kalerkantho

সোমবার । ৫ আশ্বিন ১৪২৮। ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১২ সফর ১৪৪৩

চলন্ত ট্রাকে তরুণীকে ধর্ষণ চালক-সহকারী কারাগারে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৪ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সিরাজগঞ্জে যাওয়ার জন্য গাজীপুরের কালিয়াকৈরের চন্দ্রা থেকে ট্রাকে উঠেছিলেন এক মানসিক ভারসাম্যহীন তরুণী। পথে চলন্ত ট্রাকে তাঁকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত চালক ও তাঁর সহকারীকে গতকাল বুধবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মাগুরায় ভাড়াটিয়া গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে এক প্রকৌশলীকে গত সোমবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ময়মনসিংহের গৌরীপুরে মাদরাসাছাত্রকে (১১) বলাৎকারের অভিযোগে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী ট্রাকে নির্যাতিতা তরুণীকে (২৫) মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিরাজগঞ্জের কড্ডার মোড় এলাকা থেকে ট্রাকসহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় চালককে আটক করা হয়। আর পালিয়ে যান সহকারী ওহাব (২৮)। চালক সোহেল রানা (৩০) বগুড়া জেলা সদরের আসকুলা গ্রামের মনসুর আলীর ছেলে। গতকাল ভোরে পুলিশের হাতে আটক ওহাব বগুড়ার শিবগঞ্জ থানার জহুরুল ইসলামের ছেলে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর বাবা মঙ্গলবার রাতে মামলা করেন।

বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানার ওসি মোসাদ্দেক হোসেন গতকাল জানান, মঙ্গলবার চন্দ্রা থেকে একটি ট্রাকে দুই যুবক ওঠেন। এরপর এক ব্যক্তি এক তরুণীকে ট্রাকটিতে উঠিয়ে দিয়ে সিরাজগঞ্জের চান্দাইকোনা নামিয়ে দিতে বলেন। তরুণীর একটু মানসিক সমস্যা আছে বলেও তিনি জানান। ট্রাকের কর্মীরা তরুণীকে সামনের আসনেই বসতে দেন। পথে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গায় চালক ট্রাকটি বিরতি দিয়ে ট্রাকের ওপরে থাকা দুই যাত্রীকে কোনো কাজ থাকলে সেরে নিতে বলেন। এ সময় একজন (যুবক) ট্রাকটির লুকিং গ্লাসে দেখেন চালক ও সহকারী তরুণীর সঙ্গে খারাপ আচরণ করছেন। যুবকটি এই ঘটনা ভিডিও করার চেষ্টা করলে চালক দুই যাত্রীকে রেখেই তাঁদের ব্যাগসহ ট্রাক নিয়ে দ্রুত চলে যান। এ সময় আব্দুল মোনায়েম কন্ট্রাকশনে কর্মরত ইউনুস আলী সুমন ৯৯৯-এ কল দিয়ে বিষয়টি জানালে তারা সিরাজগঞ্জের (ট্রাফিক, হাইওয়েসহ) পুলিশকে ট্রাকটি (বগুড়া ট-১১-২৫১৬) আটকের জন্য নির্দেশ দেয়।

মাগুরায় গত রবিবারের ঘটনায় শহরের ভায়না এলাকায় নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার আসাদুজ্জামান (৫৫) মাগুরা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের সাবেক সহকারী প্রকৌশলী। গত মঙ্গলবার তাঁকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। এই ঘটনায় গৃহবধূ সোমবার মামলা করেন।

গৌরীপুরের ঘটনায় অভিযুক্ত মো. সোহেল রানার (৩৫) বিরুদ্ধে গত মঙ্গলবার থানায় মামলা করেন নির্যাতিত ছাত্রের বাবা। সোহেল উপজেলার সিধলা ইউনিয়নের চারআনী উত্তরপাড়া গ্রামের আবুল কাশেম মিয়ার ছেলে এবং ডেংগা গ্রামের বায়তুল নূর নূরানীয়া হাফিজিয়া মাদরাসার শিক্ষক। পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, সোহেল ছাত্রটিকে বিভিন্ন সময়ে মাদরাসায় বলাৎকার করেন। সর্বশেষ গত ১৩ জুন তিনি ছাত্রটিকে বলাৎকার করেন এবং ঘটনা কাউকে জানালে মাদরাসা থেকে বহিষ্কারের হুমকি দেন।

[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন সিরাজগঞ্জ, মাগুরা ও ময়মনসিংহ (আঞ্চলিক) প্রতিনিধি]