kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৮। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ২০ সফর ১৪৪৩

কদমতলীতে তিনজনকে হত্যা

খুনের কারণ জেনে বিস্মিত পুলিশও

চার দিনের রিমান্ডে মেহজাবিন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্বামীকেও গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পুরান ঢাকার কদমতলীতে একই পরিবারের মা, বাবা ও বোনকে হত্যার নেপথ্যের আরো অনেক কারণ জানতে পেরেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার মেহজাবিন ইসলাম মুনের বরাত দিয়ে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২৩ বছর ধরে প্রবাসে ছিলেন মেহজাবিনের বাবা মাসুদ রানা। তিন মাস আগে ওমান থেকে দেশে ফেরেন তিনি। বাবা না থাকায় তাঁর মা মৌসুমি ইসলাম তাঁকে এবং তাঁর ছোট বোনকে দিয়ে অনৈতিক কাজ করাতেন। এসব নিয়ে প্রতিবাদও করেছিলেন তিনি। কিন্তু কোনো ফল হয়নি। তাঁর বিয়ে হওয়ার পর ছোট বোনকে দিয়েও অনৈতিক কাজ করাতেন তাঁর মা। এর মধ্যে তাঁর স্বামীর সঙ্গেও ছোট বোনের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ ছাড়া মেহজাবিনের বাবা মাসুদ রানা ওমানে আরেকটি বিয়ে করেছিলেন। সব মিলিয়ে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ থেকে পরিবারের সবাইকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে মেহজাবিন পুলিশকে জানিয়েছেন।

তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে কদমতলী থানার ওসি মীর জামালউদ্দিন বলেন, এই হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার মেহজাবিন ও তাঁর স্বামী শফিকুল ইসলামকে আসামি করে মামলা হয়েছে। মেহজাবিনের চাচা সাখাওয়াত হোসেন মামলাটি করেন। ওই মামলায় মেহজাবিন ও তাঁর স্বামীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাঁর স্বামী শফিকুল পুলিশ হেফাজতে মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সুস্থ হলে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।  মামলার বাদীর অভিযোগ, স্বামী শফিকুলের প্ররোচনায় মেহজাবিন এই ঘটনা ঘটিয়েছেন।

এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শফিকুল বলেন,  স্ত্রীকে নিয়ে কদমতলী এলাকায় বাস করেন তিনি।  পেশায় তিনি মাংস বিক্রেতা। দুই দিন আগে মেয়েকে নিয়ে তাঁর স্ত্রী শ্বশুরবাড়িতে আসেন। শুক্রবার রাতে মেহজাবিন তাঁকে ফোন করে শ্বশুরবাড়িতে ডেকে আনেন। রাতে খাবারের পর তাঁকে ও মেয়েকে চা খেতে দিয়েছিলেন মেহজাবিন। এরপর তাঁর আর কিছু মনে নেই। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মেহজাবিনের তথ্যের বরাত দিয়ে ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার শাহ ইফতেখার আহমেদ বলেন, ‘মেহজাবিনকে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কারণ জানতে পেরে বিস্মিত হয়েছি। বিভিন্ন কারণে মা-বাবার ওপর প্রচণ্ড ক্ষোভ ছিল মেয়েটির। স্বামীর সঙ্গেও সম্পর্ক ভালো ছিল না। বোনের সঙ্গে স্বামীর সম্পর্কের বিষয়টিও তিনি মেনে নিতে পারেননি। এভাবে পরিবারের সবার প্রতি প্রচণ্ড ক্ষোভ থেকে সবাইকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে শ্বাসরোধে হত্যা করেন ২৪ বছর বয়সী মেহজাবিন।’