kalerkantho

শুক্রবার । ৮ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৩ জুলাই ২০২১। ১২ জিলহজ ১৪৪২

বকবাড়িতে নতুন অতিথি

মহিদুল ইসলাম, শরণখোলা (বাগেরহাট)   

২৩ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বকবাড়িতে নতুন অতিথি

এ বছর নতুন অতিথি এসেছে বাগেরহাটের শরণখোলার দক্ষিণ তাফালবাড়ী গ্রামের আব্দুল মান্নান হাওলাদারের সেই বকবাড়িতে। ধবধবে সাদা এসব বকের ছানার পা টুকটুকে লাল। ঠোঁটে হালকা ও গাড় নীলের মিশেল। চোখের মণির চারপাশ গাঢ় হলুদ। এই বকের আরো একটি বিশেষ দিক, ডানা ঝাপটালে ময়ূরের পেখমের মতো পালক ছড়িয়ে পড়ে।

তাফালবাড়ী গ্রামের এই বকবাড়ি নিয়ে গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সময় এই বাড়ির ৪০-৫০টি মেহগনিগাছে অসংখ্য বক দেখা গিয়েছিল। এ বছর মেহগনিগাছ ছাড়াও চাম্বল, শিমুলসহ বিভিন্ন গাছে দুই প্রজাতির বকের দেখা মিলছে।

গত শুক্রবার সরেজমিনে ওই বকবাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, দিনভর সুন্দরবনের চর এবং গ্রামের মাঠেঘাটে ঘুরে খাবার খেয়ে এবং ছানাদের জন্য খাবার সংগ্রহ করে ঝাঁকে ঝাঁকে বক ফিরে আসছে বাসায়। কিছু বাসায় স্ত্রী বকদের ডিমে তা দিতেও দেখা গেছে। অনেক বাসায় ফুটেছে ছানা। উড়তে শেখেনি এখনো। শরীরে সবে পালক গজাতে শুরু করেছে। নতুন বাসাও বাঁধতে দেখা গেছে।

এবার বকবাড়িতে শুধু বক নয়, পানকৌড়ি ও বালিহাঁসেরও দেখা মিলেছে। মান্নান হাওলাদারের বাড়ি ছাড়াও সফেজ খানের বাড়িসহ আশপাশের আরো বেশ কয়েকটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে এসব বক।

মান্নান হাওলাদার ও সফেজ খান জানান, এ বছর নতুন আরেক প্রজাতির বক এসেছে, যা আগে দেখেননি তাঁরা। ওই বক দেখতে খুবই সুন্দর। ডানা মেললে ময়ূরের মতো দেখায়। এ ছাড়া এবার বালিহাঁস ও পানকৌড়ি এসেছে বকের সঙ্গে।

তাঁরা জানান, পাখির কারণে তাঁদের বাড়িঘর, পুকুরের পানি নষ্ট হয়। এর পরও তাঁরা চান পাখিরা তাঁদের বাড়িতে থাকুক। পাখিদের থাকার জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা গেলে আরো নতুন নতুন প্রজাতির পাখি আসত বলে তাঁদের ধারণা।

বক দেখতে আসা কলেজছাত্র শেখ নাজমুল, মেহেদী হাসান, রিয়াজ হোসেন জানান, বকবাড়িতে তাঁরা প্রায়ই আসেন। ঝাঁকে ঝাঁকে সাদা বক যখন উড়ে এসে গাছের ডালে বসে তখন দেখতে খুব ভালো লাগে তাঁদের। বকসহ সব ধরনের পাখি সংরক্ষণ ও নিরাপদ আবাস গড়ে তোলার দাবি এই শিক্ষার্থীদের।



সাতদিনের সেরা