kalerkantho

বুধবার । ৪ কার্তিক ১৪২৮। ২০ অক্টোবর ২০২১। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

খড়ের পালার নিচে শিশুর লাশ, ধর্ষণের পর হত্যা!

পৃথক স্থানে তিনজনকে নির্যাতনের অভিযোগ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে খড়ের পালার নিচ থেকে এক শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল রবিবার সকালে উপজেলার পাকড়ি ইউনিয়নের ললিতনগর গ্রামে শিশুটির বাড়ির পাশ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে গিয়ে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ। একই জেলার বোয়ালমারী উপজেলায় ছেলের বউকে ধর্ষণের অভিযোগে শ্বশুর গ্রেপ্তার হয়েছেন। কুড়িগ্রামের উলিপুরে ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী।

গোদাগাড়ীর শিশুটি (১১) চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ত। গোদাগাড়ীর কাঁকনহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মাহমুদুল হাসান জানান, শনিবার রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত শিশুটি বাড়িতে টিভি দেখে। এরপর একা ঘুমাতে যায়। পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে তার মা-বাবা মেয়েকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না। এক পর্যায়ে তাঁরা বাড়ির পাশের একটি খড়ের পালার নিচে তার মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠায়। পুলিশ জানায়, শিশুটির রক্তক্ষরণ হয়েছে। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, রাতের কোনো একসময়ে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ খড়ের পালার নিচে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।

গোদাগাড়ী থানার পরিদর্শক মাহমুদুল হাসান জানান, শিশুটির পরিবার মামলা করেছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

আলফাডাঙ্গা পৌর সদরের নওয়াপাড়া গ্রামে গতকাল সকালে ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে আকিদুল শেখ (২০) নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশে দিয়েছে এলাকাবাসী। আকিদুল নওয়াপাড়ার সেলিম শেখের ছেলে। তিনি পেশায় একজন গাছ ব্যবসায়ী। আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সরোয়ার হোসেন খান বলেন, শিশুটিকে (৮) স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ অবস্থায় আনা হয়। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আলফাডাঙ্গা থানার ওসি মো. ওয়াহিদুজ্জামান বিকেলে বলেন, এ ঘটনায় এক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। শিশুটির পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বোয়ালমারীর আসামিকে (৪৬) গতকাল ফরিদপুর আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। গত ১২ জুন রাতে ধর্ষণের অভিযোগে শনিবার রাতে ওই গৃহবধূ বোয়ালমারী থানায় ধর্ষণের মামলা করেন। তবে গৃহবধূর স্বামী ধর্ষণের অভিযোগটি মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘সে (স্ত্রী) বিদেশে যেতে চায়। আমার পরিবার তাতে রাজি না হওয়ায় রাগারাগি হয়। বিদেশে না পাঠালে এক পর্যায়ে সে তার বাবার বাড়ি থেকে আমার বাড়িতে আসতে অস্বীকৃতি জানায়। তারপর বাবার নামে মিথ্যা মামলা করেছে।’

গতকাল গৃহবধূকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

উলিপুরে ছাত্রীটি (১৪) চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এ ঘটনায় তার বাবা শনিবার উলিপুর থানায় মামলা করলে পুলিশ আসামি রুবেল ইসলাম বকুলকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে। বকুল উপজেলার ধরণীবাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ মধুপুর মধ্যপাড়া (ভাটিয়াপাড়া) এলাকার মোজ্জাম্মেল হকের ছেলে। অভিযোগ মতে, ছাত্রীটিকে প্রথম নির্যাতনের ঘটনা ঘটে গত ৭ ফেব্রুয়ারি। পরে তাকে একাধিকবার নির্যাতন করা হয়। অভিযুক্ত বকুলকে জেলহাজতে ও কিশোরীটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার কালের কণ্ঠ’র নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিরা]



সাতদিনের সেরা