kalerkantho

মঙ্গলবার । ৩ কার্তিক ১৪২৮। ১৯ অক্টোবর ২০২১। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

কদমতলীতে তিনজনকে হত্যা

সামনে আসছে নানা তথ্য

শফিকুলকেও রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পুরান ঢাকার কদমতলীতে তিন খুনের ঘটনায় নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। অনৈতিক কাজ, পরকীয়া ও সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারা—এই তিন কারণও হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকতে পারে বলে আঁচ পেয়েছে পুলিশ।

এজাহারভুক্ত অন্যতম আসামি মেহজাবিন ইসলাম মুনের স্বামী শফিকুল ইসলামের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম শাহিনুর রহমানের আদালত রিমান্ডের এ আদেশ দেন। পুলিশ দুজনকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করার পরিকল্পনা করেছে।

পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার শাহ ইফতেখার আহমেদ বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে এখন পর্যন্ত মেহজাবিন একাই তিনজনকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তবে স্বজনরা বলছেন, অর্থ ও সম্পত্তির জন্য এ হত্যাকাণ্ডে শফিকুলেরও ইন্ধন রয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত হতে রিমান্ডে তাঁদের মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

মেহজাবিনকে এরই মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে পেয়েছে পুলিশ। তিনি বাবা মাসুদ রানা (৫০), মা মৌসুমী আক্তার (৪৫) ও বোন জান্নাতুলকে (২০) হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। গত শনিবার সকালে কদমতলীর মুরাদপুর রজ্জব আলী সরদার রোডের বাসা থেকে তাঁদের লাশ উদ্ধার করা হয়। মেহজাবিন নিজেই পুলিশকে ফোন করে হত্যার কথা জানান।

মামলার বাদী সাখাওয়াত হোসেন দাবি করেন, দুই নম্বর আসামি শফিকুল একজন খুনি ও একাধিক মামলার আসামি। পাঁচ বছর আগে কেরানীগঞ্জে তিনি একজনকে হত্যা করেন। ওই মামলা থেকে রেহাই পেতে শ্বশুরের কাছ থেকে টাকা নিতে প্রায়ই মেহজাবিনকে চাপ দিতেন। এ জন্য তাঁদের প্রায়ই ঝগড়া হতো। এ ছাড়া শফিকুল তাঁর শ্যালিকার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ ঘটনা জানতে পেরে শাশুড়ি তাঁকে বাধা দেন। এ নিয়েও তাঁদের মধ্যে ঝগড়া হতো। চার বছর আগে শাশুড়িকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলেন শফিকুল। দরজা-জানালা বন্ধ করে প্রায়ই শাশুড়িকে শফিকুল মারধর করতেন বলেও দাবি করেন সাখাওয়াত।

মেহজাবিনের খালা ইয়াসমিনও দাবি করেন, বিয়ের ছয় মাসের মাথায় মেহজাবিনের সাবেক কথিত প্রেমিক আমিনকে শফিকুল হত্যা করেন। এ মামলায় ছয় মাস কারাগারে থাকার পর জামিন পান। এরপর শ্যালিকার ওপর নজর পড়ে তাঁর। এক পর্যায়ে শফিকুলের বিরুদ্ধে মামলা করেন শাশুড়ি। আবার তাঁর বিরুদ্ধেও পাল্টামামলা করেন শফিকুল।

গত দুই দিনের তদন্তে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, ভারতের টেলিভিশনের অপরাধবিষয়ক অনুষ্ঠান ‘ক্রাইম প্যাট্রল’ দেখতেন মেহজাবিন। মোবাইলের একটি অনলাইন গেমেও আসক্ত ছিলেন। অর্থ দিয়ে সেটি খেলতেন। সেখানে নায়ক নানা কৌশলে শত্রুদের মেরে ফেলে। এ ছাড়া অচেতন করে হত্যার কৌশল সম্পর্কে জানতে অনলাইনে প্রচুর অনুসন্ধান চালান মেহজাবিন। ছয় মাস আগেই হত্যার প্রস্তুতি নেন।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মেহজাবিন আরো জানান, তিনি মেধাবী ছাত্রী ছিলেন। পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিলেন। অথচ মা তাঁকে দিয়ে যৌনকাজ করিয়েছেন। বোনকে দিয়েও তাই করাচ্ছিলেন। ছোট বোনকে রক্ষা করতে তিনি নিজের বাসায় রেখেছিলেন, কিন্তু সেখানেও তাঁকে একই কাজ করানো হয়। সম্প্রতি সৌদি আরব থেকে তাঁর বাবা দেশে ফিরলে তিনি নালিশ দেন। কিন্তু মায়ের কোনো বিচার করেননি। এতে প্রচণ্ড হতাশাবোধ থেকে তিনি এককভাবে পরিকল্পনা করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।



সাতদিনের সেরা