kalerkantho

সোমবার । ৫ আশ্বিন ১৪২৮। ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১২ সফর ১৪৪৩

ইসি থেকে এনআইডি সরানোর প্রক্রিয়া শুরু

আন্ত মন্ত্রণালয় বৈঠকে ইসি প্রতিনিধি

কাজী হাফিজ   

২৩ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিবন্ধন কার্যক্রম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। কমিশনের প্রতিনিধি এ বিষয়ে আন্ত মন্ত্রণালয় বৈঠকেও যোগ দিয়েছেন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব শফিউল আজিম গতকাল মঙ্গলবার কালের কণ্ঠকে বলেন, কবে নাগাদ এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে, তা নির্ধারিত হয়নি। তবে প্রক্রিয়া চলছে। আইনের পরিবর্তন করতে হবে। প্রশাসন উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটির বৈঠকেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ১৬ জুন আন্ত মন্ত্রণালয় বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে এ কাজের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তবে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এ বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হয়নি। গত রবিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এক চিঠিতে ইসি সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকারকে এ বিষয়ে নির্দেশনা পাঠানো হলেও তিনি তা পাননি বলে জানান। গতকাল তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ওই চিঠি এখনো আমি পাইনি।’

‘জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন কার্যক্রম নির্বাচন কমিশনের পরিবর্তে সুরক্ষা সেবা বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্তকরণ’ শিরোনামে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ১৭ মে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাঠানো চিঠির আলোকে ‘সরকার জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন কার্যক্রম আইনানুগভাবে নির্বাচন কমিশন থেকে সুরক্ষা সেবা বিভাগে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমতাবস্থায়, নির্দেশনাসমূহ যথাযথভাবে প্রতিপালনের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’ এই চিঠির অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিবকেও পাঠানো হয়েছে।

জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব শফিউল আজিম কালের কণ্ঠকে বলেন, চিঠি যথাসময়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পৌঁছে গেছে। তবে উনার (ইসি সচিব) টেবিলে পৌঁছতে দেরিও হতে পারে।

এদিকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের একজন কর্মকর্তা গতকাল এ প্রতিবেদককে বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এনআইডি কার্যক্রম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করার বিরুদ্ধে বক্তব্য দিলেও বিষয়টি নিয়ে আজ পর্যন্ত কমিশনের কোনো সভা হয়নি।

প্রসঙ্গত, ১৭ মে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাঠানো চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ২৪ মে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ নির্বাচন কমিশনকে এনআইডি ছেড়ে দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেয়। তবে ৭ জুন নির্বাচন কমিশন তার অধীনেই এনআইডি কার্যক্রম রাখার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে চিঠি দেয়। এর আগে দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরাও এনআইডি কার্যক্রম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়ার বিষয়ে তাঁদের আপত্তি ও আশঙ্কার কথা জানান। গতকাল বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও বিষয়টি দুরভিসন্ধিমূলক পদক্ষেপ বলে আখ্যায়িত করেন।