kalerkantho

শুক্রবার । ২ আশ্বিন ১৪২৮। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ৯ সফর ১৪৪৩

পেট্রোবাংলা ভর্তুকি চাইছে চার হাজার কোটি টাকা

সজীব আহমেদ   

২৪ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ সীমিত হয়ে আসছে। অন্যদিকে গ্যাসের চাহিদা ক্রমবর্ধমান। গ্যাস খাতের মহাপরিকল্পনায় প্রতিবছর ক্রমান্বয়ে এলএনজি আমদানি বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। আর চাহিদা মেটাতে প্রতিদিন ৯০ কোটি ঘনফুট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করছে সরকার। গত বছর তা ছিল গড়ে ৬০ কোটি ঘনফুট।

এলএনজি আমদানিতে ২০২১-২২ অর্থবছরে মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি চেয়েছে পেট্রোবাংলা। জ্বালানি বিভাগ সম্প্রতি এই ভর্তুকি নির্ধারণ করে অর্থ বিভাগকে চিঠি দিয়েছে। তাহলে এলএনজি আমদানিতে ২০১৮ সালের পর এটিই হবে সর্বোচ্চ ভর্তুকি। মূলত বিদেশ থেকে বেশি দামে কিনে অভ্যন্তরীণ বাজারে কম দামে বিক্রি করায় পেট্রোবাংলার এই ভর্তুকির প্রয়োজন পড়বে বলে জানা গেছে।

পেট্রোবাংলার ফিন্যানশিয়াল ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এলএনজি আমদানিতে ভর্তুকি হিসেবে আমরা চার হাজার কোটি টাকা চেয়েছিলাম। সরকার এই মুহূর্তে এক হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। এই টাকা গত সপ্তাহে এসেছে। আশা করি বাকিটাও দ্রুতই পাওয়া যাবে। যদি বাকি টাকা আসতে বিলম্ব হয়, তাহলে আবার আমাদের চিঠি দিতে হবে।’

জানা যায়, দেশের গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে বর্তমানে দৈনিক ১৫৯ কোটি ৩০ লাখ ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রায় ৩৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও এলএনজি ও প্রাকৃতিক গ্যাস মিলিয়ে সরবরাহ করা হচ্ছে গড়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট। সে হিসাবে ঘাটতি থেকে যাচ্ছে প্রায় ৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাস।

এই অবস্থায় চাহিদা পূরণে এলএনজি আমদানি বাড়লে ভর্তুকিও বাড়তে থাকবে। শঙ্কার বিষয় হচ্ছে, দেশে আমদানির বিদ্যমান অবকাঠামোতে প্রতিদিনের হিসাবে সর্বোচ্চ ১০০ কোটি ঘনফুট এলএনজি আমদানি করা সম্ভব। বর্তমান সময়েই আমদানি হচ্ছে ৯০ কোটি ঘনফুট। আগামী বছরগুলোতে দেশের গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে উৎপাদন আরো কমলে চাহিদা পূরণে তখন অতিরিক্ত এলএনজি আমদানি করতে হবে। আর তাতে করে অবকাঠামোগত সমস্যায় পড়তে হবে। ওদিকে সরকার এলএনজি আমদানির জন্য যে স্থায়ী টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিল, সেটারও খুব একটা অগ্রগতি নেই।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ভবিষ্যৎ চাহিদা পূরণের বিষয় মাথায় রেখে কী করে এলএনজি আমদানি বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে শিল্প, বিদ্যুৎ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে ভয়াবহ জ্বালানিসংকট দেখা দেবে।

দেশীয় ক্ষেত্রগুলো থেকে গ্যাস উত্তোলনের পাশাপাশি মহেশখালী থেকে দুটি এলএনজি টার্মিনালের সাহায্যে এলএনজিকে গ্যাসে রূপান্তর করে গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। এর একটি যুক্তরাষ্ট্রের কম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি, অন্যটি সামিট গ্রুপের। কাতার ও ওমান থেকে এলএনজি আমদানির পাশাপাশি সিঙ্গাপুরের স্পট মার্কেট থেকেও সরকার এলএনজি কিনছে।

জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানায়, গত সপ্তাহে জ্বালানি বিভাগের এক সভায় ২০২২-২৩ অর্থবছরে গ্যাসের সংকট নিয়ে আলোচনা হয়। গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা না থাকলেও বিদ্যুেকন্দ্রের সঙ্গে গ্যাস সরবরাহের চুক্তি করায় সভায় পেট্রোবাংলার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

সূত্র আরো জানায়, সরকার ঘাটতি মেটাতে নিজস্ব তহবিল থেকে বিনিয়োগ করছে। এর বাইরেও জ্বালানি নিরাপত্তা তহবিল থেকে ভর্তুকির জোগান দেওয়া হচ্ছে।



সাতদিনের সেরা