kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৮। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ২০ সফর ১৪৪৩

ভুয়া ঋণপত্রে হাজার কোটি টাকা পাচার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া ঋণপত্র তৈরি করে জালিয়াতির মাধ্যমে পণ্য আমদানির নামে এক হাজার কোটি টাকার বেশি পাচারের অভিযোগে আব্দুল মোতালেব নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল রবিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

হেনান আনহুই অ্যাগ্রো এলসি ও মেসার্স অ্যাগ্রো বিডি অ্যান্ড জেপি নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের মালিক আব্দুল মোতালেবের নামে বিভিন্ন সময়ে ১৬টি অর্থপাচারের মামলা করেছেন শুল্ক গোয়েন্দারা। আসামি দীর্ঘদিন ধরেই পলাতক ছিলেন।

অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রউফ কালের কণ্ঠকে বলেন, অর্থপাচারকারী যতই শক্তিশালী হোক তাকে আটকের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, একটি চক্র মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে একটি পণ্যের পরিবর্তে অন্য পণ্য আমদানি করে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে। ব্যাংক কর্মকর্তা, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও জেটি সরকারদের সহায়তায় এ জালিয়াতি হয়। বিষয়টি অনুসন্ধান করে চক্রের একটি অংশের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর ওই দুই প্রতিষ্ঠানের মালিককে আটক করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ‘হেনান আনহুই অ্যাগ্রো এলসি’ ও ‘মেসার্স অ্যাগ্রো বিডি অ্যান্ড জেপি’র নামে ১২টি কনটেইনারে পণ্য আমদানিতে মূলধনী যন্ত্রপাতি ঘোষণা দিলেও তাতে পাওয়া যায় সিগারেট, এলইডি টেলিভিশন, ফটোকপিয়ার মেশিন ও মদ। এ ঘটনায় ১৪০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে ২০১৭ সালে মামলা করেছিল শুল্ক গোয়েন্দা। পরে এ বিষয়ে আরো অনুসন্ধানে গিয়ে দেখা যায়, এর আগেও প্রতিষ্ঠান দুটি আরো ১৫টি ঋণপত্রের (এলসি) বিপরীতে ৭৮ কনটেইনার পণ্য খালাস নেয়। আগের আটক করা পণ্যের মতো এ ক্ষেত্রেও একই রপ্তানিকারক, একই দেশ থেকে একই ব্যাংকের মাধ্যমে আমদানি এবং একই সিঅ্যান্ডএফের মাধ্যমে খালাস করা হয়েছে। তাদের অনুসন্ধানে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে, এই ১৫ ঋণপত্রের মাধ্যমে সিগারেট, এলইডি টেলিভিশন, ফটোকপিয়ার মেশিন ও মদ আনা হয়। এটি মুদ্রাপাচার, চোরাচালান ও শুল্কসংক্রান্ত অপরাধ।

শুল্ক গোয়েন্দার অনুসন্ধানে জানা যায়, অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠান দুটির মালিক আব্দুল মোতালেব ব্যাংকে হিসাব খোলার সময় নিজের এনআইডির পরিবর্তে খোরশেদ আলম নামের একজনের এনআইডি ব্যবহার করেন। ছবি ব্যবহার করেন নিজের। ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহায়তায় ব্যাংক হিসাব খোলেন। পরে জালিয়াতির মাধ্যমে মূসক নিবন্ধনও নেন। আমদানিকারক হিসেবে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা পণ্য সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের সহায়তায় খালাস করে নেন। অস্তিত্বহীন দুই প্রতিষ্ঠানের নামে ঋলপত্র খোলা থেকে শুরু করে পণ্য খালাস পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহায়তার প্রমাণও মিলেছে। এসব ঘটনায় আরো ৮৭০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে পল্টন থানায় ১৪টি মামলা করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।