kalerkantho

সোমবার । ২ কার্তিক ১৪২৮। ১৮ অক্টোবর ২০২১। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

পদ্মার রেল সেতুতে স্ল্যাব বসানো শেষ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মূল পদ্মা সেতুর রেলপথের ৬.১৫ কিলোমিটার অংশের সব স্ল্যাব বসানোর কাজ গতকাল রবিবার শেষ হয়েছে। সেতুর রেল অংশ দুই হাজার ৯৫৯টি কংক্রিট স্ল্যাবের মাধ্যমে জোড়া দেওয়া হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যেই মূল সেতুতে রেললাইন বসানোর কাজ শুরু হবে। গত ৩ মে মূল পদ্মা সেতুর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রেলের ২১ কিলোমিটারের এলিভেটেড অংশ। এপ্রিল পর্যন্ত সেতুর রেল সংযোগ প্রকল্পের অগ্রগতি হয়েছে ৪১.৫০ শতাংশ, আর আর্থিক অগ্রগতি ৪২.৯০ শতাংশ।

পদ্মা সেতু বহুমুখী প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আবদুল কাদের কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আজ (গতকাল) পদ্মা মূল সেতুতে স্ল্যাব বসানোর কাজ পুরোপুরি শেষ হলো। আর কিছুটা কাজ আগানোর পর সেতুর এই অংশটি রেলের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের পরিচালক গোলাম ফখরুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা এখনো মূল সেতু থেকে রেলপথের অংশ বুঝে পাইনি। তাদের কাজ প্রায় শেষের পথে। মাওয়া প্রান্ত থেকে এরই মধ্যে রেলের লাইন বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই আমরা মূল সেতুর রেল অংশ বুঝে পাব। ডিসেম্বরের দিকে মূল সেতুর রেলপথে ট্র্যাক বসানোর কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

এদিকে ১৬৯ কিলোমিটার মূল রেললাইনের সঙ্গে লুপ ও সাইডিং রয়েছে ৪৩.২২ কিলোমিটার। আর ডাবল লাইন তিন কিলোমিটারসহ মোট ২১৫.২২ কিলোমিটার রেল ট্র্যাক নির্মিত হচ্ছে। রেল সেতুর মধ্যে থাকছে দুই প্রান্তে ২৩.৩৭৭ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট, ১.৯৮ কিলোমিটার র‌্যাম্পস। পুরো রেলপথে ৬৬টি বড় সেতু থাকছে। ছোট সেতু, কালভার্ট ও আন্ডারপাস থাকছে ২৪৪টি। এ ছাড়া একটি হাইওয়ে ওভারপাস, ২৯টি লেভেলক্রসিং থাকছে। চলছে ১৪টি নতুন স্টেশন নির্মাণ এবং ছয়টি বিদ্যমান স্টেশনের উন্নয়ন ও অবকাঠামো নির্মাণকাজ। সঙ্গে ২০টি স্টেশনে টেলিযোগাযোগসহ সিস্টেম সিগন্যালিং ব্যবস্থাপনা। রেলপথের জন্য দুই হাজার ৪২৬ একর ভূমি অধিগ্রহণের কাজ চলমান।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, মাওয়া-ভাঙ্গা অংশের কাজের অগ্রগতি ৬৬ শতাংশ, যার মধ্যে প্রিকাস্ট বক্সগার্ডার সেগমেন্ট বসানোর কাজ শেষ। আর বড় সেতু, ভায়াডাক্ট ৩-এর পিয়ার ও বাঁধ (এমব্যাংকমেন্ট), কালভার্ট ও আন্ডারপাসের কাজ শেষের পথে। তবে বাঁধের কাজ অনেকটা বাকি। ঢাকা-মাওয়া অংশের কাজের অগ্রগতি ৩৬ শতাংশ, আর ভাঙ্গা থেকে যশোর পর্যন্ত অংশের নির্মাণকাজের অগ্রগতি ২৫ শতাংশ।

৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে ১৮ হাজার ২১০ কোটি ১১ লাখ টাকা দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। বাকি ২১ হাজার ৩৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ঋণ দিয়েছে চায়না এক্সিম ব্যাংক। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয় ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। ২০১৬ সালের ২৭ এপ্রিল প্রকল্পটি সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের তালিকাভুক্ত করা হয়।



সাতদিনের সেরা