kalerkantho

সোমবার । ৫ আশ্বিন ১৪২৮। ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১২ সফর ১৪৪৩

আট সহযোগী দুই দিনের রিমান্ডে

মানবপাচারে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে অমি চক্র

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মানবপাচারের একটি বড় চক্রের হোতা তুহিন সিদ্দিক অমি (৩৩) বিভিন্ন দেশ বিশেষ করে দুবাই, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরে ভালো চাকরি দেওয়ার কথা বলে শত শত মানুষকে পাচার করেছেন। এভাবে তিনি ও তাঁর চক্রের সহযোগীরা হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। এমন অভিযোগে শনিবার রাজধানীর দক্ষিণখান থানায় অমি ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়। মামলাটির তদন্তে নেমে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) অমির ৯ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন জসিম উদ্দিন (৩৬), সালাউদ্দিন (৩৫), মুসা (২৬), রাকিবুল ইসলাম রানা (৩৩), গোলাপ হোসেন বুলবুল (৩৪), জাকির হোসেন (৩৪), নাজমুল (২৫), আলম (৩৫) ও শাহজাহান সরকার (৪৩)। এর আগেই গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন চক্রের হোতা অমি। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের ব্যাপারে বিস্তারিত জানান সিআইডির ঢাকা মেট্রোর অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক।

এদিকে গতকাল অমির ৯ সহযোগীর মধ্যে শাহজাহান বাদে বাকিদের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকা মহানগর হাকিম বেগম ইয়াসমিন আরার আদালত। তদন্ত কর্মকর্তার ১০ দিনের আবেদনের শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক বলেন, ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কয়েক দিন ধরে অভিযান পরিচালনা করে মানবপাচার চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ৩৯৫টি পাসপোর্ট, পাচারকারীচক্রের মূল হোতা তুহিন সিদ্দিক অমির চারটি বিলাসবহুল গাড়ি, ২২টি কম্পিউটারের হার্ড ডিস্ক, সম্পত্তির দলিল, ক্রেডিট কার্ড, অলিখিত স্ট্যাম্প, বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবই, ব্যাংক কার্ড, পেনড্রাইভ ও মোবাইল সেট জব্দ করা হয়।

শেখ ওমর ফারুক আরো বলেন, অমি ও তাঁর সহযোগীরা শত শত লোকজনকে অধিক বেতনে বিদেশে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করেন। এই মানবপাচারকারী অনেক নিরীহ সরল লোকদের দুবাই, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানোর কথা বলে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, চক্রটি লোকজনকে যথাযথ পদ্ধতিতে বিদেশ পাঠায়নি বলে তাঁরা কাজ পাচ্ছেন না। ফলে ভুক্তভোগীরা সেখানে অবরুদ্ধ অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অমি ও তাঁর সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে বিভিন্ন দেশে মানব পাচার করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন করে আসছেন। তাঁরা স্বল্প সময়ের মধ্যে নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ অর্থ-সম্পত্তির মালিক হয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ধর্ষণচেষ্টা ও মাদকের মামলায় গত ১৪ জুন দুপুরে রাজধানীর উত্তরা ১ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর রোডের বাসা থেকে অমিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। গত শনিবার রাজধানীর দক্ষিণখান থানায় অমি ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে মানবপাচার আইনে মামলা করেন এক ভুক্তভোগী।