kalerkantho

রবিবার । ১০ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৫ জুলাই ২০২১। ১৪ জিলহজ ১৪৪২

তৃণমূল সম্মেলনের পর চট্টগ্রাম নগর কমিটির সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২২ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চট্টগ্রাম মহানগরে তৃণমূলের সম্মেলনের নির্দেশনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি। দুই দিনব্যাপী মতবিনিময়সভার গতকাল সোমবার সমাপনী দিনে নগর আওয়ামী লীগের নেতারা তাঁদের অধীন ইউনিট, ওয়ার্ড ও থানা কমিটি সম্মেলনের মাধ্যমে দলকে শক্তিশালী করার তাগিদ দেন। সংগঠনে নবীন-প্রবীণের সমন্বয় ঘটানোর নির্দেশনাও দিয়েছেন। আর তৃণমূলের সম্মেলনের পর দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলাপ করে সময়সূচি নিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন করার কথা জানিয়েছেন হানিফ।

গতকাল চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে মহানগর আওয়ামী লীগের মতবিনিময়সভায় হানিফ বলেন, ‘আগামী সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর দুই মাসের মধ্যে আমাদের প্রতিটি ওয়ার্ডের ইউনিট পর্যায়ে সম্মেলন করে ওয়ার্ড সম্মেলন শেষ করতে চাই। নভেম্বর মাসে থানা পর্যায়ের সম্মেলন শেষ করতে চাই। ওয়ার্ড ও থানা সম্মেলন শেষ করার পর সব প্রস্তুতি শেষ হলে পরে দলের সভানেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে একটি শিডিউল নিয়ে আমরা চট্টগ্রাম মহানগরে সম্মেলন করব।’

তিনি আরো বলেন, ‘দলে যোগদানের বিষয়ে অনেকের কথা এসেছে। এ দেশে আওয়ামী লীগের লাখ লাখ নেতাকর্মী আছে। সে হিসাবে দলে যোগদান করানোর খুব বেশি প্রয়োজন নেই। তার পরও যদি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতি আস্থাশীল হয়ে, শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারায় শামিল হতে কোনো ব্যক্তি বা নেতা যদি আসতে চান; সে ক্ষেত্রে যাঁর বিরুদ্ধে কোনো অনৈতিকতার অভিযোগ নেই, যাঁর সঙ্গে যুদ্ধাপরাধীদের কোনো অভিযোগ বা সম্পৃক্ততা নেই; শিক্ষিত, সজ্জন, সমাজে এ রকম গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের কেন্দ্রের অনুমোদন নিয়ে যোগদান করানো যেতে পারে। একজনের ইচ্ছা হলো কাউকে এনে যোগদান করালাম, সেটার কোনো সুযোগ নেই।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সম্মেলন করার সময় আরেকটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে; আমাদের যাঁরা বয়োজ্যেষ্ঠ হয়ে গেছেন, শারীরিক সক্ষমতা কম, চলাচলের অসুবিধা হয়—এ রকম শ্রদ্ধেয় নেতানেত্রীকে আমরা আরেকটু ওপরের দিকে নিয়ে যেতে পারি। আমাদের যাঁরা ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ করে, যাঁদের বয়স এরই মধ্যে ৪০-৫০ পার হয়ে গেছে, তাঁদের দলের মধ্যে নতুন নেতৃত্বে আনতে পারি। দরকার নবীন ও প্রবীণের সমন্বয়ে দলকে আরো শক্তিশালী করা।’

গত চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে দল মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে যাঁরা বিদ্রোহী হিসেবে ভোটে লড়েছেন, তাঁদের কমিটিতে ঠাঁই না দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও জানান তিনি। হানিফ বলেন, টানা দুই দিন ধরে মহানগরের সঙ্গে বৈঠক করেছি। বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের কথা শুনেছি। লক্ষ্য সম্মেলনগুলো করা এবং তৃণমূল পর্যায় থেকে সংগঠনকে সাজানো। এ জন্য কয়েকটি বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, জুনের শেষ পর্যায়ে এবং জুলাইয়ে করোনার প্রকোপ মাথাই রেখেই স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচি করবেন। আগস্ট শোকের মাস। মাসব্যাপী শোক পালন করা হবে। গতকাল সকাল থেকে দিনব্যাপী তিন দফায় মতবিনিময়সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এমপি, অর্থ সম্পাদক ওয়াসিকা আয়শা খান এমপি, মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, যুগ্ম সম্পাদক ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী প্রমুখ।



সাতদিনের সেরা