হয়নি।

১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চসিকের কাউন্সিলর গাজী মো. শফিউল আজিম বলেন, ‘সম্মেলনের মাধ্যমে ১৯৯৭ সালে নতুন কমিটি হওয়ার পর ২০১৪ সালে কিছু সংযোজন-বিয়োজন করা হলেও এ ইউনিটে আর সম্মেলন হয়নি। কেন্দ্রীয় নেতারা এবার নির্দেশনা দিয়েছেন। আশা করি এবার সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি আসবে।’ 

এদিকে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটিও অনেক আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। ২০১৩ সালের ১৩ নভেম্বর কেন্দ্র থেকে এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী সভাপতি ও আ জ ম নাছির উদ্দীনকে সাধারণ সম্পাদক করে ৭১ সদস্যের চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি দেওয়া হয়। সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী ২০১৭ সালের ১৫ ডিসেম্বর মারা যাওয়ার পর প্রথম সহসভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়।