kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৯ জুলাই ২০২১। ১৮ জিলহজ ১৪৪২

ওদের চোখে স্বপ্নপূরণের কান্না

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ওদের চোখে স্বপ্নপূরণের কান্না

‘বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না—জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে গতকাল সারা দেশে আরো ৫৩ হাজার ৩৪০টি পরিবার স্থায়ী ঠিকানা পেয়েছে। উপকারভোগী পরিবারগুলোর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ঘরের চাবি এবং জমির দলিল।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর দ্বিতীয় পর্যায়ে ঘর ও জমির দলিল হস্তান্তর কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এরপর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হাতে এই চাবি ও দলিল তুলে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এ সময় উপকারভোগী এসব গৃহ ও ভূমিহীন মানুষের চোখে ছিল স্বপ্নপূরণের কান্না। একই সঙ্গে তারা সরকারের প্রতি প্রকাশ করেছে কৃতজ্ঞতা।

শেরপুর : ঝিনাইগাতী উপজেলার হলদিগ্রাম গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প এলাকার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। সে সময় প্রধানমন্ত্রী উপকারভোগীদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে সুযোগ পেয়ে তাসলিমা খাতুন এসব কথা বলেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘এ রকম ঘরে থাকতে পারব কখনোই ভাবতে পারিনি। মাথার ওপর ছাদ ছিল না। এখন নিজের জমি, নিজের ঘরে শান্তিতে থাকতে পারব। দোয়া করি, আল্লাহ যেন আপনার ভালো করে।’ তিনি প্রধানমন্ত্রীকে হলদিগ্রাম গুচ্ছগ্রামে বেড়াতে আসার আমন্ত্রণ জানান।

ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের হলদিগ্রাম আশ্রয়কেন্দ্রে ২৫টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে গতকাল জমিসহ ঘর দেওয়া হয়েছে।

চাঁদপুর : মেঘনায় জায়গা-জমি ও বসতঘর হারিয়ে নিঃস্ব ছিলেন অনেক দিন। চাঁদপুরের নদী সিকস্তি এই মানুষগুলো একপ্রকার যাযাবরের জীবন যাপন করছিলেন। শেষ পর্যন্ত স্থায়ী আশ্রয় মিলেছে। নতুন বসতঘরে ঠাঁই হওয়ার আনন্দে ওদের মুখে হাসির ঝিলিক। কারো চোখ দিয়ে আবার গড়িয়েছে নোনা জল।

চাঁদপুরে গতকাল দ্বিতীয় পর্যায়ে ১০৯টি গৃহহীন পরিবার নতুন ঠিকানা পেয়েছে। সকাল সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ এসব পরিবারের হাতে নতুন ঘরের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তুলে দেন। এ নিয়ে চাঁদপুরে প্রায় সাড়ে চার শ গৃহহীন পরিবার নতুন ঠিকানা পেল।

রংপুর : বদরগঞ্জে নতুন ঘর পাওয়া অজিত রায় বলেন, ‘বাহে জেবনে মুই চিন্তা করো নাই মরণের আগে নিজের একটা বাড়ি হইবে। শেখের বেটি হামার কষ্টের কথা চিন্তা করি জমিসহ বাড়ির দলিল দেছে। এখন মনে হওচে মরি গেইলেও শান্তি।’

গতকাল এই উপজেলায় নতুন ঘর পাওয়া ১০ উপকারভোগীর মধ্যে তিনি একজন। তাঁর মতো অন্যরাও একই ধরনের অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন। দক্ষিণ মুকসিদপুরের ফজিলা বেগম বলেন, বাপ-দাদা হামাক (আমাদের) জমি দিয়া যায় নাই। নতুন বাড়ি তো দূরের কথা, প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নতুন বাড়ির চাবি ও দলিল পায়া হামার এখন আনন্দ রাখার জাগা নাই।’

লালমনিরহাট : খুশিতে আত্মহারা এত দিন অন্যের বারান্দায় পড়ে থাকা হারুন অর রশিদ। তাঁর স্বপ্ন ছিল এক টুকরো জমি কিনবেন, তৈরি করবেন নিজের বাড়ি। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও তা বাস্তবে রূপ দিতে পারেননি এই ঝালমুড়ি বিক্রেতা। এবার স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। বিনা মূল্যে জমির সঙ্গে পেয়েছেন পাকা বাড়িও। কারো বাড়ির বারান্দা নয়, এখন তাঁর ঠিকানা মহিষামুরি আশ্রয়ণ প্রকল্পে।

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নে গতকাল হারুন অর রশিদের সঙ্গে নতুন বাড়ি পেয়েছেন জেলার পাঁচ উপজেলার ৯৫০ জন।

কুড়িগ্রাম : গতকাল জেলায় এক হাজার ৭০ জন গৃহহীন ঘর পেয়েছে। তাদের স্থায়ী ঠিকানা হয়েছে সদর উপজেলার পাঁচগাছি ইউনিয়নের উত্তর নওয়াবশ গ্রামে ৮৯টি ঘর নিয়ে নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পে। এ সময় উপকারভোগী রিকশাচালক আক্কুল মিয়া বলেন, ‘আমি রেলের জায়গায় থাকি। এক দিন রিকশা চালায়ে বাড়িত আসি শুনি ঘরের জন্য আমার নাম নিয়া গেইছে। কথাটা শুনি বুকটা আমার ঠাণ্ডা হয়া গেল। ভবিষ্যৎ একটা ঠিকানা পাইলাম।’

কালের কণ্ঠ’র সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রতিনিধিরা পাঠিয়েছেন এসব তথ্য। খাগড়াছড়ি, দিনাজপুর, হবিগঞ্জ, জয়পুরহাট, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, ঝালকাঠি, যশোর, পিরোজপুর ও নওগাঁ থেকেও নতুন ঘরের চাবি ও জমির দলিল হস্তান্তরের খবর পাঠিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধিরা।