kalerkantho

সোমবার । ৫ আশ্বিন ১৪২৮। ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১২ সফর ১৪৪৩

ভয় আর টাকায় ধর্ষণের মীমাংসা

গৃহবধূকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে মারধর, আসামি না ধরার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও তার পরিবারকে ভয় দেখিয়ে টাকা দিয়ে ঘটনাটি আপস-মীমাংসা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তসহ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গাজীপুরের শ্রীপুরে বাড়ি থেকে এক গৃহবধূকে তুলে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টা ও অর্ধনগ্ন অবস্থায় ঘরের বারান্দায় খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রেখে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই জেলার কালিয়াকৈর থানার পুলিশ ধর্ষণের আসামিকে না ধরে কালক্ষেপণ করছে বলে বাদীর অভিযোগ।

পাঁচবিবিতে গত রবিবার রাতে গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ধর্ষণে অভিযুক্ত উপজেলার বীরনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরী মেহেদি হাসান (২৫) ও বালীঘাটা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রাশেদুল ইসলাম। জানা যায়, গত ১৬ জুন বুধবার সন্ধ্যায় মেহেদি পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীটিকে প্রশ্নপত্র দেওয়ার কথা বলে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। ঘটনা জানাজানি হলে রাতেই ইউপি সদস্য রাশেদুল ও এলাকার কৃষক লীগ নেতা আলিমুজ্জামান বাবুল ছাত্রীর পরিবারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে দুই লাখ ২০ হাজার টাকার লিখিত চুক্তির বিনিময়ে আপস করান। নগদ ২০ হাজার এবং বাকি টাকা এক সপ্তাহের মধ্যে পরিশোধের আশ্বাস দিয়ে আপসের ঘটনা কাউকে না জানাতে হুমকিও দেন তাঁরা। চার দিন পর রবিবার মেহেদি তাঁকে হয়রানি করা হচ্ছে বলে ইউপি সদস্য ও ছাত্রীটির পরিবারের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন।

শ্রীপুরে ভুক্তভোগীর চিত্কারে তাঁর বাবা টের পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে গৃহবধূকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের গলদাপাড়া গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত ধর্ষণচেষ্টাকারীর নাম মো. খলিলুর রহমান (৫০)। তিনি ওই গ্রামের মৃত রহিম উদ্দিনের ছেলে। মারধরে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা হলেন খলিল, তাঁর স্ত্রী মোছা. মোর্শেদা বেগম (৪০), ছেলে মো. মারুফ (২১) ও শ্যালক শাহিনূর (৩৫)।

নির্যাতিত গৃহবধূ ও তাঁর স্বামী জানান, প্রায় চার বছর আগে বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে তিনটি সাদা স্ট্যাম্পে তাঁর সই নিয়েছিলেন খলিল। পরে তাঁর কাছে দুই লাখ টাকা পাবেন বলে স্ট্যাম্পে উঠিয়ে তা পরিশোধের জন্য ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন। এরই জের ধরে গতকাল সকাল ৭টার দিকে রান্নাঘর থেকে তাঁর স্ত্রীকে তুলে নিয়ে যান খলিলুর।

কালিয়াকৈরে ধর্ষণ মামলার বাদীর দাবি, মামলাটি তুলে নিতে তাঁকে আসামি লোকজন দিয়ে হুমকি দিচ্ছেন। মামলার আসামি হলেন গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর থানার কাশিমপুর নয়াপাড়ার মৃত মাহাবুবুল খালিকের ছেলে তরিকুল ইসলাম সবুজ (৪৫)।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, কাশিমপুরে বাদীর একটি বিউটি পার্লার আছে। এ সূত্রে তাঁর সঙ্গে আসামি সবুজের সুসম্পর্ক সৃষ্টি হয়। এ সুযোগে সবুজ গত ৪ মার্চ দুপুরে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে তাঁকে (বাদী) কালিয়াকৈরের আনন্দ পার্কের রেস্টহাউজে নিয়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে সবুজ তাঁকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ১২ জুন কালিয়াকৈর থানায় মামলা করেন।

[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন গাজীপুর (আঞ্চলিক), কালিয়াকৈর (গাজীপুর) ও পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি]