kalerkantho

শুক্রবার । ২ আশ্বিন ১৪২৮। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ৯ সফর ১৪৪৩

ফতুল্লায় পানিবন্দি ৫০ হাজার মানুষ সড়কে চলছে নৌকা

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৪ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফতুল্লায় পানিবন্দি ৫০ হাজার মানুষ সড়কে চলছে নৌকা

টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কয়েকটি গ্রামের অন্তত ৫০ হাজার মানুষ বর্তমানে পানিবন্দি। এ অবস্থায় স্থানীয়দের অনেকে নৌকায় চলাচল করছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে ফতুল্লায় সড়ক ও অনেক বাড়িঘর পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। কয়েকটি গ্রামের অন্তত ৫০ হাজার মানুষ বর্তমানে পানিবন্দি। পানি সরে যাওয়ার ড্রেন বা খাল না থাকায় জলাবদ্ধতায় এসব মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে। এ অবস্থায় স্থানীয়দের অনেকে নৌকায় চলাচল করছে। এ ছাড়া ফতুল্লা এলাকার মিল-কারখানার বর্জ্য বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে বিকট দুর্গন্ধ সৃষ্টি করেছে। মানুষের দুর্ভোগ কমাতে বসানো হয়েছে পাঁচটি পাম্প। তাতেও কাজ হচ্ছে না। প্রশাসন ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এলাকাটি নিচু এবং আশপাশের খাল দখল করে বাড়িঘর নির্মাণ করায় বৃষ্টির পানি সরতে পারছে না। আর এই এলাকার রাস্তাঘাটও নিচু হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায়। সমস্যা সমাধানে জেলা প্রশাসন চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা ইউনিয়নের লালপুর, পৌষারপুকুরপার, টাগারপার, উত্তর মাসদাইর, গাবতলী, কুতুবপুর ইউনিয়নের রামারবাগ, আলীগঞ্জ, নয়ামাটি, চিতাশাল, নুরবাগ ও দক্ষিণ দেলপাড়াসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকার অন্তত ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব গ্রামের ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে বাসিন্দারা। ময়লা ও দূষিত পানিতে নানা রোগ-বালাই ছড়িয়ে পড়ছে।

সরেজমিন লালপুর ও পৌষারপুকুরপার ঘুরে দেখা গেছে, যাতায়াতের সড়ক পানিতে ডুবে আছে। সড়কে চলছে নৌকা। বিভিন্ন মিল-কারখানার বর্জ্য ও ড্রেনের পানি মিশে পানির রং কালচে বর্ণ ধারণ করেছে।

পৌষারপুকুরপার এলাকার ইন্টারনেট ব্যবসায়ী এস এম রাসেল জানান, ২০ দিন ধরে তাঁরা জলাবদ্ধতায় আটকা পড়লেও কেউ তাঁদের খোঁজ নিচ্ছে না। জরুরি প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে যেতে হলে নৌকায় যেতে হচ্ছে।

একই এলাকার পঞ্চায়েত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন (৫৫) বলেন, ‘প্রতিবছরই আমরা এই সময়টায় খুব কষ্টে থাকি। আমরা স্থানীয় জনপ্রতিধিদের কাছে আবেদন জানাচ্ছি যেন আমাদের ইউনিয়নটি ডিএনডি প্রকল্পের আওতায় আনা হয়।’

লালপুর গ্রামের নীপা রানী দাস বলেন, ‘পানিবন্দি হয়ে আমরা মহাদুর্ভোগে পড়ে গেছি। বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে খুবই কষ্টের মধ্যে আছি।’

ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার লুত্ফর রহমান স্বপন বলেন, এলাকাটি নিচু হওয়ায় এবং পানি নিষ্কাশনের কোনো খাল বা ড্রেন না থাকায় প্রতিবছর বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। মানুষের ভোগান্তি কমাতে পানি নিষ্কাশনে পাঁচটি মোটর পাম্প বসানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, এই এলাকার জলাবদ্ধতার কারণ চিহ্নিত করে স্থায়ী সমাধানের উপায় খুঁজে বের করতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। এ ছাড়া আপৎকালীন ভোগান্তি থেকে রক্ষা পেতে পানি নিষ্কাশনের জন্য পাঁচটি পাম্প বসানো হয়েছে।



সাতদিনের সেরা